খেলা

আবার গর্জে ওঠলেন মেসি, শিরোপার দ্বারপ্রান্তে বার্সেলোনা

লা লিগার শিরোপা জয়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত ম্যাচে রোবরার মুখোমুখি হয়েছিল বার্সেলোনা ও আতলেতিকো মাদ্রিদ। লিওনেল মেসির দুরন্ত গোলে সেই মর্যাদার ম্যাচ জিতে শিরোপা জয়ের দিকে কয়েক ধাপ এগিয়ে গেল কাতালান ক্লাবটি। ২৭ ম্যাচে তাদের সংগ্রহ ৬৯ পয়েন্ট। দ্বিতীয় স্থানে থাকা আতলেতিকো মাদ্রিদ সমসংখ্যক ম্যাচে ৬১ পয়েন্ট পেয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার লা লিগার ম্যাচে লাস পামাসের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিল লিও মেসির বাঁ পা। ফ্রি-কিক থেকে তার নেয়া জোরালো শট বিপক্ষ মানবপ্রাচীরের পাস দিয়ে আছড়ে পড়েছিল জালে। সেই গোলটি নিশ্চয়ই আতলেতিকো মাদ্রিদের কোচ ডিয়েগো সিমোনের নোটবুকে উঠে গিয়েছিল। তাই এই ম্যাচে গোলরক্ষককে ডানদিকে বেশি নজর রাখতে বলেছিলেন আর্জেন্টাইন কোচ। কিন্তু মেসি কেন যে অদ্বিতীয় তা আবার প্রমাণ পাওয়া গেল রোববার। ন্যু ক্যাম্পে লা লিগার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তার অসাধারণ গোলেই বিরতিতে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে বার্সেলোনা।
ম্যাচের বয়স তখন ২৫ মিনিট। আতলেতিকো বক্সের সামনে মেসিকে ফাউল করা হলে ফ্রি-কিক পায় বার্সেলোনা। আতলেতিকো গোলরক্ষক জান ওবলাক প্রথম পোস্ট ছেড়ে দ্বিতীয় পোস্টের দিকে শরীর ভাসানোর জন্য তৈরি। মানবপ্রাচীর তৈরি প্রথম পোস্ট কভার করার জন্য। কয়েক পা দৌড়ে এসে শট নিলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকাটি। অনবদ্য ভারসাম্য তো বটেই। তাছাড়া কুঁচকি, পা এবং কোমরের অনবদ্য সংমিশ্রণে বল স্যুইং করল অনেকটা। মানবপ্রাচীরের উপর দিয়ে প্রথম পোস্টের কোণ দিয়ে বল গড়াল জালে। ওবলাক চেষ্টা করেও দলের পতন রোধ করতে ব্যর্থ। বল তার হাতে লেগে গোলে ঢোকে (১-০)।
উল্লেখ্য, ফুটবলজীবনে এটি মেসির ৬০০তম গোল। এরমধ্যে বার্সেলোনার হয়ে তিনি ৫৩৯টি গোল পেয়েছেন। আর্জেন্টিনার জার্সিতে বিপক্ষের জাল কাঁপিয়েছেন ৬১বার।
পরলোকগত স্প্যানিশ ফুটবলার কুইনির (৬৮) স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য ম্যাচের আগে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন দুই দলের ফুটবলাররা। ঘরের মাঠে শুরু থেকেই পাসিং ফুটবল খেলে বার্সেলোনা। আতলেতিকো মাদ্রিদের কোচ ডিয়েগো সিমোনের লক্ষ্য ছিল, দ্রুতগতির প্রতি-আক্রমণে গোল তুলে নেয়া। কিন্তু মাঝমাঠের দখল কোকে-সাউলরা নিতে না পারায় কাঙ্ক্ষিত বল পানান গ্রিজম্যান-ডিয়েগো কস্তারা। প্রথমার্ধের মাঝামাঝি কোমরে চোট পান ইনিয়েস্তা। জোর করে কিছুক্ষণ খেললেও ৩৮ মিনিটে তাকে তুলে নিতে বাধ্য হন কোচ ভালভার্দে। অভিজ্ঞ মিডিওটির জায়গায় মাঠে নামেন আন্দ্রে গোমস।
দ্বিতীয়ার্ধে প্রেসিং ফুটবল খেলে বার্সেলোনাকে চেপে ধরে আতলেতিকো মাদ্রিদ। এই পর্বে পিকে-উমতিতিরা কাঁধে কাঁধ দিয়ে লড়াই করেছেন। তিনটি পরিবর্তন করে ডিয়েগো সিমোনে ম্যাচে সমতা ফেরানোর চেষ্টা করেন। ৮৬ মিনিটে ডিয়েগো কস্তার হেডে নামানো বল থেকে গামেইরোর শট জাল বার্সেলোনার জাল কাঁপালেও তা অফ-সাইডের জন্য বাতিল হয়। এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি ডিয়েগো সিমোনে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button