যশোর প্রতিনিধি: ১০৯তম ঐতিহাসিক মহান অক্টোবর সমাজতান্ত্রিক বিপ্লববার্ষিকী উপলক্ষ্যে যশোর শহরে লাল পতাকা মিছিল ও প্রেসক্লাবের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) ১০৯তম ঐতিহাসিক মহান অক্টোবর সমাজতান্ত্রিক বিপ্লববার্ষিকী উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের দেশব্যাপি কর্মসূচির অংশ হিসেবে যশোর জেলা কমিটির উদ্যোগে দুপুর সোয়া ১২টায় পাইপপট্টি মোড় থেকে একটি লাল পতাকা মিছিল শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে যশোর প্রেসক্লাবের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে।
সংগঠনের জেলা সভাপতি আশুতোষ বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট যশোর জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ কৃষক সংগ্রাম সমিতি জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক সমীরণ বিশ্বাস ও যশোর জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক কামাল পারভেজ বুলু প্রমুখ। সমাবেশটি পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক কৃৃষ্ণা সরকার ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, বর্তমানে বিশ্বের শ্রমিকশ্রেণি নিজেদের অধিকার আদায়ে আজ তীব্র লড়াই-সংগ্রাম করছে। ইউরোপের ছাত্র-শ্রমিক-জনতা তাদের অধিকার হরণের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। মার্কিনসহ সকল সাম্রাজ্যবাদ শ্রমিক-জনগণের অধিকারকে পাশ কাটিয়ে যুদ্ধকে সামনে এনে জনগণের অধিকার হরণ ও যুদ্ধ ব্যয় বৃদ্ধিসহ প্রস্তুতি বাড়িয়ে চলেছে। ইউক্রেনযুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা-ইসরায়েলের আগ্রাসন উভয় দেশের জনগণ তাদের ভোটের মাধ্যমে প্রত্যাখ্যানের প্রশ্নটি সামনে এনেছে। তথাপিও সাম্রাজ্যবাদীরা শ্রমিক-জনগণের অধিকার হরণে নানা অপতৎপরতা চালিয়ে যাবে। এর বিপরীতে আজ আরও জোরালোভাবে সামনে তুলে ধরতে হবে পুঁজিবাদী রাষ্ট্র ও সমাজের বিপরীতে শ্রমিকশ্রেণির রাষ্ট্র ও সমাজ তথা অক্টোবর সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের তাৎপর্যকে। অপরদিকে দেশে শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি, দ্রব্যমূল্য উর্দ্ধগতি রোধ, রেশনিং ব্যবস্থা চালু তথা গণতান্ত্রিক শ্রম আইন বাস্তবায়নের দাবিকে জোরালো করতে হবে।
নেতৃবৃন্দ, গার্মেন্টন্স শ্রমিকদের ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা ঘোষণার দাবিতে চলমান আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন বর্তমান দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতির বাজারে পরিবার পরিজন নিয়ে বেঁচে থাকার জন্য যে বেতন প্রয়োজন শ্রমিকদের তা প্রদান করা হয়না। শ্রমিকরা যখন তাদের ন্যায়সংগত দাবি ও অধিকার আদায়ের প্রশ্নে রাজপথে সোচ্ছার হয় তখন রাষ্ট্রের পেটুয়া বাহিনী স্বৈরাচারী পন্থায় শ্রমিক নির্যাতন করে হত্যা করে এমনকি বাড়ি বাড়ি তল্লাশি করে শ্রমিকদের নির্যাতন করা হচ্ছে। এ সকল ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা প্রকাশ করে অনতিবিলম্বে গার্মেন্টন্স শ্রমিকদের ন্যায়সংগত দাবি মেনে নেওয়ার জন্য উদাত্ত আহবান জানান। আন্দোলনে প্রতি সংহতি প্রকাশের কারণে প্রশাসন স্বৈরাচারী পন্থায় নেতাকর্মীদের গ্রেফতার চালাচ্ছে। যা শেখ হাসিনা সরকারের দমন-পীড়নের ব্যাপ্ত ঘটছে। অবিলম্বে আটককৃত শ্রমিক নেতৃবৃন্দের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, বাংলাদেশ একটি নয়াঔপনিবেশিক আধাসামন্তবাদী রাষ্ট্র, যেখানে সাম্রাজ্যবাদী লগ্নিপুঁজির স্বার্থে বাজার, প্রাকৃতিক সম্পদ, কৃষি ও সস্তা শ্রমশক্তিকে শোষণ ও লুণ্ঠনের ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহারের প্রবণতা বিদ্যমান। সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো এদেশে তাদের বিশ্বস্থ দালাল তৈরি করে আমলাতান্ত্রিক কাঠামোর ওপর নির্ভর করে নিজেদের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্বার্থ বাস্তবায়ন করে চলছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত এবং দক্ষিণ চীন সাগর ও তাইওয়ান প্রণালী ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-চীনের সামরিক উত্তেজনা বিশ্ব পরিস্থিতিকে ক্রমেই সংঘাতমুখর করে তুলছে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, ভারত মহাসাগর, প্রশান্ত মহাসাগর এবং বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক ও রণনীতিগত গুরুত্ব বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশও বৃহৎ শক্তিগুলোর প্রতিযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে। সভা থেকে মানবিক করিডোরের প্রস্তাব, চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনালসহ গুরুত্বপূর্ণ বন্দর বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে ইজারা প্রদান, এনডিএসহ বিভিন্ন সামরিক ও প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং বিদেশি সামরিক উপস্থিতির বিষয়গুলো জাতীয় স্বার্থ বিরোধী বলে উল্লেখ করে অবিলম্বে তা বাতিলের দাবি জানানো হয়।