শিক্ষাশিরোনাম

দুই দিনের অচলাবস্থার পর চবিতে অবরোধ প্রত্যাহার

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষা উপ-মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের আশ্বাসে দুই দিনের অচলাবস্থার পর অবরোধ প্রত্যাহার করলো চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ। এর আগে রবিবার (৭ এপ্রিল) চার দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ডাক দেয় তারা।
জানা যায়, শাখা ছাত্রলীগের ডাকা চার দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিনে সারাদিন ধরে অচল ছিল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। এর ফলে কাম্পাসে সকাল থেকে বন্ধ রয়েছে শাটল ট্রেন ও শিক্ষক বাস এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ বিভাগের পরীক্ষা ও ক্লাস। তবে দ্বিতীয় দিনের মতো অবরোধ চললেও সকাল থেকে ছাত্রলীগের কোন ধরনের কর্মসূচি ছিল না। পরবর্তীতে দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক শাহ আমানত হলের সামনে রাস্তা অবরোধ করে মিছিল করে তারা। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টরদের উপস্থিতিতে তারা রাস্তা অবরোধ ছেড়ে হলে অবস্থান নেয়।
দুপুরে অবরোধ চলমানের ঘোষনা দিয়ে বিকালে অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয় ধর্মঘট ডাকা ছাত্রলীগের একাংশ। এ বিষয়ে চবি শাখা ছাত্রলীগের সাবেক তথ্য বিষয়ক সম্পাদক শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আমদের নেতা শিক্ষা উপ-মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের আশ্বাসে আমরা অনির্দিষ্টকালে অবরোধ প্রত্যাহার করে নিয়েছি’।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে রবিবার ছাত্রলীগের ধর্মঘটে পরিবহন পুলে থাকা ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষক বাসের ত্রুটি সারানো যায়নি। ফলে সোমবার চট্টগ্রাম শহর থেকে শিক্ষকদের পরিবহনে কোনো বাস যেতে পারেনি। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রক্টর অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী আজগর চৌধুরী বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষকবাসগুলোর ত্রুটি সারানো যায়নি। ফলে শিক্ষকরাও ক্যাম্পাসে আসতে পারেননি। যেহেতু শিক্ষকরা আসতে পারেননি, তাই আমরাও রেলওয়েকে শাটল ট্রেন বন্ধ রাখতে বলেছি’।
হাটহাজারী থানার সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মাসুম বলেন, ‘বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং আমরা সর্তক অবস্থানে রয়েছি। যানবাহনের সমস্যা থাকার কারণে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের উপস্থিতি কম’। এছাড়াও দুই শিক্ষার্থী ও ছয় জনের অস্ত্র মামলার বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের আশ্বাসে আটকৃত দুইজনকে রবিবার রাতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকী ছয় জনে বিরুদ্ধে যে অস্ত্র মামলা হয়েছে সেটা যেহেতু শিক্ষার্থীদের বিষয় সে ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত পজেটিভ চিন্তা ভাবনা করা হবে’।
অবরোধের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘যখন কিছু ব্যাক্তির এজেন্ডা বাস্তবায়ন ও নিয়োগ বানিজ্য, ভর্তি বানিজ্য, অনৈতিক কাজ হচ্ছে না তখনই তারা একত্র হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ঝামেলা সৃষ্টি করছে। তবে আমি আইনশৃংখলা বাহিনী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের সহযোগিতায় সাধারন শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য যা করার দরকার তাই করবো’।
ইত্তেফাক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button