চীনে বোয়িং ৭৩৭’র সব ফ্লাইট বাতিলের নির্দেশ

ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের ‘বোয়িং-৭৩৭ ম্যাক্স-৮’ প্লেন বিধ্বস্ত হয়ে ১৫৭ আরোহীর সবই নিহত হওয়ার পর একই মডেলের সব ফ্লাইট বাতিলে এয়ারলাইন্সগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে চীন।
সোমবার (১১ মার্চ) সকালে চীনা সিভিল অ্যাভিয়েশন এডমিনিস্ট্রেশন বিবৃতিতে জানিয়েছে, অভ্যন্তরীণ বিমান সংস্থাগুলোকে বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স-৮ বিমানের সব ধরণের বাণিজ্যিক কার্যক্রম সোমবার রাত ৮টার মধ্যে শেষ করতে হবে।
বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, সম্প্রতি বোয়িং-৭৩৭ ম্যাক্স-৮ মডেলের যে দু’টি প্লেন বিধ্বস্ত হয়েছে, এর একটি নতুন ছিল। এছাড়া দু’টি প্লেনই উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। তাই এ মডেল নিয়ে তারা একটু উদ্বিগ্ন।
চীনা কর্তৃপক্ষ জানায়, এ মডেলের প্লেনগুলো আপাতত উড়বে না। প্রস্তুতকারী কোম্পানি বোয়িং এবং মার্কিন ফেডারেল অ্যাভিয়েশনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে। তারা প্লেনগুলোর ‘ফ্লাইট নিরাপত্তা’ দিলেই আবার সেগুলো উড়বে। এমন একটি সতর্কতার জন্যই এ উদ্যোগ।
প্রসঙ্গত, রোববার (১০ মার্চ) সকালে আদ্দিস আবাবার বোল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৮ জন ক্রু-সহ ১৫৭ আরোহী নিয়ে কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবির উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছিল বোয়িং-৭৩৭ ম্যাক্স ৮ বিমানটি। স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৮ মিনিটে উড্ডয়নের ছয় মিনিট পর ৮টা ৪৪ মিনিটে বিমানটির সঙ্গে রাডারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
আদ্দিস আবাবা থেকে ৬২ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বদিকের বিশোফতু শহরের কাছে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। সংস্থাটির মুখপাত্র বলেছেন, ইথিওপিয়া এয়ারলাইন্সের বিধ্বস্ত বিমানটির ১৪৯ আরোহী ও আট ক্রুর সবাই মারা গেছেন। নিহতদের মধ্যে ৩৩ দেশের নাগরিক রয়েছেন। ইতোমধ্যে চীনের আট নাগরিক ওই বিমানে ছিলেন বলে জানিয়েছে চীনের ইংরেজি দৈনিক গ্লোবাল টাইমস।
এর কয়েকমাস আগেও একই মডেলের প্লেন বিধ্বস্ত হয় ইন্দোনেশিয়ায়। দেশটির লায়ন এয়ারলাইন্সের নতুন ওই প্লেনটিও উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই বিধ্বস্ত হয়ে ১৮৯ আরোহী নিহত হয়েছিলেন। ঘন ঘন এ মডেলটির বড় দুর্ঘটনায় টনক নড়েছে চীনের। তারা বলছে, আকাশপথে নিরাপত্তা রক্ষায় ‘চীন জিরো টলারেন্স নীতি’ অবলম্বন করবে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বলছে, একই মডেলের ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি দ্বিতীয়বারের মতো হওয়ায় বোয়িং-৭৩৭ ম্যাক্স-৮ মডেলের সব প্লেন নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে চীন।
/অ-ভি




