Uncategorized

কক্সবাজারে বন্যায় ৫ লাখ মানুষের ভোগান্তি

কক্সবাজার থেকে সংবাদদাতা : টানা বর্ষণে সৃষ্ট পাহাড়ি ঢল ও জোয়ারের পানির কারণে কক্সবাজারের চকরিয়া, পেকুয়া ও রামু উপজেলার ৩০টিরও বেশি ইউনিয়নে বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে প্রায় ৫০ হাজার ঘর-বাড়িসহ শতাধিক মৎস্য ঘের প্লাবিত হয়েছে। স্থানীয় সড়কগুলো তলিয়ে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন এলাকার ৫ লাখেরও বেশি মানুষ।
এদিকে আবহাওয়া অফিস বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে রেকর্ড ১৩১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এই বর্ষণ অব্যাহত থাকলে পানি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
প্রতিবছর উদ্ভূত এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। তারা বলছেন, স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হলে বন্যা ও জলাবদ্ধতা সমস্যা এড়ানো যাবে। তবে এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দোষারোপ করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। তারা বলছেন, বন্যা থেকে উপকূলবর্তী লোকজনকে রক্ষার্থে সরকার ঠিকই কাজ করে গেলেও অনিয়মের কারণে তা সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছেনা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, গত সোমবার থেকে টানা বৃষ্টিতে পেকুয়া, চকরিয়া ও রামু উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ওপর দিয়ে ঢলের পানি প্রবাহিত হচ্ছে। সড়কগুলো ডুবে গেছে। পানিবন্দী হয়ে পড়ায় চলছে না স্কুলগুলোর কার্যক্রম। মৎস্য ঘেরগুলো প্লাবিত হওয়ায় কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয়রা বলছেন, এখানকার প্রতিবছরের পরিচিত চিত্র এটি।
পেকুয়ার উজানটিয়া এলাকার রাবেয়া খাতুন নামে এক নারী জানান, বন্যার কারণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে তাদের জীবন। খাওয়া, ঘুম কোনটাই হচ্ছে না ঠিকমতো। চতুর্দিক থেকে পানিবন্দী হয়ে পড়ায় খাবারের অভাবে মারা যাচ্ছে গবাদিপশুরা।
ওই এলাকার স্কুল শিক্ষক সরওয়ার কামাল জানান, দীর্ঘদিন ধরেই তারা এই সমস্যা মোকাবিলা করছেন। তবে এ সমস্যা সমাধানে দরকার উঁচু এবং স্থায়ী বেড়িবাঁধ। কিন্তু বারবার আশা দিয়েও কেন হচ্ছে না, তা তার বোধগম্য নয় বলে জানান তিনি।
রামুর পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী রাইসা জানায়, বন্যার পানিতে প্লাবিত হওয়ার গত ৪ দিন ধরে স্কুলে যেতে পারছেনা সে।
এ ব্যাপারে উজানটিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এটিএম শহিদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, বন্যার কারণে এলাকায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে সরকারের পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগ নেয়া হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণেই আটকে আছে বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রকল্প।
পেকুয়া উপজেলা চেয়ারম্যান সাফায়েত আজিজ রাজু জানান, ঝুঁকিপূর্ণ জায়গাগুলো চিহ্নিত করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে চিটি লিখে তা বাস্তবায়নের আর্জি জানানো হয়। সেই অনুযায়ী বরাদ্দ দেয় সরকার। কিন্তু সংশ্লিষ্টদের অবহেলার কারণে এ সমস্যা থেকে মুক্তি মিলছেনা তাদের।
এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কক্সবাজার কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী সাবিবুর রহমান বলছেন, অভিযোগটি সঠিক নয়। এটি বেড়িবাঁধের সঙ্গে সম্পর্কিত কোন সমস্যা নয়।
সারাবাংলা

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button