সুস্থ থাকুন

মেথির এক দানায় এতো গুণ!

মেথি, সবজি জাতীয় খাবারে স্বাদ কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়। তবে কেউ কেউ এর ঘ্রাণ সহ্য করতে পারেন না। তাই রান্নায় তো দুরের কথা মেথি ঘরেই আনেন না। কিন্তু আপনি যদি মেথির ঔষুধি গুণ জানতেন, তাহলে হাতের কাছেই রাখতেন।
একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে দূষিত পরিবেশ এবং ভেজাল খাবারের রাজ্যে সুস্থভাবে বেঁচে থাকা সম্ভব, যদি প্রতিদিন মেথি খাওয়া যায় তো! কারণ এই প্রকৃতিক উপাদানটির মধ্যে রয়েছে ৩৫.৫ ক্যালরি, ৬.৪ গ্রাম প্রোটিন, ০.৭ গ্রাম ফ্যাট, ২.৭ গ্রাম ফাইবার এবং ৩.৭ মিলিগ্রাম আয়রন। এছাড়ও মজুত রয়েছে ম্যাঙ্গানিজ, কপার, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস এবং ভিটামিন বি৬-এর মতো পুষ্টিকর উপাদান, যা নানা দিক দিয়ে শরীরে গঠনে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। আর এই কারণেই তো সেই ১৫০০ বিসি থেকে মেথি বীজের ব্যবহার হয়ে আসছে এই পৃথিবীতে।
ইতিহাসের পাতা উল্টালে জানা যায়, এই প্রকৃতিক উপাদানটির ব্যবহার প্রথম শুরু হয় মিসরে, তারপর গ্রিস এবং রোম হয়ে তা ছড়িয়ে পরে বাকি জয়গায়। এমনকি আয়ুর্বেদ সম্পর্কিত একাধিক প্রাচীন বইয়েও মেথি বীজের ঔষধি গুণের উল্লেখ পাওয়া যায়।
নিয়মিত এ প্রাকৃতিক উপাদানটি গ্রহণ করলে সাধারণত যে যে শারীরিক উপকারগুলো পাওয়া যায়, সেগুলো হলো-
১. হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে : পেটের সমস্যায় মেথি খুব উপকারি। মেথি পানিতে ভিজিয়ে নিয়মিত খাওয়া শুরু করলে একদিকে যেমন পেট খারাপের মতো রোগ সেরে যায়, তেমনি কনস্টিপেশন এবং স্টমাক ইনফ্লেমেশনের মতো সমস্যাও কমতে শুরু করে। সেই সাথে বদ হজম এবং গ্যাস-অম্বলের মতো রোগও দূরে পালায়। আসলে মেথি বীজে উপস্থিত ফাইবার এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।
২. খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায় : একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত মেথি বীজ খাওয়া শুরু করলে রক্তে উপস্থিত খারাপ কোলেস্টেরল এবং ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা কমতে শুরু করে। ফলে আর্টারি ব্লক হয়ে গিয়ে হার্টের কোনো ধরনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা একেবারে কমে যায়। সেই সাথে হার্টের কর্মক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়। ফলে যে কোনো ধরনের করোনারি আর্টারি ডিজিজে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও একেবারে কমে যায়।
৩. শরীরের অন্দরে প্রদাহ কমায় : ইন্টারন্যাশনাল ইমিউনোফার্মাকোলজি পত্রিকায় প্রকাশিত এক গবেষণা পত্র অনুসারে, মেথি বীজে উপস্থিত অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরে প্রবেশ করার পর প্রদাহ এতো মাত্রায় কমিয়ে দেয় যে মুখের আলসার, ফোঁড়া, ব্রঙ্কাইটিস, টিউবারকুলোসিস, সর্দি-কাশি এবং ক্যান্সারের মতো রোগও ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না। সেই সাথে কিডনির কর্মক্ষমতাও বাড়ে।
৪. মায়ের দুধের জোগান বাড়ায় : বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যেসব মায়েরা এখনও বাচ্চাদের মায়ের দুধ খাইয়ে থাকেন, তারা যদি নিয়িমত মেথি বীজ খেতে পারেন, তাহলে দুধের জোগান বেশ বেড়ে যায়। এই কারণেই তো প্রসবের পর অনেক মাকেই চিকিৎসকরো নিয়মিত এই প্রকৃতিক উপাদানটি খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।
৫. যন্ত্রণা কমায় : কোথাও কেটে গেলে বা পেশীতে চোট লাগালে সেখানে যদি অল্প করে মেথি বীজ লাগানো যায়, তাহলে যন্ত্রণা কমতে একেবারেই সময় লাগে না। কারণ মেথিতে উপস্থিত রয়েছে প্রচুর মাত্রায় অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি প্রপাটিজ, যা জ্বালা-যন্ত্রণা কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। প্রসঙ্গত, একজিমা, গাউট এবং পায়ের আলসারের মতো রোগ সারাতেও মেথি বীজ বিশেষ ভূমিকা নিয়ে থাকে।
৬. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে শক্তিশালী করে : বেশ কিছু আয়ুর্বেদ গ্রন্থে এমন উল্লেখ পাওয়া যায় যে নিয়মিত মেথি বীজ খাওয়া শুরু করলে ইমিউনিটি এতটা বেড়ে যায় যে, ছোট-বড় কোনো রোগই ধারে কাছে ঘেঁষতে পারে না। সেই সাথে সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও হ্রাস পায়।
৭. ব্লাড সুগারকে নিয়ন্ত্রণে রাখে : পরিবারে যদি ডায়াবেটিস রোগের ইতিহাস থাকে, তাহলে এখন থেকেই মেথি বীজ খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন উপকার মিলবে। কারণ একাধিক স্টাডিতে একথা প্রমাণিত হয়ে গেছে যে, এই প্রকৃতিক উপাদানটি ইনসুলিনের কর্মক্ষমতা বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ার কোনো আশঙ্কাই থাকে না।
৮. ওজন হ্রাসে সাহায্য করে : শুনতে আজব লাগলেও একথা ঠিক যে শরীরের অতিরিক্ত মেদ ঝরিয়ে ফেলতে বাস্তিবিকই সাহায্য করে এই প্রকৃতিক উপাদানটি। আসলে মেথি বীজে থাকা পুষ্টিকর উপাদানেরা এত মাত্রায় হজম ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয় যে শরীরে অতিরিক্ত মেদ জমার সুযোগই পায় না।
সূত্র : ইন্টারনেট

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button