জাতীয়শিরোনাম

ডিআরইউ অ্যাওয়ার্ড পেলেন নয়া দিগন্তের মেহেদী হাসান

দৈনিক নয়া দিগন্তের সিনিয়র রিপোর্টার মেহেদী হাসান চলতি বছর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) বেস্ট রিপোর্টিং অ্যাওয়ার্ড লাভ করেছেন। শিক্ষা বিষয়ে ‘পাঠ্যবইয়ের বিষয় নির্বাচন’ শীর্ষক সিরিজ রিপোর্টের জন্য তিনি এ পুরস্কার পান। পুরস্কার হিসেবে তাকে ৫০ হাজার টাকা এবং ক্রেস্ট দেয়া হয়। এ নিয়ে পরপর তিনবার তিনি ডিআরইউ অ্যাওয়ার্ড লাভ করলেন।
ডিআরইউ ভবনের স্বাধীনতা হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু আজ এ পুরস্কার তুলে দেন। দৈনিক সংবাদপত্র, টেলিভিশন, রেডিও এবং অনলাইন মিডিয়া মিলিয়ে মোট ২৯ জন সাংবাদিককে ২৭টি বিষয়ে সেরা রিপোর্টিংয়ের জন্য এ বছর পুরস্কার দেয়া হয়।
এর আগে মেহেদী হাসান ২০১৫ সালে শিক্ষা বিষয়ে এবং ২০১৬ সালে কৃষি বিষয়ে এ পুরস্কারে ভূষিত হন।
চলতি বছর শিক্ষা বিষয়ে পুরস্কারপ্রাপ্ত নয়া দিগন্তের সিনিয়র রিপোর্টার মেহেদী হাসান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে বিএ (অনার্স) ও এমএসএস ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তার গ্রামের বাড়ি পিরোজপুর জেলার স্বরূপকাঠী থানার সোহাগদল গ্রামে।
তিনি বিভিন্ন বিষয়ে নিয়মিত লেখালেখি করেন। ভারতে মাওবাদের উত্থান গ্রন্থসহ তার বেশ কিছু গবেষণা কর্ম রয়েছে।
ব্যক্তি জীবনে তিনি বিবাহিত এবং দুই মেয়ে ও এবং এক ছেলের গর্বিত পিতা।
সংবাদপত্র বিভাগে সেরা রিপোর্টিংয়ের জন্য নয়া দিগন্ত ছাড়া আর যারা পুরস্কার পেয়েছেন তারা হলেন- মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে ডেইলি স্টারের মাসুম আল জাকী, অবজেকটিভ ইকোনোমি বিষয়ে ঢাকা ট্রিবিউনের ইব্রাহিম হোসেন, নগরীর সমস্যা ও সম্ভাবনায় ডেইলি স্টারের হেলিমুল আলম বিপ্লব, অপরাধ ও আইন-শৃঙ্খলায় প্রথম আলোর রোজিনা ইসলাম, সংসদ ও নির্বাচন কমিশন বিষয়ে কালেরকণ্ঠের কাজী হাফিজ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের আজিজুর রহমান রিপন, বৈদেশিক সম্পর্ক (কূটনীতি ও জনশক্তি) যৌথভাবে ডেইলি স্টারের শাখাওয়াত লিটন ও ইনাম আহমেদ, ক্রীড়ায় প্রথম আলোর মাসুদ আলম, স্বাস্থ্যখাতে ডেইলি স্টারের পরিমল পালমা, রাজনীতি প্রশাসন ও বিচার ব্যবস্থায় সমকালের আবু সালেহ রনি, কৃষি ও পানি ব্যবস্থাপনায় জনকণ্ঠের কাওসার রহমান, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি মানবকণ্ঠের এম মামুন হোসেন, আর্থিক খাতে (ব্যাংক ও পুঁজিবাজার) ভোরের কাগজের মরিয়ম মনি সেঁজুতি, নারী ও শিশু অধিকার বিষয়ে যুগান্তরের শিপন হাবিব ও সমকালের সাজিদা ইসলাম পারুল।
টেলিভিশন বিভাগে সেরা রিপোর্টিংয়ের জন্য যারা পুরস্কার পেয়েছেন তারা হলেন- অর্থনীতি বিষয়ে চ্যানেল ২৪-এর ফারুক আহমেদ মেহেদী, নগরীর সমস্যা ও সম্ভাবনা বিষয়ে মাছরাঙা টিভির বদরুদ্দোজা বাবু, অপরাধ ও আইন-শৃঙ্খলায় ৭১ টেলিভিশনের পারভেজ নাদির রেজা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ে এনটিভির এম এম ইসলাম (মইদুল), ক্রীড়ায় এসএ টিভির শফিকুল ইসলাম শিপলু, সুশাসন ও দুর্নীতিতে ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভির মাহবুবুল আলম লাবলু, নারী শিশু ও মানবাধিকারে চ্যানেল ২৪-এর মাসউদুর রহমান, স্বাস্থ্যে এনটিভির হাসান জাবেদ।
অনলাইন বিভাগে নারী, শিশু ও মানবাধিকার বিষয়ে বাংলা নিউজ২৪ ডটকমের সেরাজুল ইসলাম সিরাজ, উন্নয়ন ও সম্ভাবনা বিভাগে রাইজিংবিডির রফিকুল ইসলাম মন্টু এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ে সাঈদ শিপন।
রেডিও বিভাগ থেকে সেরা রিপোর্টিংয়ের জন্য পুরস্কার পেয়েছেন বিবিসি’র আহরার হোসেন।
পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিআরইউ সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশা। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সেরা রিপোর্ট বাছাইয়ের জন্য গঠিত জুরি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও ডিআরইউর সাবেক সভাপতি শাহজাহান সরদার, ডিআরইই সাধারণ সম্পাদক মুরসালিন নোমানী। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ডিআরইউ অর্থ সম্পাদক মানিক মুনতাসির। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডিআরইউ সাংগঠনিক সম্পাদক জিলানী মিল্টন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু সাংবাদিকদের সংগঠন সম্পর্কে বলেন, সংগঠনগুলো লক্ষ্য অনুযায়ী কাজ করলে গণতন্ত্র সংহত হয়। ডিআরইউ তাদের ঐক্য বজায় রেখে কাজ করে যাচ্ছে এ জন্য ধন্যবাদ। তিনি বলেন, গাণমাধ্যম রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। রাষ্ট্রের অন্যান্য স্তম্ভ ক্ষতিগ্রস্ত হলে গণমাধ্যমও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গণতন্ত্রকে সুসংহত করার জন্য তিনি গণমাধ্যমকে সঠিক ভূমিকা পালনের আহবান জানিয়ে বলেন, স্বাধীনতাপূর্ব পাকিস্তান বিরোধী আন্দোলনের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা স্মরণীয় হয়ে আছে। দেশে জঙ্গিবাদ সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধেও গণমাধ্যমকে সোচ্চার হওয়ার আহবান জানান তিনি।
শাখওয়াত হোসেন বাদশা বলেন, ডিআরইউ সত্যিকারের গণতন্ত্র চর্চায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। রাজনীতির কারণে অনেক সংগঠন ব্রাকেটবন্দী হয়েছে। ডিআরইউ’র উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা বজায় রাখার জন্য সদস্যদের প্রতি তিনি সঠিক নেতৃত্ব বাছাইয়ের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button