উপমহাদেশশিরোনাম

কাল আসামের চূড়ান্ত নাগরিক তালিকা প্রকাশ : রাজ্যজুড়ে কড়া নিরাপত্তা

শনিবার প্রকাশিত হচ্ছে ভারতের আসামের চূড়ান্ত নাগরিক তালিকা—এনআরসি। একে কেন্দ্র করে নেওয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এনআরসি থেকে বাদ পড়ার আশঙ্কায় রয়েছেন সেখানকার সংখ্যালঘু মুসলিম ও বাংলাভাষী মানুষ। পাওয়া যাচ্ছে আত্মহত্যার খবরও। এনআরসির কারণে হয়রানি ও বিপত্তিতে পড়ছেন আসামের মানুষ।
অবৈধ অভিবাসীদের ভারত থেকে বের করতে আসাম রাজ্যের নাগরিক তালিকা প্রকাশের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার। জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহারের পর একেই মোদি সরকারের সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মোদি সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আসামের অবৈধ অভিবাসীদের ‘অনুপ্রবেশকারী’ বলে উল্লেখ করেন। আসামের পর ভারতজুড়ে একই প্রক্রিয়ায় নাগরিকত্ব কার্ড ইস্যুর নিয়ম চালুর অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন অমিত শাহ। এ বছরের জুনে প্রকাশ করা হয় এনআরসির খসড়া তালিকা। বাদ পড়েন প্রায় ৪০ লাখ মুসলমান।
পাঁচ সন্তানসহ নিজের নাম খসড়া তালিকায় না আসায় আত্মহত্যা করেছেন আসামের বান্তিপুরের বাসিন্দা রহিম আলি। স্বামীর মৃত্যুর পর সন্তানদের নিয়ে কষ্টে জীবনযাপন করা রহিম আলী স্ত্রী হালিমুন্নেসা জানান, এনআরসির চূড়ান্ত তালিকায় নাম না এলে ‘বন্দি শিবিরে’ থাকতে হবে তাঁদের।
দুই ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তার কথা জানালেন আসামের হিন্দু বাসিন্দা মাঞ্জুরি ভৌমিক। তিনি বলেন, ‘যদি আমাকে বিদেশি ঘোষণা করা হয়, তাহলে আমার দুই ছেলের কী হবে?’
এনআরসি সমর্থকরা বলছেন, এটা হিন্দু-মুসলমানের বিষয় নয় কিংবা অবৈধ বাংলাদেশিদের তাড়িয়ে দিতেও নয়। বড় বিষয় হচ্ছে, অবৈধ অভিবাসীদের কারণে তাঁরা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে বঞ্চিত হচ্ছেন।
২০১০ সালে যখন এনআরসির প্রাথমিক কাজ শুরু হয়, তখন থেকেই আন্দোলন শুরু হয় আসামে। বিক্ষোভের সময় পুলিশের গুলিতে নিহত হন কয়েকজন। তালিকায় যাঁদের নাম আসবে না, তাঁরা ১২০ দিনের মধ্যে উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারবেন। আপিলেও এনআরসিতে নাম না এলে বাতিল হবে নাগরিকত্ব। এরই মধ্যে এক হাজারের বেশি লোককে আসামের কারাগারে বন্দি রাখা হয়েছে।
যাঁরা নাগরিকত্ব হারাবেন, তাঁদের বন্দিশিবিরে নেওয়া হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। আইনি সহায়তা নেওয়ার সুযোগ থাকলেও নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন আসামের সংখ্যালঘু ও মুসলিম জনগোষ্ঠী।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button