বিবিধশিরোনাম

ফাস্ট এইড ফাউন্ডেশন সম্প্রদায়িক না কি অ-সাম্প্রদায়িকতা!

বেশ কয়েক দিন ধরে দেখছি আর দেখে যাচ্ছি।তাও আবার জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। গুডি কয়েকের কমেন্ট থেকে এখন পোস্টে রূপ নেওয়া আর সেখান থেকে কত নেগেটিভ মাইন্ডে লেখা। এসব দেখতে দেখতে কিছু শব্দ ভার্চুওয়াল জগৎতে না লিখে বসে থাকতে পারলাম না।
যারা এই ফাউন্ডেশন বিরুদ্ধে লেখালেখি করেছেন। আপনাদের পোস্টি পড়ার পর যা বুঝতে পারলাম ঘুরে ফিরে একটা কথা সম্প্রদায়িক আর বৈষম্য কথা তুলে ধরা হয়েছে। আসলে আমরা হয় তো একটা প্রবাদ বাক্য সকলে পড়েছি- “দৃষ্টি ভঙ্গি পাল্টান, জীবন বদলে যাবে”। এমন দৃষ্টি ভঙ্গি দিয়ে হয় তো দেখা হয়নি। যার জন্য এত নেগেটিভ সাইন্সে ফাউন্ডেশনকে বলতে পারছেন। যিনি লিখেছেন বা যারা সে পোস্টে কমেন্ট করেছেন আপনাদের হয় তো কিছু সত্য তথ্য জানার বাকী আছে। নয় তো চিলে কান নিয়ে গেছে শুনে চিলের পিছু ছুঁটটেন না। এবার আসা যাক কালো-সাদা নিয়ে কিছু কথায়…..
পোস্টটি তে লেখা হয়েছিলো লামায় একপেশী উন্নয়নের নামে সাম্প্রদায়িকতা বীজ বুনন হচ্ছে! এটিও দেখেছি সামনে আসন্ন নির্বাচনে এর প্রভাব পরবে। আবার কমেন্টে লেখা হয়েছে পাহাড়িদের শীত লাগে বাঙ্গালিদের শীত লাগেনা? শিক্ষা কি শুধু উপজাতিদের প্রয়োজন? আপনার এসব প্রশ্নের উত্তর হয় তো নিচে বেশ কয়েক তা ছবি দেখার পর মিলতে পারে। যদি তাও পজেটিভ নেন।
লামায় ফাউন্ডেশন হতে শীতবস্ত্র বিতরণ হয়েছে গজালিয়া ইউনিয়নে। দয়া করে ছবিগুলো ভালো ভাবে দেখবেন। খালি চোখে কোন সমস্যা হলে চশমা নিয়ে দেখার অনুরোধ করবো। প্রথম ছবিতে দেখুন- যে ব্যক্তি শীতবস্ত্র নিচ্ছে তিনি হয় তো কোন পাহাড়ি সম্প্রদায়ের লোক না। অবশ্যই বাঙ্গালি সম্প্রদায়ে। এবার ২য় ছবিটি দেখুন চিকিৎসা ক্যাম্পিং এ ডাক্তার কে দেখানো জন্য লাইনে শীতবস্ত্র নিয়ে কোন সম্প্রদায়ের মানুষ দাঁড়িয়ে আছে বা কারা চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করছে। ৩য় ছবিটি দেখুন ফাউন্ডেশন চেয়ারম্যান কার সাথে কথোপকথন করছেন আর তাদের হাতে কি ধরে আছে। ছবিগুলো হয় তো দেখা শেষ। এবার আসুন আরো কিছু তথ্য জানতে।
আপনারা হয় তো অবগত আছেন, ফাউন্ডেশনের শীতবস্ত্র বিতরণের আগে আমাদের জেলার এম.পি বা চট্রগ্রাম পার্বত্য বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী সহধর্মিণী মেহ্লাপ্রু শীতবস্ত্র বিতরণ করেছে গজালিয়া ইউনিয়নে। সংখ্যা হয় তো ৯শত। এই শীতবস্ত্র গুলো উক্ত ইউনিয়নে ১-৬ নং ওয়ার্ডে মানুষদের বিতরণ করা হয়েছে। সেখানে ৭,৮,৯ নং ওয়ার্ডে মানুষ’রা একে বারে পাইনি। কারণ গতবছর যখন আমরা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ত্রাণ বিতরণ করতে গিয়েছিলাম তখন আমি নিজে ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শ্রদ্ধেয় মোঃ শামসুদ্দোহা তাপস দাদা কাছ এলাকার মানুষের জন্য শীতবস্ত্র চেয়ে ছিলাম। তিনি আমাকে পাঠাবেন কথা দিয়েছিলেন। তারও প্রেক্ষাপটে দাদা আমাকে ঢাকা থেকে শীতবস্ত্র পাঠায় আর নিজ পাড়ায় সদ্য ধাম্মাজীহ্না শিশু সদনে জন্য শিক্ষা উপকরণ ৭৪টি ব্যাগ পাঠায়।
প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের সহধর্মিণী শীতবস্ত্র বিতরণের আগে আমি নিশ্চিত হয় ফাউন্ডেশন হতে ৬শ শীতবস্ত্র ও ৭৪টি শিক্ষা উপকরণ পাঠানো হবে। যার জন্য গজালিয়া ইউনিয়নে সে তিনটি ওয়ার্ডে (৭,৮,৯) মানুষকে শীতবস্ত্র বিতরণে তালিকায় রাখা হয়নি। আজ ফাউন্ডেশন হতে শীতবস্ত্র গুলো পেয়েছি বলে ইউনিয়নের প্রত্যেকটি পাড়ার মানুষের মাঝে একটি হলেও শীতবস্ত্র পৌছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। গজালিয়া ইউনিয়ন মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণের পর লামা পৌরসভায় ১নং ওয়ার্ডে চাম্পাতলী হিন্দু পাড়ায় বাঙ্গালী ও হিন্দু ধর্মবলম্বী ৫০ পরিবারে মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করি। যদি কারো এ বিষয়ে বিন্দু মাত্র সন্দেহ থাকে তাহলে হিন্দু পাড়ায় এসেই খোঁজ নিয়ে দেখতে পারেন। এই ফাউন্ডেশন উদ্যোগে যে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ১৫টন ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ, উত্তর বঙ্গে বন্যায় প্লাবিত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ, কোরবানি ঈদে গরু কিনে এতিমখানায় বিতরণ কথা হয় তো লেখা থেকে বাদ দিলাম। এরপরেও সন্দেহ লাগলে First Aid Foundation গ্রুপ পেজ হতে একটু ঘুরে আসতে পারেন। তাহলে হয় তো মনের সন্দেহ তা জেরে ফেলে সঠিক অংক মিলাতে পারবেন।
এবার তাহলে আমার মনের মাঝে কিছু প্রশ্ন রইলো –
১. যদি সাম্প্রদায়িক দিক দিয়ে পাহাড়ি কথা চিন্তা করতাম তাহলে নিজ এলাকায় বিতরণ না করে কেন চাম্পাতলী ৫০টি পরিবারকে শীতবস্ত্র বিতরণ করতাম?
২. সাম্প্রদায়িক যদি চিন্তা করতাম তাহলে কেন বা ক্যোলাইকা পাড়ায় বমু বিলছড়ি ইউনিয়নে বাঙ্গালিকে শীতবস্ত্র বিতরণ করতাম?
৩. যিনি বলেছেন আমার ওর্য়াডে কেও কোন দিন ফাস্ট এইস ফাউন্ডেশন হতে কোন কিছু পায়নি, তবে তাহলে সে দিন ২৫০ টি শীতবস্ত্র কারা নিয়ে গেছিলো?
৪. ফাউন্ডেশন আর এনজিও মধ্যে পার্থক্য অনেক। এনজিও না, তবে কেন অন্যের অনুমতি সাপেক্ষে ফাউন্ডেশনের ত্রাণ বিতরণ করতে হবে? স্বাধীন বাংলাদেশে কোন আইনে কি লেখা আছে কাও কে কিছু বিতরণ করতে অনুমতি লাগবে?
ভাই আপনারা কোন কিছু কে নেগেটিভ না নিয়ে পজেটিভ নেওয়া মনোভাব কি সৃষ্টি করতে পারেন না। আমি হয় তো নিজ এলাকার মানুষের স্বার্থে কারো কাছ থেকে খোঁজে নিয়েছি, আপনারা কি পারেন না তেমন কারো থেকে খোঁজে নিয়ে গরিব দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়াতে? সন্তান যেমন কান্না না করলে মা সন্তান কে দুধ খাইয়ে দেই না তেমনি আমিও কেঁদে নই স্যোসাইল মিডিয়ায় পোস্ট দিয়ে চেয়ে ছিলাম। যার জন্য এই শীতে আজ কিছু মানুষ শান্তিতে ঘুমাতে পারছে।
আমার কথায় যদি কোন মনে কষ্ট পান তাহলে ছোট হিসেবে ক্ষমা করে দিয়েন। কাউকে উদ্দেশ্য করে লেখাটি নয়, শুধু সকলের সু-বুদ্ধি উদয় হোক সে প্রয়াসে।
লেখা: উথোয়াই মারমা জয়

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button