
রাজনীতিবিদরা বিপুল সংখ্যক জনগণের উপস্থিতিতে ভরা মাঠে বক্তৃতা দিয়ে সুখ অনুভব করেন। খালি মাঠে বক্তৃতা দেয়ার কথা তারা ভাবতেই পারেন না। প্রয়োজনে মানুষ ভাড়া করে হলেও তারা মাঠ ভরা রাখেন। কিন্তু ভারতের মিজোরাম রাজ্যের গভর্নরের কপাল খারাপই বলতে হবে। রাজ্যজুড়ে বয়কটের কারণে তাকে খালি মাঠেই বক্তৃতা সারতে হল।
শনিবার ২৬ জানুয়ারি ভারতের ৭০ তম প্রজাতন্ত্র দিবস ছিল। স্বাভাবিকভাবেই এদিন রাজ্য গভর্নর জনগণের উদ্দেশ্যে বক্তৃতা দেবেন। কিন্তু নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল নিয়ে আপত্তি জানিয়ে রাজ্যজুড়ে বয়কট ডাকার কারণে গভর্নর কুম্মানাম রাজাশেখারানকে প্রায় খালি ময়দানে তার বক্তব্য রাখতে হল।
রাজ্য পুলিশ জানায়, কেবলমাত্র মন্ত্রী, আইন-প্রণেতা এবং রাজ্যের শীর্ষস্থানীয় সরকারী কর্মকর্তারা ছাড়া অনুষ্ঠানে সাধারণ জনগণের কেউই উপস্থিত ছিলেন না।
সুশীল সমাজ এবং শিক্ষার্থীদের সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত এনজিও কোওর্ডিনেশন কমিটি নামে অলাভজনক একটি সংস্থা প্রজাতন্ত্র দিবস বর্জনের ডাক দেয়।
ভিডিওতে দেখা গেছে, অনুষ্ঠানস্থলের কাছেই প্লাকার্ড হাতে বিক্ষোভকারীরা অবস্থান করছেন। তবে রাজ্যজুড়ে কোন সহিংসতার ঘটনা ঘটেনি।
উল্লেখ্য, ৮ জানুয়ারি ভারতের লোকসভায় নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল ২০১৬ পাস হয়। এই বিলে বাংলাদেশ, আফগানিস্তান, পাকিস্তান থেকে আসা সংখ্যালঘু হিন্দু, পার্সি, শিখ, জৈন, বৌদ্ধ এবং খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষকে ভারতে নাগরিকত্ব দেয়ার কথা বলা হয়েছে। অবশ্য ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে ভারতে আগত সংখ্যালঘুদেরই এই সুবিধা দেয়া হবে।
নাগরিকত্ব বিলের প্রস্তাবিত সংশোধনীতে বলা হয়, উপরোক্ত ৬টি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অভিবাসী মানুষ ভারতের নাগরিকত্ব লাভের জন্য আবেদন করতে পারবেন। এর আগের আইন অনুযায়ী, অভিবাসী সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ ভারতে ১২ বছর বসবাস করলে তবে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে পারতেন কিন্তু বর্তমান সংশোধনীতে তা কমিয়ে ৭ বছর করা হয়েছে।
এদিকে নাগরিকত্ব সংশোধনীর এই বিলের বিরুদ্ধে ভারতজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে বিশেষ করে দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলিতে। তাদের অভিযোগ, এর ফলে স্থানীয়দের পরিবর্তে অভিবাসীরাই সংখ্যাগুরুতে পরিণত হবে।
এদিকে মিজোরামের গভর্নর জানান, মিজো পরিচয়, ঐতিহ্য এবং মূল্যবোধ রক্ষায় রাজ্য সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। রাজ্যের সীমান্ত রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে। এছাড়া সীমান্ত অঞ্চলে বসবাস করা নাগরিকদের উন্নয়নের বিষয়টিও গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে।
বাংলা




