অর্থনৈতিক সংবাদশিরোনাম

৫০ টাকায়ও চামড়া কিনছেন না আড়তদাররা

৩০০ থেকে ৪০০ টাকা দিয়ে সংগ্রহ করা চামড়া আড়তদারদের কাছে ৫০ টাকায়ও বিক্রি করতে পারছেন না মৌসুমি কাঁচা চামড়া ব্যবসায়ীরা। চট্টগ্রামের আতুরার ডিপো চামড়ার আড়তে এমনটা দেখা যায়।
সারাদেশের মতো চট্টগ্রাম নগরেও চামড়ার দামের অস্বাভাবিক দরপতন হয়েছে। মৌসুমি ব্যবসায়ীরা এ জন্য আড়তদারদের ‘সিন্ডিকেটকে’ দায়ী করেছেন।
আড়তদারেরা এবার চট্টগ্রামে সাড়ে ৫ লাখ পিস গরুর চামড়া ও ৮০ হাজার পিস ছাগলের চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন। আড়তদাররা আশা করছেন চট্টগ্রামে এবার ৪ লাখ গরু, ১ লাখ ২০ হাজার ছাগল, ১৫ হাজারের মতো মহিষ এবং ১৫ হাজারের মতো ভেড়া কোরবানি দেওয়া হয়েছে।
ঢাকার বাইরে এবার সরকার প্রতি বর্গফুট চামড়ার দর ৩৫ টাকা থেকে ৪০ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে। বড় গরুর প্রতিটি চামড়া সাধারণত ১৮ থেকে ২০ বর্গফুট হয়। ছোট গরুর চামড়া সর্বোচ্চ ১২ থেকে ১৫ বর্গফুট পর্যন্ত হয়।
মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৭০ শতাংশ চামড়া সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানান আড়তদারেরা। বাকি চামড়া কয়েক দিনের মধ্যে আতুরার ডিপোর আড়তে চলে আসবে বলে তাদের ধারণা।
মৌসুমি ব্যবসায়ীদের অভিযোগ সম্পর্কে চট্টগ্রামের আড়তদারদের ভাষ্য- ঢাকার ট্যানারি ব্যবসায়ীরা ঈদের মৌসুমেও পাওনা টাকা পরিশোধ না করায় তারা মৌসুমি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চামড়া কিনতে পারছেন না। এছাড়া মৌসুমি ব্যবসায়ীরা অনেকে আড়তে চামড়া নিয়ে আসতে দেরি করায়, চামড়ার গুণগত মান নষ্ট হয়ে যাওয়াতে অনেক চামড়া কেনা সম্ভব হয় না বলেও জানান তারা।
অন্যদিকে, কাঁচা চামড়া সংগ্রহকারীদের অভিযোগ- এবার কোরবানির চামড়ার বাজারকে কেন্দ্র করে পাইকারি চামড়া ক্রেতা এবং আড়তদারের প্রতিনিধিরা মিলে সিন্ডিকেট তৈরি করেছেন। এছাড়া, কোরবানিদাতাদের অনেকেই চামড়ার প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ার কারণে তারা কাঁচা চামড়া এতিমখানায় দিয়েছেন। সিন্ডিকেটের সদস্যরা এতিমখানা থেকে সরাসরি কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করেছেন।
আতুরার ডিপো এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সড়কের ওপর চামড়া রেখে আড়তদারদের জন্য অপেক্ষা করছিলেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। কিন্তু আড়তের লোকদের সেগুলো কেনায় কোন আগ্রহ দেখা যায়নি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button