
মন্দিরে চুরি করতে এসেছিলো এক চোর। কিন্তু গাঁজার ঘোরে ঘুমিয়ে রাত কাবার। আর সকালেই তাকে ধরে ফেলে গ্রামবাসী। এর আগে মন্দিরের প্রসাদও খায় চোর বাবাজী!
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামের ২ নম্বর বাবু খাঁবাড়ের শীতলা চণ্ডীর মন্দিরে বৃহস্পতিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে চুরি করতে গভীর রাতে ঢুকে চোর। মন্দিরের বিগ্রহের গা থেকে গয়না চুরি শেষ করে মন্দিরের প্রসাদও খায় সে। এরপর গাঁজা খেয়ে সেই ঘোরেই মন্দিরের ভেতর ঘুমিয়ে পড়ে সে। ভোরে গ্রামবাসী মন্দিরে তাকে চুরি করা মালামালের পোঁটলাসহ হাতেনাতে আটকে ফেলে।
স্থানীয় লোকজন জানান, রাতে মন্দিরে প্রসাদ খাওয়ার পর গাঁজাও সেবন করে চোর। তারপর চুরি করা মালামালের পোটলা নিয়ে মন্দিরের দালানেই বেহুঁশ হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিল। ভোরে গ্রামবাসীরা কাজে বেরোনোর সময় দেখতে পায়, মন্দিরের খোলা দালানে একজন শুয়ে আছে।
তাদের চিৎকার-চেঁচামেচিতে ঘুম ভাঙে চোরের। বেগতিক বুঝে কোমর থেকে ধারালো অস্ত্র বের করে লোকজনকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করে। প্রাণ বাঁচাতে পালাতে গিয়ে স্থানীয়দের ধাওয়ায় ধরা পড়ে যায়। এরপর মন্দিরের সামনেই হাত-পা বেঁধে চোরকে গণধোলাই দেয় এলাকাবাসী।
জানা গেছে, একই রাতে আরো কয়েকটি মন্দির চুরি করে চণ্ডী মন্দিরে চুরি করতে এসেছিলো চোর বাবাজী! সেখানেই ধরা খেয়ে গণপিটুনির শিকার হয় সে।
আনন্দবাজার জানায়, সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে ওই যুবককে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যায় নন্দীগ্রাম থানা পুলিশ। পরে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত ব্যক্তির নাম প্রদীপ জানা। সে পাশের গ্রাম কালুক বৃন্দাবনপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার কাছ থেকে মন্দিরের গয়না এবং কাঁসা-পিতলের বাসনও উদ্ধার হয়েছে। তবে সোনার গয়নাগুলি এখনো পাওয়া যায়নি বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।
তবে গণপিটুনির বিষয়টি অস্বীকার করেছেন এসডিপিও তন্ময় মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘বৃহস্পতিবার রাতে নন্দীগ্রামে একটি চুরির ঘটনা ঘটেছে। অভিযুক্তকে পুলিশ আটক করেছে। তবে গণপিটুনির কোনও ঘটনা ঘটেনি।’




