ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্প নিহত ৯৭

ভূমিকম্পে ইন্দোনেশিয়ার পিদি জায়ায় ধ্বংসস্তূপ : এএফপিভূমিকম্পে ইন্দোনেশিয়ার পিদি জায়ায় ধ্বংসস্তূপ : এএফপি
ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে আচেহ প্রদেশে গতকাল বুধবার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ৯৭ জনের প্রাণহানি ও আরো অনেক মানুষ আহত হয়েছেন। এখনো অনেক মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা রয়েছেন। ফলে নিহতের সংখ্যা বাড়তে পারে। স্থানীয় কর্মকর্তারা এ কথা জানিয়েছেন। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির তীব্রতা ছিল ৬.৫। এএফপি, বিবিসি ও আলজাজিরা।
পিদি জায়া জেলায় বুধবার ভোরে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এ সময় অনেকে ফজরের নামাজের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ভূমিকম্পে মেউরেউদু শহরের বেশ কয়েকটি মসজিদ ও দোকান মাটির সাথে মিশে গেছে। ভূ-পৃষ্ঠের সামান্য গভীরে এটি আঘাত হানে। ওই প্রদেশ থেকে শীর্ষ সামরিক এবং ত্রাণ কর্মকর্তারা এ কথা জানান।
স্থানীয় সময় ভোর ৫টা ৩ মিনিটে উত্তর সুমাত্রার বান্দা আচেহর ১৩০ কিলোমিটার দণি-পূর্বে ও সিগলি শহরের ১২ কিলোমিটার দণি-পূর্বে ৬.৫ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল সমুদ্রের নিচে, ভূমি থেকে ১৭.২ কিলোমিটার গভীরে।
ভূমিকম্পের পর মার্কিন জিওলজিক্যাল সার্ভে অবশ্য সুনামি সতর্কতা জারি করেনি। ভূমিকম্পের পর ৩০ মিনিটের মধ্যে পাঁচবার আফটার শক অনুভূত হয়। স্থানীয় আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর সুনামির কোনো আশঙ্কা নেই।
আচেহ প্রদেশের সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল তাতাং সুলাইমান স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডিপিএজকে জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে অন্তত ৯৭ জন নিহত হয়েছেন। ভূমিকম্পের পর ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের উদ্ধারে অভিযান চলছে। ন্যাশনাল ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি জানায়, ভূমিকম্পে গভীর আঘাত পাওয়া ৭৮ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে রাস্তায় অবস্থান করছেন। তাদের বাড়িঘরের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়াও ভূমিকম্প পরবর্তী কম্পনের আশঙ্কায় তারা বাড়ি ফিরে যেতে ভয় পাচ্ছেন।
মেউরেউদুর বাসিন্দা হাসবি জায়া (৩৭) জানান, শক্তিশালী ভূমিকম্পটি যখন আঘাত হানে তখন তার পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে ছিলেন।
পিদি জায়া জেলার প্রধান আইয়ুব আব্বাস জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে বেশ কয়েকটি বাড়ি ও দোকান ভেঙে পড়ে। এতে হাজার হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তিনি ধ্বংসস্তূপ সরাতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম এবং জরুরি ওষুধ ও খাদ্য সরবরাহের আহ্বান জানিয়েছেন। ভূমিকম্পের তীব্রতায় বান্দে আচেহতে বহুতল ভবন ভেঙে পড়েছে। তিগ্রস্ত হয় পুলিশ স্টেশনও। উদ্ধারকাজ চলছে। অনেকের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। ধারণা করা হচ্ছে তাদের অনেকেই ধ্বংসস্তূপে আটকা পড়েছেন। নিহতের সংখথ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ইন্দোনেশিয়া ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা। ২০০৪ সালে ৯.২ মাত্রার প্রলয়ঙ্করী এক ভূমিকম্প ও সুনামিতে ভারত মহাসাগরের উপকূলে থাকা ইন্দোনেশিয়া ও অন্যান্য দেশের অনেক জনপদ ভেসে যায়। তখন কেবল আচেহ প্রদেশেই মারা পড়েছিলেন ১ লাখ ২০ হাজারেরও বেশি মানুষ।




