শিক্ষাশিরোনাম

প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস ছাড়া ঘরে ফিরবে না এমপিওভুক্তির শিক্ষকরা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশ্বাস না দেওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরে যাবেন না বলে জানিয়েছেন নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা।
শুক্রবার (২২ মার্চ) তৃতীয় দিনের মতো জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সড়কে অবস্থান নিয়ে কর্মসূচি পালন করছেন এমপিও ভুক্তির দাবিতে আন্দোলতরত শিক্ষক-কর্মচারীরা।
এ সময় জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে কদম ফোয়ারা পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এমপিওভুক্তি বাস্তবায়নের কোনো মেসেজ না আসা পর্যন্ত সড়ক থেকে উঠবেন না বলে জানিয়েছেন তারা।
বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের বেশিরভাগ দাবি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হলেও কঠোর আন্দোলনমুখী অবস্থানে রয়েছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। আগামী বাজেটকে সামনে রেখে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা আন্দোলন-কর্মসূচি চালিয়ে যেতে পারেন। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে। শিক্ষক-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র মতে, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং কলেজ সরকারিকরণ, ইবতেদায়ি শিক্ষকদের বেতন কাঠামো তৈরি করতে নীতিমালা প্রণয়ন এবং বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নতুন করে এমপিওভুক্তসহ শিক্ষক-কর্মচারীদের বেশিরভাগ দাবি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
গত বছর ৫ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব আশ্বাস দিলে তারা অনশন ভাঙে। এরপর দীর্ঘদিন কেটে গেলেও দাবি আদায় না হওয়ায় ফের গত বুধবার থেকে আন্দোলনে নামেন শিক্ষকরা।
আন্দোলনে বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. সোহরাব হোসাইন বলেন, নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বাজেটের আগেই এমপিওভুক্ত করা হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা একটি চলমান প্রক্রিয়া। তবে একসঙ্গে কত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা যাবে তা বলতে পারছি না। পর্যায়ক্রমে শিক্ষকদের দাবি আইনগতভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।
এ বিষয়ে নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যক্ষ গোলাম মাহমুদুন্নবী ডলার বলেন, দাবি পূরণ না হলে লাগাতার আন্দোলন-কর্মসূচি চলবে। আমরা রাস্তায় অবস্থান নিয়েছি, রাস্তাতেই থাকবো। ২০১৮ সালের ১১ জুলাই, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও সাবেক শিক্ষা সচিবের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। দাবি পূরণ করা হবে বলে আমাদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখনও কোনও অগ্রগতি দেখছি না।
তিনি বলেন, দেশে একাডেমিক স্বীকৃতি পাওয়া নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৫ হাজার ২০০। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দ্রুত এমপিওভুক্ত করতে হবে। তা না হলে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button