খেলা

ভুটানকে হারিয়ে ফাইনালে বাংলাদেশ

সাফ অনূর্ধ্ব-১৮ মহিলা ফুটবলের সেমি ফাইনালে শুক্রবার ভুটানকে ৪-০তে উড়িয়ে দিয়েছে লাল সবুজ মেয়েরা। শনিবার তাদের শিরোপার শেষ লড়াই। এই ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ নেপাল। গ্রুপ ম্যাচে এই নেপালকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল মৌসুমীরা। আগামীকাল তৃতীয় স্থান নির্ধারনী ম্যাচে মুখোমুখি ভারত ও ভুটান। ভুটানের থিম্পুর চাংলিমিথান স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের হয়ে গোল করেন সানজিদা, মৌসুমী, কৃষ্ণা ও শামসুন্নাহার।
ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়া। ডান দিক থেকে সানজিদার ক্রসে পরাস্ত ভুটানের গোলরক্ষক। বল সঙ্গীতা মনগারের মাথার উপর দিয়ে গিয়ে অতিক্রম করে গোল লাইন। একটি সেমি ফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ন ম্যাচে স্বাগতিকদের বিপক্ষে শুরুতে এমন গোল পাওয়া মানে অতিথি দলের আরো উজ্জ্বীবিত ফুটবল উপহার দেয়া। অথচ বাংলাদেশ দলের বেলায় হলো উল্টো। এরপর খেই হারিয়ে ফেলে গোলাম রাব্বানী ছোটনের দল। ডিফেন্স লাইনে চিড় ধরছিল। সাথে যোগ হয় মিডফিল্ডারদের ভুল পাস।
এই সুযোগে নিজেদের গুছিয়ে নিয়ে পাল্টা আক্রমনে উঠে আসে ভুটান। আতংক ছড়াচ্ছিল বাংলাদেশের রক্ষন ভাগে। গোলের চান্সও পায় ভুটানী মেয়েরা। কিন্তু সহজ সুযোগ থেকে তারা গোল না পাওয়ায় রক্ষা পায় বাংলাদেশ। যা অনুপ্রেরনা ছিল মৌসুমী মারিয়াদের জন্য। এই সুযোগেই প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে দ্বিতীয় গোল করে দলকে চিন্তা মুক্ত করেন অধিনায়ক মিসরাত জাহান মৌসুমী। কর্নার থেকে বক্সে সৃষ্ট জটলা থেকে টোকা মেরে বল জালে পাঠান তিনি।
অবশ্য ৪৩ মিনিটে সানজিদার শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় তখন ব্যবধান বাড়েনি। এরপরই সমতার সুবর্ন সুযোগ নস্ট করে ভুটানের কারমা জেংমো । তার ভলি যায় বার ঘেঁষে। অবশ্য বিরতির পর ছন্দ পতন ভুটানের। বাংলাদেশ দল তখন আরো আত্মবিশ্বাসী। ভুটান গোল শোধে আক্রমনে উঠলে গোল সংখ্যা বৃদ্ধির সুযোগ পায় লাল সবুজরা। ৫৮ মিনিটে কৃষ্ণা গোলের চান্স মিস করলেও পরের মিনিটেই গোল তার। এক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে দ্বিতীয় প্রচেস্টায় গোল করেন অনূর্ধ্ব-১৬ দলের সাবেক অধিানয়ক কৃষ্ণা।
নেপালের বিপক্ষে আগের ম্যাচে খেলা একাদশ থেকে আনাই মগিনি এবং ইনজুরড স্বপ্নার বদলে কাল ভুটানের বিপক্ষে একাদশে চান্স পান সানজিদা ও মারজিয়া। কাল সেমিফাইনালে একটু ক্লান্ত মনে হওয়া কৃষ্ণাকে তুলে সাজেদাকে মাঠে নামান কোচ। এই সাজেদা ৭৮ মিনিটে ফাঁকায় থেকেও পারেননি গোল করতে। হেড করার বদলে বল হাতে লাগিয়ে পান হলুদ কার্ড। ৮৫ মিনিটে সাজেদা বক্সে ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় বাংলাদেশ। এই স্পট কিক থেকে বাংলাদেশের হযে চতুর্থ গোর করেন শামসুন্নাহার।
ম্যাচে রেফারী এ্বং সহকারী রেফারীর বেশ কিছু সিদ্ধান্ত গেছে বাংলাদেশের বিপক্ষে। রেফারী অযথাই কিছু ফাউল দিয়েছেন বাংলাদেশেন বিপক্ষে। আর সহকারী রেফারীতো যেন অফসাইডের পাতাকা না তুলে ক্ষান্ত হচ্ছিলেন না। তবে ফাইনালে আরো ভালো খেলতে হবে বাংলাদেশকে। অন্যথায় অনূর্ধ্ব ১৫ সাফের ফাইনালের মতো হতাশ হতে হবে। আগস্টেই এই হতাশার কাহিনী হয়েছিল এই মাঠে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button