Uncategorized

হাজারী গুড়ের ঠিকানায় খেজুর বীজ রোপন কর্মসুচি

নজরুল ইসলাম, মানিকগঞ্জ : ”লোকসংগীত ও হাজারী গুড় মানিকগঞ্জের প্রাণের সুর” এই স্লোগানকে মানিকগঞ্জের অন্যতম ঠিকানা ধরে ইতেমধ্যে স্বীকৃতি দিয়েছেন জেলা প্রশাসন। সরকারি, বেসরকরি প্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় গবেষকদের নিরলস প্রচেষ্ঠায় ইতেমধ্যে জেলায় কয়েক শত লোক ঐতিহ্য ফুটিয়ে তুলেছে। তার মধ্যে বাছাই করে মানিকগঞ্জের নবাগত জেলা প্রশাসক মো: নাজমুছ সাদাত সেলিম এম মাধ্যমে লোকসংগীত ও হাজারী গুড়কে জেলার নিজস্ব ব্র্যন্ডিং ঘোষনা করেন।
তারই অংশ হিসেবে মঙ্গলবার ২০১৭ মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং বেসরকারি গবেষনা প্রতিষ্ঠান বারসিক এর সহযোগীতায় হাজারী গুড়ের জন্মস্থান ঐতিহ্যবাহী হরিরামপুর উপজেলার দিয়াবাড়ী গ্রামে দিয়াবাড়ী-দুর্গাপুর রাস্তার পাশে খেজুর বীজ রোপন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সভায় হরিরামপুর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাশিদা আক্তারের সভাপতিত্ত্বে জেলা প্রশাসক মো: নাজমুছ সাদাত সেলিম খেজুর বীজ রোপন কর্মসুচির শুভ উদ্ভোধন ঘোষনা করেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন-এই জেলার যতগুলো ঐতিহ্য আছে তার মধ্যে অন্যতম হলো এই এলাকার হাজারী গুড়। আপনারা জানেন প্রায় সাড়ে তিনশত বছরের ইতিহাস এই গুড়ের। এই গুড় ইতেমধ্যে বৃটিশ অমলের রাজ-রাণীদের সুনাম কুরিযেছে এবং পৃথিবির বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়েছে। কালের আবর্তে হাজারী পরিবার সেই ঐতিহ্য ধরে রাখতে পারছে না, এর জন্য শুধু তারা দায়ী নয় আমরাও দায়ী। আমরা এই দায় শোধ করার অংশ হিসেবে এর প্রধান কাচামাল খেজুর বীজ রোপন কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। কারন গাছ যদি না থাকে গুড় হবে কোথা থেকে তাই আমরা আপনাদের সহযোগীতা চাই খেজুর গাছসহ গাছপালা রোপনে এগিয়ে আসতে হবে। বর্ষায় চারপাশে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মনজুর মুহাম্মদ শাহরিয়ার। তিনি বলেন বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আমরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি এবং গত কয়েক দশকে আশংকাজনকভাবে খেজুর গাছের সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে। আমরা এই গাছ রক্ষা করতে চাই্। এজন্য স্থানীয় উদ্যোগ খুবই জরুরি। আমরা রোপন করলেও আপনারা সহযোগীতা না করলে এটি বাস্থবায়ন হবে না।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন বারসিক এর আঞ্চলিক সমন্বয়কারি বিমল রায়। তিনি বলেন- আমরা গত ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবসে সারা জেলায় ১০ হাজার বৃক্ষ রোপনের প্রত্যয় ঘোষনি করি। তারই অংশ হিসেবে ইতেমধ্যে পাচ হাজার বৃক্ষ রোপন করা হয়েছে। খেজুর বীজ ও তাল বীজ মিলে আরো ১০ হাজার চারা রোপন করতে চাই। আমরা বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের সাথে বিশেষ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠির মান উন্নয়ন, প্রাণ-প্রকৃতি প্রতিবেশ রক্ষার কাজের সাথে থাকতে চাই।
বারসিক সহযোগী গবেষক নজরুল ইসলামের সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন হরিরামপুর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মো: জহির”ল হক, চালা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শামছুল আলম বিশ্বাস, উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান বেগম সাজেদা চৌধুরী, অধ্যাপক বিজয় কুমার রায়, বারসিক কর্মকর্তা সত্ত রঞ্জন সাহা, মুক্তার হোসেন,রাশেদা আক্তার প্রমুখ।
আলোচনা শেষে রাস্তার পাশে খেজুর বীজ এর পাশাপাশি বট ও পাকর গাছ রোপন করা হয়। স্থানীয় লোকজন এই গাছ রোপনের কলেবর আরো বাড়াবে এবং রাস্তার পাশে আরো গাছ রোপন ও রক্ষা করার প্রত্যয় ঘোষনা করেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button