জ্বরে প্রাণ গেল কলসিন্দুর কন্যা সাবিনার

দেশের নারী ফুটবলে অবিস্মরণীয় অবদানের জন্য বারবার খবরের শিরোনাম হয়েছে কলসিন্দুরের মেয়েরা। বলতে গেলে এক নামেই তাদের চেনে দেশবাসী। সেই গ্রামে আজ কাঁদছে সবাই। অঝোরে কাঁদছে অনুর্ধ্ব-১৫ নারী ফুটবলার মারিয়া মান্দা। মারিয়ার সঙ্গে কাঁদছে কলসিন্দুরের ফুটবল কন্যারাও। কারণ তাদের ছেড়ে পরপারে পাড়ি জমিয়েছে দেশের আরেক সম্ভাবনাময় ফুটবলার কলসিন্দুরের কন্যা সাবিনা। তাদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার সীমান্তছোঁয়া গ্রাম কলসিন্দুরের সাধারণ মানুষজনও।
বাংলাদেশ অনুর্ধ্ব-১৫ জাতীয় ফুটবল দলের সদস্য সাবিনা আক্তারকে মঙ্গলবার বিকাল তিনটার দিকে ধোবাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সে জ্বরে আক্রান্ত ছিলো।
‘সাবিনার আর আমাদের সঙ্গে ক্যাম্পে যাবে না। হাসি-ঠাট্টা করবে না। কোনো কিছু বুঝে উঠার আগেই চিরদিনের মতো ও হারিয়ে গেলো’ রুদ্ধবাক মারিয়া এটুকু বলেই ফোন রেখে দিলেন। মোবাইলের ওই প্রান্তে তখন বুকফাটা কান্নার শব্দ।
মঙ্গলবার বিকেলে বাংলাদেশ অনুর্ধ্ব-১৫ নারী ফুটবল দলের মিডফিল্ডার সাবিনা আক্তার নিজ গ্রামের বাড়িতে জ্বরে আক্রান্ত হয়ে স্থানীয় ধোবাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাবার পথে মারা যান। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সাবিনা, মারিয়া মান্দারা যার হাত ধরে ফুটবল বিশ্বকে কাঁপিয়ে দিয়েছেন সেই কলসিন্দুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মফিজ উদ্দিনও শোকস্তব্ধ। তিনি জানান, বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে সাবিনার পরিবার থেকে আমাকে ফোন করা হয়। এ সময় জানানো হয়, সাবিনা দু’দিন যাবত জ্বরে আক্রান্ত। এখন খুব অসুস্থ। তাকে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।’ ফোন পেয়েই দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুটে যান তিনি। কিন্তু ততক্ষণে দায়িত্বরত চিকিত্সক তার না ফেরার দেশে চলে যাবার দুঃসংবাদটি দেন।
স্থানীয় ওই বিদ্যালয়ের ক্রীড়া শিক্ষক মফিজ উদ্দিন জানান, বাংলাদেশ অনুর্ধ্ব-১৫ নারী ফুটবল দলের চূড়ান্তপর্বে নির্বাচিত হয়েছিলো সাবিনা আক্তার। দলের জন্য সে ছিল অপরিহার্য এক খেলোয়াড়। তার আকস্মিক মৃত্যুতে একজন প্রতিভাবান ফুটবলারকে হারিয়েছে দেশ।

তিনি জানান, ক’দিন আগে দেশের ৪৬তম গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন কলসিন্দুর নারী ফুটবল দলের সদস্য ছিলো সাবিনা আক্তার। সেই প্রতিযোগিতাতেই সবার নজর কেড়েছিলো সাবিনা। অনন্য এ মেধা অকালেই ঝরে গেলো।
খবর পেয়ে ধোবাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান ও ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা শওকত আলম ধোবাউড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দেখতে যান। এছাড়া বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ ইমরান সালেহ প্রিন্সসহ উপজেলার সর্বস্তরের মানুষ তাকে দেখতে হাসপাতালে আসেন। সাবিনার মরদেহ তার প্রতিষ্ঠান কলসিন্দুর স্কুল মাঠে আনা হলে হাজার হাজার মানুষ, ছাত্র-ছাত্রী, তার সহযোগী ফুটবল-কন্যারা কান্নায় ভেঙে পড়ে। তার এই হঠাত্ মৃত্যু কেউ মেনে নিতে পারছে না।




