বোরকা পরেই ক্রিকেট খেলছেন লাবনী!

নিজের ইচ্ছাশক্তি থাকলেই কেবল সব প্রতিকূলতা জয় করা যায়। আর সেটিই করে দেখিয়েছেন লাবনী আক্তার। ইসলামী অনুশাসন মেনেই ক্রিকেট খেলে যাচ্ছেন লাবনী। এখন একজন পেশাদার ক্রিকেটার তিনি। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে খেলাঘরের হয়ে খেলছেন।
ছেলেদের প্রিমিয়ার লিগ শেষ হয়েছে। টানা দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ঢাকা আবাহনী লিমিটেড। সদ্য হয়ে গেল মেয়েদের প্রিমিয়ার ক্রিকেটের দলবদল। বরাবরের মতো এবারও তেমন উত্তাপ ছিল না।মিডিয়ার উপস্থিতিও দেখা যায়নি। বোরকা পরে দলবদলে এসেছিলেন লাবনী। সেখানেই উঠে আসা, স্বপ্ন আর সম্ভাবনার কথা জানালেন তিনি।
লাবনী বগুড়ার মেয়ে। শৈশব থেকেই ক্রিকেটপ্রীতি রয়েছে তার। বাবা-চাচার সঙ্গে ক্রিকেট ম্যাচ দেখতে দেখতে ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন জাগে। বড় বাধা রক্ষণশীল পরিবার। মেয়ের স্বপ্নসারথী হলেন মা।তাই আর পেছনে তাকাতে হয়নি তাকে।
এ নিয়ে লাবনী বলেন, আমার মা আমাকে প্রাইভেটের নাম করে স্টেডিয়ামে নিয়ে যেতেন। সন্ধ্যা হলেই নিয়ে আসতেন। আমি মনে করি, ইচ্ছাশক্তি থাকলে যেকোনো কিছু করা সম্ভব। এই ইচ্ছাশক্তি দেখেই আমাকে আমার মা সমর্থন করেন।
মাঠে পেশাদার ক্রিকেটার। তবে বাইরে ধর্মপ্রাণ এক মুসলিম নারী। কঠোরভাবে মেনে চলেন ইসলামিক অনুশাসন। লাবনীর অনুপ্রেরণা দক্ষিণ আফ্রিকার মুসলিম ওপেনার হাশিম আমলা। ইতিমধ্যে ন্যাশনাল ক্যাম্পে নিজের জাত চিনিয়েছেন। এখন জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন লাবনী। হতে চান বিশ্বসেরা অফস্পিনার। আরও ১০ বছর ক্রিকেট নিয়েই থাকতে চান।
বোরকা পরা নিয়ে লাবনী বলেন, একজন ক্রিকেটার হওয়ার মানে এই নয় যে, আমাকে সবসময় প্যান্ট-শার্ট বা শর্ট পোশাক পরতে হবে। আমি এই পোশাক পরে খেলেই সবার কাছে পরিচিত হতে চাই।



