আন্তর্জাতিক সংবাদ

কংগ্রেসকে মিথ্যা বলার স্বীকারোক্তি দিলেন ট্রাম্পের সাবেক আইনজীবী

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ সম্পর্কে তদন্তের জের ধরে কংগ্রেস সদস্যদের কাছে মিথ্যা বলার কথা স্বীকার করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাবেক ব্যক্তিগত আইনজীবী মাইকেল কোহেন। তিনি আদালতে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ স্বীকার করে বলেছেন, রাশিয়ায় ট্রাম্পের নির্মাণ কোম্পানির প্রকল্পের ব্যাপারে তিনি কংগ্রেস সদস্যদের বিভ্রান্ত করেছিলেন।
কোহেন গতকাল (বৃহস্পতিবার) পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই নিউ ইয়র্কের আদালতে হাজিরা দেন।
২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পকে জিতিয়ে দেয়ার জন্য রাশিয়া হস্তক্ষেপ করেছিল বলে ডেমোক্র্যাট দলের পক্ষ থেকে জোর অভিযোগ জানানো হয়েছিল। এখনো ওই অভিযোগের তদন্ত শেষ হয়নি। মাইকেল কোহেন গত বছর রুদ্ধদ্বার কক্ষে কংগ্রেস সদস্যদের এ সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেন।
কংগ্রেসের ওই শুনানিতে রাশিয়ায় ট্রাম্পের কোম্পানির পক্ষ থেকে একটি ভবন নির্মাণের বিষয়ে রুশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিজের যোগাযোগের বিষয়টিকে হাল্কা করে তুলে ধরেন কোহেন। ওই ভবনটি অবশ্য শেষ পর্যন্ত নির্মাণ করা হয়নি।

মার্কিন কংগ্রেসের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে প্রতিনিধিদের প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিলেন কোহেন

কোহেন বৃহস্পতিবার আদালতের স্বীকার করেছেন, তিনি রাশিয়ায় ওই ভবন নির্মাণের আলোচনায় নিজের জড়িত থাকার ব্যাপারে কংগ্রেস সদস্যদের মিথ্যা তথ্য দিয়েছিলেন। ট্রাম্পের সাবেক এই আইনজীবী আদালত থেকে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেননি। তবে তার আইনজীবী সাংবাদিকদের বলেন, “তার মক্কেল (কোহেন) আদালতকে সহযোগিতা করেছেন এবং এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।”
মাইকেল কোহেন প্রায় এক দশক ধরে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আইনজীবী ছিলেন। ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর তার প্রতি কোহেনের সমর্থন এতটা বেড়ে গিয়েছিল যে, এক পর্যায়ে তিনি বলেছিলেন, ট্রাম্পকে রক্ষার জন্য প্রয়োজনে তিনি গুলির সামনে বুক পেতে দেবেন।
এই নারীর সঙ্গে অবৈধ যৌন সম্পর্কের বিষয়ট গোপন রাখতে তাকে অর্থ প্রদান করেছিলেন মাইকেল কোহেন

কিন্তু এখন থেকে আট মাস আগে মার্কিন পুলিশ কোহেনের বাসভবন ও অফিসে তল্লাশি চালিয়ে বিভিন্ন কাগজপত্র জব্দ করে। এরপর তিনি বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে ট্রাম্পের হয়ে তার যোগাযোগের ব্যাপারে তিনি বিচার বিভাগকে সহযোগিতা করবেন।
তিন মাস আগে কোহেন তার বিরুদ্ধে আনীত আটটি অভিযোগ স্বীকার করেন। এসব অভিযোগের একটি ছিল, ট্রাম্পের সঙ্গে যৌন সম্পর্কে জড়িত নারীদের মুখ বন্ধ রাখার জন্য তিনি এসব নারীকে অর্থ প্রদান করেছেন। এ ধরনের অর্থ প্রদান মার্কিন নির্বাচনি আইন লঙ্ঘনের শামিল হতে পারে।
পার্সটুডে

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button