রাজনীতি

ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হচ্ছেন ড. রেজা কিবরিয়া

হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) সংসদীয় আসনে হঠাৎ করে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়ে আলোড়ন তুলেছেন প্রয়াত অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়ার পুত্র ড. রেজা কিবরিয়া। এ নিয়ে নবীগঞ্জ-বাহুবল নির্বাচনী এলাকায় আলোচনার ঝড় বইছে।
এদিকে, হঠাৎ করে রেজা কিবরিয়া নির্বাচন করার ঘোষণা দেয়ায় আওয়ামী লীগ, বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে কৌতুহল বিরাজ করছে।
শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘নবীগঞ্জ-বাহুবল থেকে নির্বাচন করতে চান ড. রেজা কিবরিয়া’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হলে তিনি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হন। দলীয় অনেক নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ ড. রেজা কিবরিয়া সম্পর্কে ইতিবাচক মতামত প্রকাশ করেন। এলাকাবাসীর মুখে শুনা যায়, হবিগঞ্জের উন্নয়নে তাঁর (রেজা কিবরিয়া) পিতার অনেক অবদান রয়েছে। ব্যক্তি জীবনে ড. রেজা কিবরিয়া ক্লিন ইমেজের মানুষ। তিনি নির্বাচিত হলে পিতার মতোই অবদান রাখবেন বলে অনেকেই মন্তব্য করেন।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ.এম.এস কিবরিয়া পুত্র ড. রেজা কিবরিয়া বিগত ১/১১ এর সময়ে সংস্কারপন্থী দলে থাকায় আওয়ামী লীগের রোশানলে পড়েন। ফলে বিগত ২০০৮ ও ২০১৪ সালের সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নের জন্য লবিং করেও দলীয় মনোনয়ন পেতে ব্যর্থ হন। এতে করে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে প্রার্থী হিসাবে অংশগ্রহণ করবেন।
জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শরীক গণফোরাম থেকে মনোনয়ন পেতে শুক্রবার (১৬ নভেম্বর) তিনি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। তিনি নিজেই এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
শনিবার (১৬ নভেম্বর) তাঁর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান- জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মনোনয়ন দিলে শতভাগ নিশ্চিত তিনি ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করবেন। হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইচ্ছা পোষণ করেছেন তিনি।
ড. রেজা কিবরিয়া নবীগঞ্জ উপজেলার দেবপাড়া ইউনিয়নের জালালসাপ গ্রামের এক মুসলিম পরিবারে ১৯৫৭ সনের ৬ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। জালালসাপ গ্রামেই তার শৈশব কেটেছে। কৈশোর আর যৌবনের বেশির ভাগ সময় কেটেছে বিদেশে ।
তিনি বর্তমানে জাতিসংঘে কাজ করছেন এবং কম্বোডিয়ার সরকারের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে এখনো কর্মরত আছেন। তার বাবা শাহ এ এস এম কিবরিয়া ছিলেন জাতিসংঘের সেক্রেটারী আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী।
২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জের বৈদ্যারবাজারে এক জনসভায় গ্রেনেড হামলায় নিহত হন। ২০০৬ সালে ইয়াজ উদ্দিন সরকারের অধীনে নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন পান। পরে সংস্কারপন্থী দলে চলে যাওয়ায় তার পরিবর্তে ২০০৮ সালে দেওয়ান ফরিদ গাজীকে এ আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২০১০ সালে দেওয়ান ফরিদ গাজী মৃত্যুরবণ করলে উপ-নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী শেখ সুজাত মিয়া নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালে ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জাতীয় পার্টির এম.এ মুনিম চৌধুরী বাবু নির্বাচিত হন।
ড. রেজা কিবরিয়ার চাচাতো ভাই শাহ গোলাম মুর্শেদ বলেন, রেজা কিবরিয়া ঐক্যফ্রন্ট থেকে নির্বাচন করবেন জনগণ যদি তাকে মূল্যায়ন করে তার বাবার মতো সেও এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।
নবীগঞ্জ পৌর বিএনপির সভাপতি ও পৌর মেয়র আলহাজ্ব ছাবির আহমদ চৌধুরী বলেন, এখনো কোন গ্রীন সিগনাল আমরা পাইনি দলের হাই কমান্ড কি সিদ্ধান্ত নেয় সেই অপেক্ষায় আমরা আছি। আমি মনে করি রেজা কিবরিয়ার বাবা হত্যা মামলার আসামি বিএনপি নেতাকর্মী এবং সেই রেজা কিবরিয়া ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করবেন এটা নিয়ে আমরা চরম বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছি। আমাদের এখানে দলীয় ভাবে শেখ সুজাত সাহেবই যোগ্য প্রার্থী। আমরা তাকেই ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসাবে দেখতে চাই। পূর্বপশ্চিম।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button