আর জেলা বাকি দুইটা, দিন বাকি ছয়টা। এই ছয় দিনে তিনি ভ্রমণ করবেন খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রাম। ইতোমধ্যে তার ৬২টি জেলা ভ্রমণ সমাপ্ত হয়েছে। এই দুই জেলা ভ্রমণের সঙ্গেই শেষ হবে এলিজার ৬৪ জেলা ভ্রমণ। এলিজা বিনতে এলাহি। হেরিটেজ ট্রাভেলার বা ‘বিশ্ব পর্যটক’ হিসেবে পরিচিত তিনি। পেশায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। নেশায় প্রত্নতাত্ত্বিক পর্যটক।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ভ্রমণের পাশাপাশি ঘুরে বেড়াচ্ছেন সারা বাংলাদেশ। ২৬ আগস্ট তিনি বের হচ্ছেন বাকি জেলা দুটি ভ্রমণে। শেষ হবে ৩১ আগস্ট।
বাংলাদেশ ভ্রমণে এলিজার উদ্দেশ্য, হেরিটেজ ট্যুরিজম বা প্রত্নতাত্ত্বিক পর্যটনের গুরুত্বকে তুলে ধরা। সেই লক্ষ্যে ভ্রমণপিপাসু এলিজা জেলাগুলো ভ্রমণের সময় দেশের প্রাচীনতম ইতিহাস ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর তথ্য, ভিডিওচিত্র ও স্থিরচিত্র সংগ্রহ করছেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি প্রতি জেলায় খুঁজে পেয়েছেন বিশ্বমানের অনেক স্থাপনা। যার মধ্যে প্রতিটি বিভাগ এবং সম্ভব হলে জেলাভিত্তিক বই ও স্থিরচিত্র দিয়ে তথ্যবহুল ছবির অ্যালবাম প্রকাশ করতে চান। টেলিভিশন ও ইন্টারনেটে ভিডিও ডকুমেন্টারি ও ট্রাভেল শো করার ইচ্ছে আছে বলেও জানালেন তিনি।
খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রাম ভ্রমণের মধ্য দিয়ে এবারের মতো ৬৪ জেলা ভ্রমণ সমাপ্ত হলেও পরবর্তীতে বিশদ গবেষণার জন্য আবারো বাংলাদেশ ভ্রমণে বের হবেন বলে জানিয়েছেন এই পর্যটক। ইংরেজি সাহিত্যের শিক্ষার্থী হলেও ইতিহাস, প্রত্নতত্ত্বের প্রতি অনুরাগ তার ছোটবেলা থেকেই। তিনি বলেন, ‘আমার পড়াশোনার বিষয় কখনও ইতিহাস বা প্রত্নতত্ত্ব ছিল না। নিজ ইচ্ছার তাগিদ বা শখের বিষয়কে আমি পড়াশোনার সঙ্গে সম্পৃক্ত করেছি।’
জানা যায়, ২০১৬ সালে ঢাকার বলধা গার্ডেন দিয়ে এলিজার বাংলাদেশ ভ্রমণ শুরু। তিনি এই ভ্রমণ প্রকল্পের নাম দিয়েছেন ‘কোয়েস্ট : এ হেরিটেজ জার্নি অব বাংলাদেশ’। নিজের উপার্জিত অর্থ দিয়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে পরিচালিত হচ্ছে প্রকল্পটি।
এলিজা বিনতে এলাহী ১৯৯৯ সাল থেকে এশিয়া ও ইউরোপের দেশগুলো ভ্রমণ শুরু করেন। গত ২০ বছরে এলিজা ভ্রমণ করেন এশিয়া ও ইউরোপের ৪৭টি দেশ। ভ্রমণে সেসব দেশের ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর খুঁটিনাটি বিষয় তিনি পরিদর্শন করেন। অচিরেই বাকী দেশগুলো ভ্রমণের ইচ্ছা আছে বলে জানালেন এই হেরিটেজ ট্রাভেলার। দেশগুলো ভ্রমণের সময় তিনি সংগ্রহ করেন সেখানকার প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের নানা তথ্য-উপাত্ত। এশিয়া ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়ে ইতিমধ্যে তাঁর দুটি প্রকাশনা রয়েছে। এর একটি ‘এলিজাস ট্রাভেল ডায়েরি’ আরেকটি ‘এলিজাস ট্রাভেল ডায়েরি-২’।
তিনি ইতোমধ্যে নেদারল্যন্ডস এর দি হেগ ইউনিভার্সিটি অফ অ্যাপ্লাইড সায়েন্সেস-এ কম্যুনিকেশন ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধীনে ‘বাংলাদেশে হেরিটেজ ট্যুরিজম’-এর ওপর গবেষণা সমাপ্ত করেছেন। গবেষণাকর্ম ও হেরিটেজ ভ্রমণে গিয়ে তার মনে হয়েছে, বাংলাদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলোর ঐতিহাসিক অনেক গুরুত্ব রয়েছে। যা সঠিকভাবে সংরক্ষণ করলে শিক্ষা – গবেষণার পাশাপাশি দেশে পর্যটনশিল্প বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, প্রায় বিশ বছরের বিশ্বভ্রমণের যাত্রায় আমার নিজেকে সত্যিকার ট্রাভেলার মনে হয়েছে যখন আমি বাংলাদেশের কোনায় কোনায় গেছি। আমার দেশের সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য, মানুষ আমাকে যা আনন্দ দিয়েছে পৃথিবীর বড় বড় দেশ তা দিতে পারেনি। আমি দেখেছি গর্ব করার মত বিশ্বমানের ঐতিহ্য ও স্থাপনা আমাদেরও রয়েছে। প্রয়োজন শুধু সংরক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ, প্রচার ও প্রসারের।
বাংলা




