শিরোনামশীর্ষ সংবাদ

ট্রাম্পের জেরুসালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণায় ঢাকায় ইসলামপন্থী সংগঠনের বিক্ষোভ

সবচেয়ে বড় প্রতিবাদ হয়েছে ঢাকার বায়তুল মোকাররম মসজিদের বাইরে জুম্মার নামাজের পর।

আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুসালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসাবে স্বীকৃতি দেবার ঘোষণার প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশের বিভিন্ন ইসলামপন্থী সংগঠন।

শুক্রবার জুম্মার নামাজের সময় বাংলাদেশের বিভিন্ন মসজিদে ইমামরা এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করে বক্তব্য দিয়েছেন। তাদের সাথে একমত পোষণ করেছেন আগত মুসল্লীরা।

সবচেয়ে বড় প্রতিবাদ হয়েছে ঢাকার বায়তুল মোকাররম মসজিদের বাইরে জুম্মার নামাজের পর।

ঢাকায় ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত শুক্রবার বায়তুল মোকাররম মসজিদে জুম্মার নামাজে অংশ নিয়েছিলেন। বায়তুল মোকাররম মসজিদে নামাজের আগে খুৎবার সময় ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করা হয়েছে।

নামাজ শেষে বিভিন্ন ইসলামপন্থী সংগঠন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘোষণার প্রতিবাদে মিছিল সমাবেশ করে। এসব মিছিল সমাবেশে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং ইসরায়েল বিরোধী নানা শ্লোগান দেয়া হয়।

এসব সমাবেশের মধ্যে একটি ছিল ইসলামপন্থী সংগঠন হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ। সেই সমাবেশ থেকে আগামী বুধবার ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস ঘেরাও এবং স্মারকলিপি দেবার ঘোষণা করা হয়।

ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন এবং সহমর্মিতা বাংলাদেশে বেশ পুরেনো। বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই স্বাধীন ফিলিস্তিনের প্রতি অকুন্ঠ সমর্থন রয়েছে। এর একটি বড় কারণ হচ্ছে, বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষ ফিলিস্তিনের সংগ্রামকে মুসলমানদের সংগ্রাম হিসেবেই দেখে।

ঢাকায় জেরুসালেম ইস্যুতে বিক্ষোভ

শুক্রবারের সমাবেশে যারা অংশ নিয়েছেন তাদের অনেকেই বলেছেন, জেরুসালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণার মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ইসলাম বিদ্বেষী মনোভাবের বহি:প্রকাশ ঘটিয়েছেন।

সমাবেশ আসা একজন বলেন, “এটা ডেনাল্ড ট্রাম্পের একটা পাগলামি বলা যায়।”

আরেকজন অংশগ্রহণকারী বলেন, “প্রেসিডেন্ট হবার আগেই সে (ট্রাম্প) এরকম এজেন্ডা নিয়েই আসছে যে ইসলামকে এরকম একটা অবস্থায় ফেলবে।”

সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, জেরুসালেম মুসলিমদের জন্য একটি পবিত্র জায়গা কারণ এখানে আল-আকসা মসজিদ অবস্থিত। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘোষণাকে ”হঠকারী” বলেও মন্তব্য করেন তারা।

জেরুসালেমকে রাজধানী ঘোষণা করার বিরুদ্ধে এরই মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই ঘোষণা মুসলিম বিশ্বে গ্রহণযোগ্য নয়। ফিলিস্তিন-ইসরায়েল বিষয়ে জাতিসংঘের প্রস্তাবকে অগ্রাহ্য করা কেউ মেনে নেবে না বলে শেখ হাসিনা বলেন।

ঢাকার রাস্তায় ট্রাম্প ঘোষণার বিরুদ্ধে বিক্ষোভের সময় পুলিশের উপস্থিতি
Image captionঢাকার রাস্তায় ট্রাম্প ঘোষণার বিরুদ্ধে বিক্ষোভের সময় পুলিশের উপস্থিতি

অন্যদিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবারই এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ১৯৬৭ সালের সীমান্তের ভিত্তিতে পূর্ব জেরুসালেমকে রাজধানীর মাধ্যমে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে বাংলাদেশের অবস্থান।

বাংলাদেশ সরকার যেখানে এর প্রতিবাদ করছে সেখানে রাস্তায় বিক্ষোভ করে কী লাভ হবে?

এমন প্রশ্নে সমাবেশে যোগ দেয়া একজন বলেন, “এ প্রতিবাদের মধ্যে দিয়ে মুসলমান বিশ্বে ঐক্য সৃষ্টি হইতেছে। ফিলিস্তিনের ভাইদের আমরা উৎসাহ দিচ্ছি। আমরা দূরে থেকে হলেও তাদের সাথে আছি।”

বিক্ষোভকারীরা মনে করেন, জেরুসালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী ঘোষণার মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পুরো বিশ্বকে অস্থিতিশীলতার দিকে নিয়ে যাচ্ছেন।

বিবিসি

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button