সমুদ্রবন্দরে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত

ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ বাংলাদেশের উপকূলের ৩৪৫ কিলোমিটারের মধ্যে চলে এসেছে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া অধিদফতর। সোমবার বিকেল ৬টায় আবহাওয়া দপ্তর এ তথ্য জানিয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল নাগাদ মোরা বাংলাদেশের চট্টগ্রাম-কক্সবাজার উপকূলে আঘাত হানতে পারে বলে জানিয়ে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত জারি করেছে আবহাওয়া অধিদফতর।
এর আগে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি রবিবার গভীর রাতে ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়ায় সারাদেশে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করে দেয় বাংলাদেশ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।
আবহাওয়াবিদ এ কে এম রুহুল কুদ্দুস জানান, সোমবার বিকাল ৩টায় ঘুর্ণিঝড়টি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৪২৫ কি.মি. দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৩৪৫ কি.মি. দক্ষিণ-পশ্চিমে, মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৮০ কি.মি. দক্ষিণ-পূর্বে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৪১৫ কি.মি. দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অবস্থান করছিল।
উপকূলের দিকে ধেয়ে আসা ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণ হতে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। মোরা পরবর্তী সব ধরণের দুর্যোগ মোকাবেলা করার কথাও জানিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। আগামীকাল মঙ্গলবার সকালে ঘূর্ণিঝড়টি চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তা আরিফুর রহমান জানান, টানা গরমে বঙ্গোপসাগরের ঝড়টি প্রথমে নিম্নচাপে রূপ নিলেও এখন সেটি ঘনীভূত হয়ে ঝড়ে রূপ নিয়েছে। এটির প্রভাবে রাজধানীতে টানা কয়েকদিন ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় সংলগ্ন এলাকায় সাগর অনেক উত্তাল রয়েছে। ফলে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরের জন্য সাত নম্বর বিপদ সংকেত জারি করেছে আবহা্ওয়া অধিদপ্তর। উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নোয়াখালী, লক্ষীপুর, ফেনী এবং চাঁদপুর সাত নম্বর বিপদ সংকেতের অধীনে থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
এছাড়া উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত নৌযানগুলোকে অতিসত্বর নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।
আবহওয়া অধিদপ্তরের মতে, মঙ্গলবার ঘূর্ণিঝড়টি যদি দেশের উপকূল অঞ্চল অতিক্রম করে তখন এর গতিবেগ থাকতে পারে ঘন্টায় ৮৮ কিলোমিটারেরও বেশি।




