শিরোনামশীর্ষ সংবাদ

বায়ু দুষণে ঢাকা বিশ্বে দ্বিতীয়: দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকিতে নগরবাসী

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) রাজধানী ঢাকাসহ বড় বড় শহরগুলোকে বায়ু দূষণের হাত থেকে রক্ষা করতে মেয়াদোত্তীর্ণ সকল সিএনজি অটোরিক্সা ও মোটর যানবাহন অবিলম্বে নিষিদ্ধ করা এবং অসমন্বিত, অপরিকল্পিত ও অপচয়মূলক রাস্তা খোড়াখুড়ি বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে।
আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিবেচনায় ঢাকা সারা বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বায়ু দূষণ ও বসবাসের অযোগ্য শহর হিসেবে ইতোমধ্যে আখ্যায়িত হয়েছে।
পরিবেশবাদী সংগঠনটির পক্ষ থেকে গতকাল সোমবার রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলন করে মহানগরীর বায়ু দুষণের প্রধান উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বাস-ট্রাক-সিএনজি অটোরিক্সা জাতীয় মোটরযান ও কলকারখানা থেকে নিঃসরিত ধোঁয়া। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে শহরের চারপাশে কয়েক হাজার ইটের ভাটা থেকে ছড়িয়ে পড়া কালো ধোঁয়া।
বায়ু দুষণ রোধে বাপা’র পক্ষ থেকে নয় দফা সুপারিশ করা হয়েছে। বায়ু দুষণের স্বাস্থ্য ঝুঁকি প্রসঙ্গে বাপা’র সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. আব্দুল মতিন রেডিও তেহরানকে জানিয়েছেন, বায়ু দূষণে চরমভাবে বিপর্যস্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত রাজধানী শহর ঢাকা থেকে শুরু করে বিভাগীয়, জেলা এমনকি উপজেলা অধিবাসী সবাই। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ মানুষের কাছে ধুলাপূর্ণ শহরের জীবন আজ চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন- বিগত দুই দশক ধরেই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষের মৃত্যু হচ্ছে ফুসফুস তথা শ্বাসনালীর অসুস্থতার কারণে। আর এ জন্য দায়ী অন্যতম প্রধান উপাদান হচ্ছে ধোঁয়া ও ধুলাবাহিত রাসায়নিক পদার্থ ও রোগ জীবাণু।
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতির বক্তব্যে সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, বায়ুদূষণের প্রভাবে মানুষ দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে। ঢাকাসহ বড় বড় শহরে পরিকল্পনাহীনভাবে পরিবহন ব্যবস্থা চলছে, যা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। পরিবহন ব্যবস্থার পুনর্বিন্যাস দাবি করে তিনি বলেন, যারা বায়ুদূষণের জন্য দায়ী তাদেরকে আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
বায়ু দুষণ রোধে বাপা’র পক্ষ থেকে উত্থাপিত সুপারিশগুলির মধ্যে রয়েছে: মেয়াদোত্তীর্ণ সকল সিএনজি অটোরিক্সা ও মোটর যানবাহন অবিলম্বে নিষিদ্ধ করতে হবে; রিকন্ডিশন্ড প্রাইভেট গাড়ি, মাইক্রোবাস, ছোট-বড় ট্রাক আমদানি নির্দিষ্ট ও সংক্ষিপ্ত সময়ভিত্তিক পরিকল্পনার মাধ্যমে বন্ধ করতে হবে; যান নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও প্রশাসনকে নির্মোহ, দুর্নীতিমুক্ত ও পরিবেশ সচেতন করতে হবে। ভোর ছয়টার মধ্যে সমস্ত শহরের রাস্তার ঝাড়ুকর্ম সম্পন্ন করতে হবে। একই সময়ের মধ্যে ময়লাবাহী সমস্ত ট্রাকগুলোকে ঢাকনা সহযোগে, ময়লা পরিবহন নিশ্চিত করতে হবে।
তাছাড়া, সেকেলে পদ্ধতির সমস্ত ইটভাটা বন্ধ করে হাইব্রিড হফম্যান বা জিগজ্যাগ পদ্ধতির ইটভাটা চালু করা এবং এ জন্য প্রয়োজনে স্বল্প সুদে ইটভাটার মালিকদের ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করারও পরামর্শ দিয়েছে বাপা।
পরিবেশবাদী সংগঠনটির সুপারিশের মধ্যে আরো রয়েছে, কাঠ পোড়ানো ও যত্রতত্র গাছকাটা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করতে হবে, নিম্নমানের কয়লা আমদানি বন্ধ করতে হবে এবং দেশব্যাপি সকল কাজেই সৌরসহ বিকল্প টেকসই জ্বালানি ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
পার্সটুডে

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button