বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে আইড় মাছ
দেশের প্রাকৃতিক জলাভূমিগুলো মারাত্মকভাবে দখল আর দূষণের কারণে বিপন্ন হচ্ছে প্রাকৃতিক মাছের জীবন। আজ থেকে দশ বা বিশ বছর আগে যেসব মাছ পাওয়া যেতো সেগুলোর অনেকগুলোই আজ অতীত। তেমন একটি প্রিয় মাছের নাম ‘আইড়’। মাছটির গড় দৈর্ঘ্য প্রায় ১১০ সেন্টিমিটার।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ও মৎস্য গবেষক মো. শহীদুর রহমান সিদ্দিকী বলেন, ‘আইড় সুস্বাদু একটি মাছ। মাছটি পানির নিম্নস্তরের বসবাস করে। নদী-নালা, খাল-বিল, প্রাকৃতিক হাওর-জলাভূমিসহ পুকুর-ডোবাতে পাওয়া যেতো। এখনো বাজারে এই আইড় মাছের চাহিদা প্রচুর। তবে এখন এ মাছটি একেবারে বিলুপ্তির পথে।’
শ্রীমঙ্গল শাহজালাল ফিস সাপ্লাইয়ার্স এর মৎস্য ব্যবসায়ী মনসুর আলী বলেন, ‘আইড় মাছগুলোকে এখন আর তেমন দেখা যায় না। মাঝে মধ্যে যদিওবা খুব অল্পসংখ্যক বাজারে ওঠে সেগুলোর দাম অনেক বেশি। গত দশ বছর আগে আমাদের হাইল হাওর বা বাইক্কা বিলে যেসব প্রজাতির মাছ পাওয়া যেতো সেগুলো এখন আর নেই। এখন অধিকাংশই চাষ করা মাছ।’
এ মাছটিকে ‘শংকটাপন্ন’ উল্লেখ করে মৎস্য গবেষক শহীদুর বলেন, ‘আড়ই মাছসহ আরো দু-চারটি শংকটাপন্ন দেশি প্রজাতির মাছের কৃত্রিম প্রজনন করার উদ্যোগ আমি নিয়েছি। যাতে আমাদের দেশের এই সুস্বাদু মাছগুলো টিকে থাকতে পারে। এলাকার সফল খামারিদের মধ্যে সেই বিপন্ন মাছগুলোর পোনা বিতরণের মাধ্যমে এ প্রজাতিগুলোকে টিকিয়ে রাখার প্রচেষ্টা আমাদের অব্যাহত থাকবে।’
আগের মতো নদী, খাল-বিল, পুকুর-হাওরসহ প্রাকৃতিক জলাভূমিগুলো না থাকা, পাইল ফিসিং ২-৩ বছর নির্দিষ্ট স্থানে মাছসংরক্ষণ করে না রাখা এবং নদী ও খালবিলে নতুন পানি আসার সময় শুকনো জাল দিয়ে অবাধে মা মাছ ও পোনা মাছ ধরার কারণে আড়ই মাছসহ দেশি প্রজাতির অনেক মাছ আজ বিলুপ্তির পথে চলে গেছে বলে জানান শ্রীমঙ্গল উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. শহীদুর রহমান সিদ্দিকী।
বিজ্ঞাপন




