এক ঘণ্টাতেই ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারে বাংলাদেশ

অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটসম্যানদের ব্যাটিং দেখে দিন শেষে আফসোসের আর কমতি নেই বাংলাদেশী ক্রিকেটারদের মধ্যে। ইস! আরেকটু টিকে থেকে যদি এক দেড় শ’ রান করে ফেলতাম। তাহলে ম্যাচ নিয়ে আর অতটা টেনশনে পরতে হতোনা। কারণ চার বা সাড়ে চার শ’ রান হয়ে গেলে ম্যাচে একটা ‘ড্র’ হওয়ারও চান্স থাকত। যাতে সিরিজটা আর হাতছাড়া হতো না। এখন তো সিরিজ হাতছাড়া হওয়ারও একটা বাড়তি টেনশন। তবে আপাতত এগুলো নিয়ে ভাবতে চান না বাংলাদেশ দলের অন্যতম ফাইটিং ক্রিকেটার নাসির হোসেন।
মঙ্গলবার ম্যাচ শেষে অকপটে স্বীকার করে গেছেন, ‘হ্যাঁ, আমাদের আরো এক, দেড় শ’ রান করা প্রয়োজন ছিল। আমরা এখানে কিছুটা পিছিয়ে।’
নিজের উদাহরণটা টেনে তিনি বলেন, ‘প্লান ছিল শেষ পর্যন্ত ব্যাটিং করার। সেটা তো আর হলো না।’ নাসিরের আফসোস নিজের ব্যাটিং নিয়েও। আর মাত্র পাঁচটি রান করলে একটা হাফ সেঞ্চুরিও হয়ে যেত তার। ৪৫ রানে আউট হয়ে সেটাতেও বঞ্চিত তিনি।
নাসির অবশ্য বলেন, ‘ওদের (অস্ট্রেলিয়া) চেয়ে এখনো আশি রানে এগিয়ে আমরা। ভালোমতো একটা ঘন্টা সুযোগ পেলে পরিস্থিতি অন্যরকমও হয়ে যেতে পারে।’
নাসিরের আশাবাদ স্বাভাবিক। কিন্তু উইকেটের পরিস্থিতিটা ঠিক ওরকম না। কারণ অস্ট্রেলিয়ানরা নির্বিঘ্নে ব্যাটিং করেছেন। অথচ বাংলাদেশে ইনিংসে সেটা ছিল পুরাপুরি অনুপস্থিত। এখানে প্রশ্ন আসতে পারে,তাহলে বোলিংটা বাংলাদেশ খারাব করল কি-না। নাসির সেটা মানতে নারাজ।
‘আমাদের বোলিংটা ভালো হয়েছে। ওদের ব্যাটিংয়ের স্টাইল দেখলেই বুঝবেন ওরা কতটা স্লো ব্যাটিং করেছে। কারণ ওয়ার্নার স্মিথরা কিন্তু স্লো ব্যাটিংয়ে অভ্যস্থ না। তারা সবসময়ই অ্যাটাকিং ব্যাটিং করেন। কিন্তু ওয়ার্নার কিন্তু স্লো ব্যাটিং করেছেন। ফলে আমাদের বোলিং বেশ ভালো ছিল।’
তবে এ স্পিনিং অলরাউন্ডারের কষ্টটা অন্যখানে। জহুর আহমেদের উইকেটা ক্রমশ ফ্লাড হয়ে যাচ্ছে বলেই তার ধারণা। তিনি বলেন,‘এখানে বোলাররা বাউন্স পাচ্ছে না। উইকেট টু উইকেট বোলিংয়ে টার্নও নেই। অন্যখানে বল পিচ করলে টার্ন হয়। কিন্তু তাতে তো রান হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাইতো দেখবেন আমাদের ফিল্ডিংটাও আমরা রেখেছি দুটি দিক খেয়াল করে। ওরা যাতে শটস খেলতে না পারে এ জণ্য ডিপে ফিল্ডার রেখে। আবার দ্রুত রানও নিতে না পারে সে দিকেও ছিল চোখ।’ প্রশ্ন ছিল ওয়ার্নার ও হ্যান্ডসম্বকে কেন লেগ সাইডে বল দেয়া হচ্ছিল বারবার। অথচ ফিল্ডিং ঠিক উল্টা। নাসির বলেন, ‘দেখবেন ওরা সুইপ খেলতে অভ্যস্ত না। খেলেও না। এ জন্য যাতে রান সেভ করা যায় এ লক্ষ্যেই ছিল ওই প্লান।’
দিন শেষে একটা প্রশ্ন চলেই আসে। তাহলে ম্যাচে কোন অবস্থানে এখন বাংলাদেশ। নাসিরের সরল উক্তি ‘ব্যাকফুটে আমরা। দিন শেষে আমাদের সেটাই মনে হয়। তবে এমন পরিস্থিতি না-ও থাকতে পারে। কারন এখনও যেহেতু আমরা লীডে। ফলে পরিস্থিতি ঘুরে যেতে বেশী সময় লাগবে না।’ এটা ঠিক, ম্যাচের যে গতিবিধি তাতে চট্টগ্রাম টেস্টে উত্তেজনা লেগেই থাকছে। কারণ এখনো অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংস। এরপর ব্যাটিং করবে বাংলাদেশ।
নাসির বলেন,‘আমরা রেজাল্ট নিয়ে ভাবছি না এখনই। কারন ম্যাচ পাঁচ দিনে যাবে সেটা আমরা অনুমান করছি। তাই ৫ দিন খেলার পর ম্যাচ কোন দিকে যাবে সেটা নির্ভর করবে পরিস্থিতির ওপর। আমাদের এখনকার টার্গেট অস্ট্রেলিয়াকে যতদ্রুত সম্ভব অল আউট করা।’
সপ্তম উইকেটে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সর্বোচ্চ রানের জুটি মুশফিকুর ও নাসিরের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে সপ্তম উইকেট জুটিতে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড গড়লেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম ও নাসির হোসেন। চলমান চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম ইনিংসে সপ্তম উইকেট জুটিতে ৪৩ রান যোগ করেন তারা। তাই গত সপ্তাহে ঢাকা টেস্টে অসিদের বিপক্ষে সপ্তম উইকেটে নাসির ও মেহেদি হাসান মিরাজের ৪২ রানের জুটির রেকর্ড ভেঙ্গে যায়।
ঢাকায় নাসির ও মিরাজের ৪২ রানের জুটির আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সপ্তম উইকেট জুটিতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান ছিলো ২৭ রান। ২০০৩ সালে ডারউইনে সপ্তম উইকেট জুটিতে ২৭ রান যোগ করেছিলেন খালেদ মাসুদ ও খালেদ মাহমুদ।



