মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে পাশ কাটিয়ে স্বাধীনতার মৌললক্ষ্য কখনোই অর্জিত হবে না- আলমগীর মজুমদার

যে লক্ষ্য হাসিলে ১৯৭১-এ এদেশের আবাল-বৃদ্ধ-জনতা মুক্তিযোদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল সে লক্ষ্য থেকে আমরা দিনে দিনে সরে যাচ্ছি। যে জন্যে দেশের স্বাধীনতা-সাবভৌমত্ব আজও প্রশ্নবিদ্ধ। আমাদের জাতীয় নেতৃত্বের দুর্বলতা হেতু দেশ এখনো পরনির্ভরশীলতা কাটিয়ে উঠতে পারেনি। অর্থনৈতিক স্বয়ম্ভরতা অর্জিত হয়নি। দেশের প্রবৃদ্ধি অর্জনের যে বাঘাড়ম্বর করা হয় তাতে শুভঙ্করের ফাঁক বিদ্যমান। এ কথা অস্বীকার করা যায় না যে দেশে যা উন্নয়ন ঘটেছে তা কেবল সেতুর অবকাঠামো উন্নয়ন। স্বাধীনতার ৪৭ বছর অতিবাহিত হলেও শ্রমিক-কৃষকমেহনতি মানুষের ভাগ্যের তেমন কোনো পরিবর্তন সাধিত হয়নি। এখনও তাঁরা অধিকার হারা। দেশে শিক্ষিত, অর্ধ-শিক্ষিত, প্রশিক্ষিত ও কর্মক্ষম বেকার যুবকের সংখ্যা ৪ কোটির অধিক। কর্মসংস্থানের অভিশাপে সমাজ জর্জরিত। এর মধ্যে ঘুষ-দুর্নীতি ও তোগলগী কর্মকাÐের কারণে সমাজে নৈরাজ্য ও অস্থিরতা। অন্যদিকে গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা বিনির্মানেও আমরা তেমন কোনো সফলতা অর্জন করতে পারিনি। এক কথায় মুক্তিযুদ্ধের প্রায় সকল আকাক্সক্ষায়ই আজ বিস্মৃত প্রায়। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য সকল দেশপ্রেমিক গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ নিতে হবে। অ্যালায়েন্সের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির ভাষণে ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্সের চেয়ারম্যান জননেতা আলমগীর মজুমদার উপরোক্ত বক্তব্য রাখেন।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে দেশের ‘মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস’ উপলক্ষে ডেমোক্রেটিক আলোচনা সভা সঞ্চালনা করেন-অ্যালায়েন্সের মহাসচিব অ্যাড. মোঃ নূরুল ইসলাম খান। আলোচনা সভায় সম্মানিত আলোচকবৃন্দের মধ্যে ছিলেন, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাও.আব্দুল লতিফ নেজামী, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মহাসচিব কাজী আবুল খায়ের, বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের যুগ্ম-মহাসচিব অধ্যাপক মাও. এটিএম হেমায়েত উদ্দিন এবং ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্সের কো-চেয়ারম্যান সর্বজনাব-আলী নূর রহমান খান সাজু, ড. ক্যাপ্টেন রেজাউল করিম চৌধুরী, এম এ রশিদ প্রধান, রুমা আলী ও অ্যাড. খায়রুল আহসান। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মীর্জা আমিন আহম্মেদ ইয়ান, মাও. আনিসুর রহমান শেখ, জয়নাল আবেদীন, আব্দুল ওয়াদুদ, বাংলাদেশের স্বাধীনতা পার্টির মহাসচিব-এএএম ফয়েজ হোসেন, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের চেয়ারম্যান এ আর এম জাফরুল্লাহ চৌধুরী, জাতীয় স্বাধীনতা পার্টির মহাসচিব-মিজানুর রহমান মিজু প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।
মাওলানা আব্দুল লতিফ নেজামী তাঁর বক্তব্যে বলেন, স্বাধীনতাকে অর্থবহ করতে হলে, বাংলাদেশের সকল জাতীয়তাবাদী ও ইসলামি মূল্যবোধে বিশ^াসী শক্তির ঐক্য বিনির্মাণের কোনো বিকল্প নাই। মাও. জাফরুল্লাহ খান বলেন-লক্ষ্য হাসিলে সকল ইসলামি রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ সূচনায় এগিয়ে আসতে হবে।
কাজী আবুল খায়ের বলেন-অর্থনৈতিকভাবে বৈষম্যহীন সমাজব্যবস্থা বিনির্মাণে সকল দেশপ্রেমিক শক্তিকে সচেতন ভূমিকা রাখতে হবে। মাও. হেমায়েত উদ্দিন বলেন-দেশের স্বাধীনতা-সাবভৌমত্ব ও কলেমায় বিশ্বাসী সকল শক্তির আজ ঐক্যবদ্ধ হওয়া একান্তই আবশ্যক।




