sliderস্থানিয়

ন্যায়বিচারের বার্তা নিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ে লিগ্যাল এইড দিবস উদ্‌যাপন

মোঃ ইসলাম, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ‘সরকারি খরচে বিরোধ শেষ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে ঠাকুরগাঁওয়ে জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস পালিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকালে জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির উদ্যোগে ফিতা কাটা ও বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন কমিটির চেয়ারম্যান ও জেলা ও দায়রা জজ জামাল হোসেন।

পরে কোর্ট চত্বর থেকে একটি র‍্যালি বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে গিয়ে শেষ হয়। দিবসটি উপলক্ষে লিগ্যাল এইড মেলা, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, আলোচনা সভা এবং সেরা প্যানেল আইনজীবী সম্মাননা প্রদান করা হয়।

জেলা ও দায়রা জজ জামাল হোসেনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক,চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট লুৎফর রহমান, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. ইউসুফ আলী এবং লিগ্যাল এইড অফিসার ও সিভিল জজ মজনু মিয়া। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সিভিল জজ মো. মাহামুদুল হোসেন মুন্না।
এ বছর সেরা প্যানেল আইনজীবী নির্বাচিত হন ললিত কুমার রায় ও মাসুদা পারভিন ইভা। অনুষ্ঠানে তাদের সম্মাননা স্মারক ও সনদ প্রদান করা হয়। আদালত চত্বরে চারটি স্টলে লিগ্যাল এইড সংক্রান্ত সেবা ও তথ্য প্রদান করা হয়।

কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালে ঠাকুরগাঁও লিগ্যাল এইড অফিসে ৮১৪টি আবেদন জমা পড়ে, যার মধ্যে ৭১৪টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে। এ সময় ৩ হাজার ৪৩৬ জন উপকারভোগী সেবা পেয়েছেন। মামলা দায়ের হয়েছে ২২৫টি। বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির (এডিআর) মাধ্যমে আপসে ৪৪ লাখ ৪৯ হাজার টাকা আদায় করা হয়েছে। এছাড়া ৭০৩ জন বিনামূল্যে আইনি পরামর্শ নিয়েছেন এবং ১৯১টি মামলা আপসের মাধ্যমে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

জেলার পাঁচটি উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে লিগ্যাল এইড কমিটি গঠন করা হয়েছে। এসব কমিটিতে জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক ও ধর্মীয় নেতাদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের আইনি সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সভা ও মতবিনিময় কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

লিগ্যাল এইড অফিসার মজনু মিয়া বলেন, আর্থিক কারণে কেউ যেন ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হন, সে লক্ষ্যেই বিনামূল্যে আইনগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে এডিআরের মাধ্যমে দ্রুত ও শান্তিপূর্ণভাবে বিরোধ নিষ্পত্তি করা হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক বলেন, লিগ্যাল এইড কার্যক্রম সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ভবিষ্যতে এ সেবার পরিধি আরও বাড়ানো হবে।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা ও দায়রা জজ জামাল হোসেন বলেন, অর্থের অভাবে কেউ যেন বিচার থেকে বঞ্চিত না হন, সেটিই লিগ্যাল এইডের মূল লক্ষ্য। বিচার ব্যবস্থাকে আরও সহজলভ্য করতে এ কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button