বিবিধশিরোনাম

অবহেলিত এক জনগোষ্ঠীর গল্প

।। নুরুল করিম ।।
ইট পাথরের এই যান্ত্রিক শহরে আভিজাত্য যেন এক রকম ঈর্ষান্বিত হয়ে দাঁড়ায় মাঝে মাঝে। যান্ত্রিক এই শহরকে অনেকে আবার ভাগ্য পরিবর্তনের স্থানও মনে করেন। কিন্তু আসলেই কি সবার ভাগ্য পরিবর্তন ঘটে এই শহরের সামাজিক তারতম্যে? কিছু শ্রেণির মানুষ কিন্তু আমাদের চার পাশেই রয়েছে। “ক্ষুদার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়, পূর্ণিমার চাঁদ যেন জলসানো রুটি” সুকান্ত ভট্টাচার্যের এই কবিতার লাইন হয়ত এই শ্রেণির সমস্যায় জর্জরিত মানুষের সাথেই মানায়। দালান কোঠার এই আভিজাত শহরে হরহামেশাই আমাদের চারপাশে এদেরকে দেখে থাকি।
“বেদে” নামেই বেশি পরিচিত এরা। প্রায়ই দেখা যায় বেদেদের ব্যস্ততম এলাকাগুলোতে। কখনো তাবিজ-কবজ বিক্রি করে, কখনো বা সাপের খেলা দেখায়। খুব অবাক হলেও সত্যি যে, বেদেদের একমাত্র উপার্জনের পথ বলতে এই কড়ি বিক্রি ও সাপের খেলা দেখানোই। খুবই সামান্য ওদের জীবন জীবিকা। একটা বেদে পল্লী দেখলে আমরা অনেকেই হয়ত বিস্ময় প্রকাশ করব এই ভেবে যে, জাদুর এই শহরে এভাবেও কেও থাকে, সেটিও আবার আমাদেরই চারপাশে।
ঢাকার সবচেয়ে বড় বেদে পল্লী
ওদের স্থায়ী কোনো থাকার জায়গা নেই বললেই চলে। বসতভিটা বলতে অস্থায়ীভাবে বানানো ছোট ছোট ঘর-বাড়ি। পতিত জায়গাতেই মূলত এরা বসতি গড়ে তোলে। এক রকম যাযাবর বললে খুব বেশি ভুল হবে না। কড়ি বিক্রি করে, সাপের খেলা দেখিয়ে এখন উপার্জন করা প্রায় দুঃসাধ্য তাই বাধ্য হয়ে বেদে মহিলা এবং তরুণীদেরও রাস্তায় রাস্তায় উপার্জনের পথ খুঁজতে দেখা যায় প্রায়ই। রাস্তায় রাস্তায় উপার্জনের পথ খুঁজতে থাকা এই মানুষগুলো কোথায় বসবাস করে? এই প্রশ্নের জবাব জানতে গিয়ে অনেক ঠিকানা এলো হাতের নাগালে। তবে শুনে খুব অবাক হলাম যে ঢাকার বেশ কয়েকটি এলাকাতেই বেদেপল্লী রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম সাভার বেদেপল্লী। যেটা ঢাকার মধ্যে সবচেয়ে বড় বেদে পল্লী।
রাজধানীর সাভারের পশ্চিম পাশ দিয়ে বয়ে গেছে বংশী নদী। নদীর পাশের বেদে গ্রাম বা সাপের পল্লীর কথা হয়তো অনেকেরই জানা। সাভারের অমরপুর, পোড়াবাড়ি, কাঞ্চনপুর ও বক্তারপুর এলাকা নিয়ে ‘সাভার বেদে পল্লী’। এ পল্লীতে প্রায় ৯ হাজারেরও বেশি বেদের বসবাস। এক সময় তারা নৌকায় বসবাস করলেও এখন অধিকাংশ গৃহস্থদের ন্যায় পাকা, আধা পাকা ও টিন দিয়ে ঘর বানিয়ে বসবাস করছে। পেশারও পরিবর্তন হয়েছে। তবে এখনো পূর্বপুরুষের পেশা অনেকে ছাড়তে নারাজ।
এখনো তারা অবহেলিত
সাভার রেডিও কলোনি থেকে একটা রিকশা নিয়ে চললাম বেদে পল্লীর উদ্দেশে। যেতে বিশ মিনিট লাগলো। গিয়েই দেখলাম টুপি মাথায় কিছু লোক বিক্ষিপ্তভাবে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন। পাশেই একটা মসজিদ। সেখানে আসরের নামাযের জামাত হচ্ছে। অল্পক্ষণ পরেই নামায শেষ হল। কিছু লোক মসজিদ থেকে বের হয়ে মাঠের কাছে এল। লাশের নাম শুনে আফসোস করল। বলল, লোকটা বড় ভালো মানুষ ছিল। নিয়মিত মসজিদে নামায পড়ত। কারো কারো মুখে এ ধরনের আরো কিছু ভালো উক্তি। ইমাম সাহেব মসজিদ থেকে বের হয়ে মাঠের দিকে না এসে দক্ষিণ দিকের রাসত্মা ধরে বাজারের দিকে চললেন। তিনি ঐ দিকেই থাকেন। তার সঙ্গে আরো কিছু লোক।
মাঠে দাঁড়ানো কিছু লোক তাকে জানাযার নামাযটা পড়িয়ে যেতে অনুরোধ করলেন। কিন্তু ইমাম সাহেব এলেন না। তার নাকি খুব জরুরি কী একটা কাজ আছে। অন্য কাউকে দিয়ে নামায পড়িয়ে নিতে বললেন। সঙ্গে যে সব লোক ঐ দিকে যাচ্ছিল তারাও কেউ ফিরল না। তবে একজনের একটু অস্পষ্ট উক্তি ভেসে এল- ‘বাইদ্যার জানাযার নামাযে ক্যাডা যাইব।’ কথাটা শুনে মনে সন্দেহ হল, হয়তো এটা আত্মহত্যাকারী বা অপরাধী কোনো লোকের লাশ। খোঁজ নিয়ে জানা গেল তা নয়। ঐ নামাযী লোকটি যেহেতু পেশায় ‘বেদে’ সেজন্য নামাযী মুসলমান হওয়া সত্ত্বেও তার জানাযার নামাযে ঐসব মানুষ অংশ নিলেন না। অল্প কয়েকজন মানুষ অন্য একজনের ইমামতিতে জানাযার নামায পড়লেন। মাঠের মাঝে যারা উপস্থিত ছিলেন তাদের কাতারে বাজারের কিছু পথচারী ও দোকানদার অংশ নিলেন। তখনই বুঝতে পারলাম এই যুগে এসে এখনো তারা অবহেলিত।

এক ঘাটেতে রান্দি বারি মোরা/ অন্য ঘাটে খাই
সরেজমিনে বেদে সম্প্রদায়ের লোকদের সাথে কথা বলে জানতে পারলাম তাদের মানবেতর জীবন-জীবিকা এবং অতিত-বর্তমানের নানা তথ্য। আগে তাদের কোন ঠিকানা ছিলো না। হাট-বাজার, গ্রাম-গঞ্জে সাপ খেলা, সাপ ধরা, ঝাঁড়-ফুক দেয়ার মাধ্যমে তারা জীবিকা নির্বাহ করতে শুরু করে। ঢাকার সাভার ছাড়াও বেদে সম্প্রদায়ের লোক বরিশাল, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, ঝিনাইদহ, ছাতক সহ দেশের প্রায় জায়গাতেই নদীর ঘাটে নৌকায় অথবা পতিত জায়গায় তাবু টাঙ্গিয়ে বসবাস করতে দেখা যায়। বেদে সম্প্রদায়ের বসবাস আদতে নৌকাতেই বেশি। দেখে মনে হয় তারা নৌকাকে বেশি ভালবাসে। ঠিক যেন বাংলা গানের কলির মতোই “এক ঘাটেতে রান্দি বারি মোরা/ অন্য ঘাটে খাই/ মোদের সুখের সীমা নাই”।
সাভার বেদে পল্লীর নেওয়াজ আলী বললেন, ‘১৮-২০ বছর আগেও আজন্ম ভেসে বেড়াতাম নদ-নদীতে। জন্ম, মৃত্যু সবকিছুই হতো জলের ওপর। একেক দলে ২৫/৩০টি সারিবদ্ধ নৌকায় পরিবার নিয়ে একেক স্থানে ১০-১২ দিন অবস্থান করতাম। এক একটা নৌকায় ৫-৬ জন করে থাকতাম। রান্না-বান্না, খাওয়া-দাওয়া থেকে শুরু করে সব নৌকাতেই হতো। এমনকি বিয়েটা পর্যন্ত নৌকাতেই হতো। যেখানে সারিবদ্ধভাবে নৌকা বাঁধতাম তার আশেপাশের গ্রামগুলোর মেঠোপথে ঘুরে পুরুষ সদস্যরা সাপ ধরা ও খেলা দেখানো এবং নারীরা সিংগা লাগিয়ে ঝাড়ফুঁক দেওয়াসহ তাবিজ ও অন্যান্য সামগ্রী বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতাম। কিন্তু দেড়যুগেরও বেশি সময় ধরে জল ছেড়ে স্থলে ঠাঁই নিয়েছে সবাই। গৃহস্থের কাছ থেকে জমি ক্রয় করে স্থায়ী বসবাস শুরু করেছে আমাদের বেদে সম্প্রদায়ের লোকজন।’ তিনি জানালেন, ‘তাদের ছেলেমেয়েরা এখনো লেখা পড়ায় অনেক দূর এগিয়ে গেলেও তাদেরকে মানুষ ঘৃণার চোখেই দেখে।’
তিনি আরো জানান, জন্মসূত্রেই এ পেশায় আছি। তবে ২০০০ সালের পর থেকে অন্যান্য পেশার প্রতিও আমাদের সম্প্রদায়ের লোকরা ঝুকতে শুরু করেছে। ইদানিং মেয়েরা বাংলা সিনেমাতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে এবং সুনামও অর্জন করছে। বেদ উপাধি মূলত কোন শাস্ত্রে নেই। তবুও সাপ ধরি বলে মানুষজন বিভিন্ন নামে আমাদের ডাকে। যেমন বিক্রমপুরে বলা হয় ‘মাল’, কুমিল্লায় ‘বাইদ্যা’, সিলেটে ‘বেজ’, আবার কেউ বলে ‘বেদে’। আমি নৌকায় জন্মেছি। আমার ছেলে মেয়েরাও নৌকায় জন্মেছে। তবে আমার নাত-নাতীনরা জন্মেছে ঢাঙায়।’
সাপ খেলার মজমা আগের মতো জমে না
ওনার সাথে কথা বলার পর হাঁটতে লাগলাম পাড়ার অলিগলি দিয়ে। বেদে পল্লীর মাঝামাঝিতে একটি উঁচু কাঠের বাড়ি চোখে পড়লো। সেখানে একটি শিশু খালি গায়ে খেলা করছে। শরীর ধুলোমাটিতে মাখামাখি। ক্যামেরা তাক করতেই মেয়ে শিশুটি তার মাকে ডাকতে লাগলো। কী হয়েছে, সন্তানের মাসহ অনেকেই বেরিয়ে এলেন ঘর থেকে। এবার ক্যামেরা মায়ের দিকে ঘোরাতেই, তার সে-কি রাগ! ভিড় লেগে গেল বেদেদের। জোলেখা, সুমনা, তৃণা, লাবনি নামে একঝাঁক কিশোরীও ছুটে এলো। তাদের কৌতুহলও কম নয়। সবার শরীরে গহনার সাজ। তারা শাড়ি পরেছে খুব কায়দা করে। ঠোঁটে লিপস্টিক মাখা। চপচপে তেলসহ মাথার চুল পেছনে টেনে, সুন্দর করে খোপা করা। কারো কারো খোপায় নকল ফুলের মালা। নামগুলো জানা গেল তন্নীর সঙ্গে কথা বলে। তন্নী এখনো সিংগা লাগান গ্রামে গ্রামে। তিনি জানান, গ্রামগুলোতে আধুনিকতার কারণে তাদের ব্যবসায় এসেছে মন্দা। এখন তাদের দিয়ে কেউ চিকিৎসা করায় না। সবাই এখন ডাক্তারের কাছে যায়। বন-বাদার কমে যাওয়ায় সাপ ও কমে গেছে। আগে যেখানে ৫০০-৭০০ টাকা রুজি করা যেত এখন সেখানে ১০০-১২০ টাকার বেশি হয় না। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে তাদের বেঁচে থাকতে হিমসিম খেতে হয়। তার সাথে কথা বলে জানা যায়, পুঁথিগত বিদ্যা না থাকলেও সাপ ধরা আর সাপ নিয়ে খেলা দেখানোর কৌশলই এদের জীবিকার একমাত্র অবলম্বন। তবে এখন আর সাপ খেলা দেখানোর মজমা তেমন আগের মতো জমছে না। তাই অনেকে এ পেশা ছেড়ে স্থানীয় বাজারে দোকান খুলে বসেছেন।

এক সময় টাকা দিয়ে মেয়ে কেনাবেচা হতো
তন্নীর কাছ থেকে শুনলাম এখানকার বিয়ের রীতিনীতি। ধরা যায়, এক সময় টাকা দিয়ে মেয়ে কেনাবেচা হতো। ৪০-৫০ হাজার থেকে শুরু করে লাখ টাকা পর্যন্ত বানে বিয়ে করতে হয় ছেলেদের। ওটাকেই তারা বিয়ে বলে! একাধিক বিয়ে বেদে জীবনের স্বাভাবিক ঘটনা। বিবাহ বিচ্ছেদে কোনো মেয়েই ভেঙে পড়ে না। তবে মান-অভিমান যে একেবারেই থাকে না তা নয়। বেদে হলেও মানুষের মন বলে কথা! বিয়ে ভেঙে দেওয়ার নিয়ম বেশ সহজ। বৈঠকে আলোচনা হবে। বিয়ে নতুন হলে মেয়েকে শুধু বানের টাকা ফেরত দিলেই হলো। আর পুরোনো হলে সম্পত্তির অর্ধেক দিতে হবে। কারণটাও যুক্তিসঙ্গত। বেদে সমাজে নারী-পুরুষ উভয়ই সমানতালে খাটে উপার্জনের জন্য। অনেক ক্ষেত্রে ছেলেদের চেয়ে মেয়েরাই এগিয়ে থাকে বেশি। বিয়ের গ-ি কেবল গোত্রের মধ্যেই সীমিত থাকে না। অনেক ছেলেই গৃহস্থ ঘরের মেয়েকে বিয়ে করে আনে দূর-দূরান্ত থেকে। কথার চাতুরি, খেলা দেখানোর কৌশল আর মানুষের মধ্যে সম্মোহন জাগানোর ক্ষমতাই বেদেদের টিকে থাকার হাতিয়ার। এই অস্ত্রের কাছে বহু গৃহস্থ ঘরের ছেলে যেমন মেয়ে ঘরে আনে, তেমনি অনেক বেদেনী মন কেড়ে নেয় অনেক গৃহস্থ ঘরের পুরুষের। মনের খেলা যখন জমে ওঠে, তখন আসে ঘর ছাড়ার পালা। বেদে সমাজ থেকে চলে গিয়ে কেউ কেউ গৃহস্থ ঘরে স্বামী-সংসার করে থিতু হলেও বেশিরভাগই আবার থেকে যায় বাপের বাড়িতে। বেদে পল্লীর মুক্ত স্বাধীন জীবন ছেড়ে তারা থাকতে পারে না চার দেয়ালে বন্দি হয়ে।
সাপ বেচা-বিক্রি বন্ধ রয়েছে
বছর দুয়েক আগেও সাভারের বেদে পল্লীতে সকাল-সন্ধ্যা সাপের হাট বসতো। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সারিসারি বাক্স নিয়ে বিক্রেতারা রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে সাপ বিক্রি করতো। উত্তরাঞ্চলের সাঁওতালরা ও সাপুড়েরা এখানে পাইকারি মূল্যে সাপ বিক্রিয় করতো। তবে এখনো অনেক সাঁওতালকে সাপ ধরে নিয়ে আসতে দেখা যায়। সাপের আকার আর জাত হিসেবে মূল্য নির্ধারণ হতো। লাউ ডোগা, কেউটে, কাল নাগিনী, দু-মাথাওয়ালা, কাটা দুধল বা সোয়া সাংকিনি ও সোরাশ সাপ এ বাজারে বেচাকেনা হতো। সম্প্রতি বন বিভাগের নিষেধাজ্ঞার কারণে সাভার বেদে পল্লীতে প্রকাশ্যে সাপ বেচা-বিক্রি বন্ধ রয়েছে। কিন্তু বেচা-বিক্রি বন্ধ হলেও সবার অজান্তে লুকিয়ে ঠিকই বিক্রি হচ্ছে। বেদে পল্লীর সরদার রমজান আলী, তারা বিভিন্নভাবে অবহেলিত। অন্য সম্প্রদায় ও গৃহস্থ বাড়ির বাসিন্দারা তাদের ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখেন। তারা বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, বিজিএফ কার্ডসহ সরকারেরর দেওয়া সাহায্য সহযোগিতা চাচ্ছেন, কিন্তু সবাই পাচ্ছেন না। পৌরসভাকে নিয়মিত কর পরিশোধ করলেও পৌর এলাকার অমরপুর, পোড়াবাড়ি, কাঞ্চনপুর ও বক্তারপুরের কিছু অংশ তাদের পল্লীতে আধুনিক নাগরিক সুবিধার ছোঁয়া লাগেনি এখনো। রাস্তাঘাট অবহেলিত, নেই ড্রেনেজ সুবিধা, গ্যাস, সড়কবাতিসহ নেই অনেক সুবিধা।
রাস্তার পশ্চিমে মসজিদ আর পূর্ব দিকে একটি মরা খাল। বাচ্চারা সেখানে খেলাধুলা করছে। মাওলানা বললেন, এটা একটা শাখা নদী। এখন মরা বলে মনে হলেও আগে এ খালের যৌবন ছিল। এখন অনেক বাড়তি দোকানসহ জায়গাটা সাধারণ আর পাঁচটা বসতির মতো চেহারা নিয়েছে। নৌকা আর এখানে ভিড়ে না। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, শেষ পর্যন্ত নৌকার জীবন শেষ হয়েই যাবে। পাকা মসজিদ হচ্ছে। অনেক টিনের বাড়তি হয়েছে। কিছুদিন পরে হয়তো পাকা দালান উঠবে। একদিন হয়তো তাদের কাজগুলো গল্প হয়েই থাকবে। এসব ভাবতে ভাবতে ঢাকার দিকে এগুতে থাকলাম।

ইত্তেফাক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button