অপরাধশিরোনাম

ধর্ষণের কথা স্বীকার : ইভান চার দিনের রিমান্ডে

পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে গ্রেফতার এড়াতে গত বুধবার ন্যাম ভিলেজের বাড়ির ছাদে আত্মগোপন করেছিলেন বাহাউদ্দিন ইভান। তাকে ধরতে মামলার পর ওই দিনই ইভানের বাড়িতে অভিযানে গিয়েছিল পুলিশ। কিন্তু ইভানকে না পেয়ে পুলিশ চলে যাওয়ার পর সাধারণ পোশাকে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান তিনি। এছাড়া গত মঙ্গলবার জন্মদিনের দাওয়াত দিয়ে বাসায় ডেকে নিয়ে ভুক্তোভোগী তরুণীকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করেছে র‌্যাব।
শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান।
সংবাদ সম্মেলনে শেষে পুলিশের কাছে ইভানকে হস্তান্তর করা হয়। পরবর্তীতে আজ বিকেলে পুলিশ তাকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চায়। শুনানি শেষে মুখ্য মহানগর হাকিম মাজহারুল ইসলামের আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মুফতি মাহমুদ খান জানান, বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লার পশ্চিম দেওভোগে খালার বাড়ি থেকে ইভানকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি তরুণীকে ধর্ষণের বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান বলেন, গত ৫ জুলাই বুধবার এক তরুণী বনানী থানায় ইভানের বিরুদ্ধে একটি ধর্ষণের মামলা করেন। মামলার পর অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি র‌্যাবও আসামিকে ধরতে কার্যক্রম শুরু করে। রেল, বাসস্টেশন, বিমানবন্দর, লঞ্চ টার্মিনালসহ সব স্থানে নজরদারি বাড়ানো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-১১-এর একটি দল নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লার পশ্চিম দেওভোগে অভিযান চালিয়ে ইভানকে গ্রেফতার করে।
র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, মামলার পরই বুধবারই পুলিশ যখন বনানীর বাসায় অভিযান চালায়, সে সময় ছাদে আত্মগোপনে ছিলেন ইভান। পরবর্তী সময়ে পুলিশ বাসা থেকে চলে যাওয়ার পর তিনি বের হন। এর পর বনানীর চেয়ারম্যানবাড়ি এলাকায় আবার আত্মগোপন করেন। সর্বশেষ তিনি ঢাকা থেকে পালিয়ে নারায়ণগঞ্জে যান।
সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, জিজ্ঞাসাবাদে ইভান জানান, তার বাবা একজন ব্যবসায়ী। তিনি (ইভান) ক্যামব্রিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজে নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করেন। এর পর পড়ালেখা ছেড়ে দেন। তখন থেকেই তিনি বাবার ব্যবসা দেখাশোনা করতেন। তবে বিভিন্ন অপকর্মের কারণে ২০০৮ সালে অল্প বয়সে তাকে পরিবার থেকে বিয়ে করানো হয়। তার পাঁচ বছর ও দেড় বছরের দুটি সন্তান রয়েছে। ২০০৫ সাল থেকে ইভান মাদক সেবন করেন। আর দুবার মাদকাসক্তি নিরাময়কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।
ধর্ষণের মামলা করা তরুণীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ইভানের কাছ থেকে কোনো ভিডিও উদ্ধার করা হয়েছে কি-না, জানতে চাইলে মুফতি মাহমুদ বলেন, তা এখনো সম্ভব হয়নি।
এদিকে ইভানকে চার দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।
আজ বিকেল তাকে আদালতে হাজির করে বনানী থানা পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সুলতানা আক্তার তার সাতদিনের রিমান্ড চায়। মুখ্য মহানগর হাকিম মো. মাজহারুল ইসলামের আদালত শুনানি শেষে তার চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
বনানী থানার এসআই আকবার আলী বিষয়টি নিশ্চিত করে সাংবাদিকদের বলেন, আদালত শুনানি শেষে চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। এরপর ইভানকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।
ভুক্তোভোগী তরুণীর মোবাইল ও টাকা উদ্ধারের বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বনানী থানার এসআই সুলতানা আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, তরুণীর টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়ার কারণ ও তা খুঁজে বের করার জন্যই আসামি ইভানকে চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদের শুরুতেই ধর্ষণের কথা স্বীকার করলেও মোবাইল ফোন ও টাকার বিষয়ে ও মুখ খুলতে সময় নিচ্ছে আসামি।
আলামত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভিকটিমের ব্যবহৃত একটি গেঞ্জি আমাদের হেফাজতে আছে। এটি থেকে ডিএনএ শনাক্তকরণের জন্য তা সিআইডির পরীক্ষাগারে পাঠানোর জন্য আদালতের অনুমতি চাওয়া হবে। শুক্রবারের ছুটির দিন হওয়ায় এখনও অনুমতির জন্য আবেদন করা হয়নি।
তদন্ত-সূত্র জানায়, তরুণীর কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া মোবাইল ফোন ব্যবহার করে ধর্ষণ মামলার আসামির সহযোগীরা যেন কোনো ধরনের বিকৃত ও আপত্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দিতে না পারে, সে ব্যাপারেও সতর্কতামূলক কৌশল গ্রহণ করেছেন তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
গত ৪ জুলাই মঙ্গলবার রাতে জন্মদিনের দাওয়াত দিয়ে ন্যাম ভিলেজের বাসায় ডেকে নিয়ে এক তরুণীকে আটকে রাতভর ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ উঠে ব্যবাসয়ী পুত্র ইভানের বিরুদ্ধে। পরের দিন বুধবার দুপুরে ইভানের বিরুদ্ধে বনানী থানায় ধর্ষণের মামলা করেন ভুক্তোভোগী ওই তরুণী (২১)। এরপর গত ৬ জুলাই বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ওই তরুণীর ফরেনসিক পরীক্ষা করানো হয়। ওই দিন সন্ধ্যাই নারায়ণগঞ্জে খালার বাড়ি থেকে র‌্যাব গ্রেফতার করে অভিযুক্ত ইভানকে।
মামলার এজাহারে ওই তরুণী উল্লেখ করেছেন, ১১ মাস আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তাদের বন্ধুত্ব হয়। এর সূত্র ধরেই তাদের দেখা-সাক্ষাৎ হতো এবং ঘোরাঘুরি করতেন তারা। চার মাস আগে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তার সূত্র ধরেই জন্মদিনের দাওয়াতে ওই রাতে তিনি ইভানের বাসায় যান।
ওই তরুণী আরো উল্লেখ করেন, বাসায় জন্মদিনের অনুষ্ঠানের কোনো আলামত দেখি না। আমি ভয় পাই এবং বাসায় আসতে চাই। কিন্তু সে বাসায় আসতে দেয় না। সে আমাকে রাতে খাবার খাওয়ায় এবং নেশাজাতীয় দ্রব্য খাওয়ায়। রাত দেড়টায় ইভান ধর্ষণ করে বলে তরুণী এজাহারে উল্লেখ করেছেন।
তিনি আরো বলেন, আমি চিৎকার করলে ইভান রাত সাড়ে ৩টায় আমার ব্যাগ রেখে আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়।
এজহারে ওই তরুণী অভিযোগ করেন, আমাকে এর আগেও বিবাহের প্রলোভনে ধর্ষণ করে। আমাকে ভয় দেখায়, মুখ খুললে তার কাছে আছে এমন আপত্তিকর দৃশ্য ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিবে।
সুত্রঃ নয়া দিগন্ত

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button