
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদের নির্বাচনে আবাসিক হলের বাইরে একাডেমিক ভবনে ভোটকেন্দ্রসহ ৩ দাবিতে ছাত্র সমাবেশ করেছে ছাত্র ইউনিয়ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। এসময় সমাবেশে যোগ দেয়, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট, ছাত্র ফেডারেশন ও কোটা আন্দোলনের নেতারা।
সোমবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে এই সমাবেশে নানা দাবি তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন নেতারা। এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, ডাকসুর সাবেক এজিএস ও ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা নাসিরউদ্দৌজা।
ডাকসুর সাবেক এজিএস নাসিরউদ্দৌজা তাঁর বক্তব্যে বলেন, “ডাকসু নির্বাচন কারও দয়ার দান নয়৷ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও ছাত্র ভিক্ষার ঝুড়ি নিয়ে পথে পথে ঘুরছে না৷আমাকে দুই টাকা ভিক্ষা দেন, আমাকে ডাকসু নির্বাচন দেন৷ডাকসু নির্বাচন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেক শিক্ষার্থীর রক্তের অধিকার”৷
তিনি বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যায়ের ৩৮ হাজার শিক্ষার্থীর গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করার অধিকার কারও নেই৷ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবছর যেমন ছাত্র ভর্তি হয়,তেমনি প্রতিবছরও ডাকসু নির্বাচন হতে হবে৷ বাংলাদেশে এখন নৈশকালীন নির্বাচন হচ্ছে৷ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নৈশকালে নির্বাচন হবে না, নির্বাচন হবে প্রকাশ্য দিবালোকে৷ যে ডাকসু আগামী দিনের পথ দেখাবে,সে ডাকসু নির্বাচনের প্রতি সবার শ্রদ্ধাশীল হতে হবে”৷
এসময় সভায় যোগ দেন কোটা আন্দোলনের নেতারা। তাদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন কোটা সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নুর।
তিনি বলেন, দীর্ঘ ২৮ বছর পর ডাকসু নির্বাচন হতে যাচ্ছে৷ যে ডাকসুকে বলা হয় বাংলাদেশের দ্বিতীয় সংসদ৷ ডাকসু নির্বাচনের উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য আমরা সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রশাসনরে ধন্যবাদ জানাচ্ছি৷ আমাদের ২টি মৌলিক দাবী হলো প্রথমত নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে দ্বিকীয়ত ডাকসুর ভোটকেন্দ্র একাডেমিক ভবনে স্থাপন করতে হবে৷
সমাবেশে ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি জি এম জিলানী শুভ বলেন, ‘ডাকসু নির্বাচন আয়োজনে আন্তরিকতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সদিচ্ছার বহিঃপ্রকাশ। তবে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে না পারলে সেই নির্বাচন প্রহসনের বেশি কিছু হবে না। শিক্ষার্থীরা যাতে নির্ভয়ে ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে পারে, তার জন্য আমরা হলের বাইরে একাডেমিক ভবনে ভোটকেন্দ্র করার দাবি জানিয়েছি। নির্বাচনের যথাযথ পরিবেশ নিশ্চিত করতে কালকের সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষার্থীদের ন্যায়সংগত দাবিগুলোকে চূড়ান্ত অনুমোদন দিতে হবে।’
সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি সালমান সিদ্দিকী বলেন, যদি একটা গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি না হয়, যদি বিশ্ববিদ্যালয়ে সহাবস্থান না হয়, যদি হলগুলোতে ছাত্রলীগের প্রচণ্ড দখলদারিত্ব বন্ধ না করা হয় তবে আসন্ন ডাকসু নির্বাচন নিয়ে আমরা কোনও ভালো সম্ভাবনা দেখি না৷ নির্বাচনে ছাত্ররা তাদের পছন্দের নেতা নির্বাচন করবে৷ কিন্তু নির্বাচনের নামে যদি প্রহসন হয় তা আমরা কখনও মেনে নিবো না৷ তাই ডাকসু নির্বাচন অংশগ্রহন নিয়ে আমাদের দ্বিতীয়বার ভাবতে হবে৷
ছাত্র ফেডারেশনের বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি উম্মে হাবীবা বেনজীর বলেন, আমরা দীর্ঘদিন যাবত ডাকসু নির্বাচনের জন্য আন্দোলন করে আসছি৷ কিন্তু ১১ই মার্চের নির্বাচন নিয়ে খুব সম্ভাবনা দেখছি না৷ বরং আমরা আরেকটা ৩০ ডিসেম্বর এর মতো নির্বাচনের আশংকা করছি৷ যদি একাডেমিক ভবনে ডাকসুর ভোটকেন্দ্র স্থাপন না করা হয় তবে ডাকসু নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে আমরা দ্বিতীয়বার ভাববো৷ হলগুলোতে ছাত্রলীগের দখলদারিত্ব থেকে যদি মুক্ত করা না হলে আমরা সাধারণ ছাত্রদের সাথে নিয়ে আবারও আন্দোলন করে প্রশাসনকে বাধ্য করবো৷
সমাপনী বক্তব্যে ছাত্র ইউনিয়নের বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি ফয়েজ উল্লাহ বলেন, “৫৪ র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ৬২র শিক্ষা আন্দোন, ৬৬র ছয় দফা আন্দোলন, ৬৯র গণঅভ্যুত্থান, ৭১র স্বাধীনতা আন্দোলনে ডাকসুর ভূমিকা ছিল আভাবনীয়৷ সুতরাং ডাকসু নির্বাচনকে উৎসব মুখর ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে নির্বাচনকে আগ্রহী করে তুলতে ভোটকেন্দ্র একাডেমিক ভবনে স্থাপন করতে হবে”৷
সমাবেশ থেকে বক্তারা ছাত্রদের দাবী মেনে নিয়ে অবিলম্বে ডাকসুর তফসিল ঘোষনা করা ও ডাকসুর ভোটকেন্দ্র একাডেমিক ভবনে স্থাপনের দাবী জানান৷
সমাবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়ন ৩টি দাবী ঘোষনা করে:-
১. গেস্টরুমে নির্যাতন বন্ধ করে হলগুলোতে প্রশাসনিকভাবে সিট বণ্টন৷
২. ডাকসু নির্বাচনের ভোটকেন্দ্র একাডেমিক ভবনে স্থাপন৷
৩. বিগত ২৮ বছরের ছাত্রবিমুখী সকল সিদ্ধান্ত বাতিল৷
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি ফয়েজ উল্লাহ, সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক রাজিব দাস৷ এসময় সংগঠনটির বিভিন্ন হল শাখা ও বিভাগীয় শাখা সমাবেশে অংশ নেয়।




