
বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস। সারা বিশ্বে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে প্রতিবছর ১০ অক্টোবর নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই দিবস পালন করা হয়। ‘কর্মক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্য’ এই শ্লোগানকে প্রতিপাদ্য করে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি পালিত হয়।
দিবসটি উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। এ ছাড়া সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা এবং প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে সভা, সেমিনার, কাউন্সেলিং, শোভাযাত্রাসহ নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য মতে, বিশ্বে ৩০০ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ বিষণ্ণতায় ভুগছে। যার প্রভাব পড়ছে স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা ও উৎপাদনশীলতার ওপর। আর বাংলাদেশে ২০-২৯ বছর বয়সী নারী পোশাক শ্রমিকদের ওপর পরিচালিত একটি জরিপে দেখা যায়, তাদের ৪৩ ভাগ কর্মক্ষেত্রজনিত মানসিক চাপে ভুগছেন।
এ প্রসঙ্গে গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফোরামের সভাপতি মোশরেফা মিশু রেডিও তেহরানকে বলেন, প্রকৃতপক্ষে নারী পোশাক শ্রমিকরা তাদের কর্মক্ষেত্রে শতকরা ৯৯ ভাগই মানসিক চাপে ভুগছেন। তাদের বেলায় কম মজুরি, অতিরিক্ত খাটুনি , অনিরাপদ পরিবেশ এবং কর্মস্থলে যাওয়া-আসার পথে হয়রানির শিকার হওয়া দৈনন্দিন বিষয় হয়ে রয়েছে। এ ব্যাপারে কারখানা মালিকদের বাধ্য করতে হবে যেন নারী শ্রমিকরা তাদের কর্মস্থলে নিরাপদ পরিবেশ পায়, মানসিক শান্তি বজায় রাখার মত বেতন-ভাতা পায়।
বিশ্বে বিষণ্ণতায় আক্রান্ত ৫০ ভাগ কর্মী চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেন না। যুক্তরাজ্যের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী ২৫ ভাগ কর্মী তাদের কর্মক্ষেত্রকে মানসিক চাপ সৃষ্টির প্রধান কারণ হিসেবে মনে করেন। ২০১৩ সালে ৩১টি ইউরোপীয় রাষ্ট্রের ওপর পরিচালিত এক জরিপে ৫০ ভাগেরও বেশি কর্মী তাদের কাজের ধরন ও কর্মক্ষেত্রকে মানসিক চাপের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন।
পার্সটুডে




