মোহা:সফিকুল ইসলাম শিবগঞ্জ,চাঁপাইনবাবগঞ্জ সংবাদদাতা:
চাঁপাইনবাবগঞ্জে জেলা জুড়ে চলছে ডেঙ্গু আতংক। প্রতিদিনই আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে শত শত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগী। সরকারী ও বেসরকারীভাবে মৃত্যুর সংবাদও পাওয়া যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ভাষ্য হলো ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রনে জোর প্রচেষ্টা চলছে। ডেঙ্গু বাহিত মশা নিধন কল্পে চলছে অভিযান। শনাক্ত হচ্ছে প্রতিদিনই নতুন রোগী। হাসপাতালে মৃত্যুর সংখ্যা জানা গেলেও বিশেষ করে একেবারে পল্লী এলাকায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে কতজন মারা গেছে তার হিসাব পাওয়া যায়নি।
সরজমিনে জেলার সদর হাসপাতাল ও অন্যান্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো ডেঙ্গুতে আতংকের চিত্র ফুটে উঠেছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে গত জানুয়ারী হতে ১ নভেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রায় ৩৫১৮ । মৃত্যুর সংখ্যা ৪জন। রেফার্ড করা হয়েছে ৫ জন। রিলিজ দেয়া হয়েছে ৬৪ জনকে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে বর্তমানে ভর্তি আছে পুুরুষ ৫৭ জন, মহিলা ৫৪ জন মোট ১১১জন। গত ১ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে নতুন করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে পুরুষ ১৩ জন, মহিলা ১১জন। বর্তমানে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ৭৭জন। শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১ নভেম্বর তারিখে নতুন ভর্তি ৯জন সহ মোট ১৯৩ জন। গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নতুন ৭জন সহ মোট ১৮০জন। বর্তমানে ভর্তি আছে ১৭জন। রিলিজ দেয়া হয়েছে ৫জনকে। নাচোল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নতুন ৩জন সহ মোট ভর্তি সংখ্যা ১০০জন। বর্তমানে ভর্তি আছে ৩জন পুরুষ ও ১জন মহিলা। রিলিজ দেয়া হয়েছে ২জনকে। ভোলাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নতুন ১জন সহ মোট রোগীর সংখ্যা ১১২জন। বর্তমানে ভর্তি আছে ৩জন। রিলিজ দেয়া হয়েছে ৪জনকে। জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে রোগীর চাপ। ৩০ অক্টোবরের পর্যন্ত তথ্য অনুযায়ী, জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে বর্তমানে ১২৭ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন ছিল। তাঁদের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে ৯৩ জন, শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৭ জন, গোমস্তাপুরে ১৪ জন, নাচোলে ৮ জন এবং ভোলাহাটে ৯ জন রয়েছেন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪২ জন। উন্নত চিকিৎসার জন্য ৬ জনকে অন্যত্র পাঠানো হয়েছে। শুধু শিবগঞ্জের রোগী অন্য হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে গত ৩ অক্টোবর মো: সাদেক আলি(৩৫) মারা যান। ৩০ অক্টোবর শিবগন্জের আরো ১জন বাসিন্দা ডেঙ্গুতে মারা গেছে। একটি সূত্র মতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ৮জন।
উল্লেখ্য যে জেলা ব্যাপী ডেঙ্গু আতংক বিরাজ করলেও এপর্যন্ত ডেঙ্গু বাহিত মশা নিধনের কোন প্রক্রিয়া শুরু না হওযায় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং মশা নিধনে স্প্রে দেয়ার জন্য জোর দাবী জানিয়েছে।
এ ব্যাপারে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালের সিভিল সার্জন এ কে এম সাহাবুদ্দিন জানান ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও এডিশ মশা নিয়ন্ত্রনে ১ নভেম্বর সদর উপজেলার আরামবাগ এলাকায় ৮টি বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। তারমধ্যে ৫টিতে ড্রামের পানিতে এডিশ মশার লাভা পাওয়া গেছে। এভাবে জেলা জুড়ে আমাদের অভিযান চলছে । মানুষকে সচেতন করতে প্রচার প্রচারণা চলছে। বিভিন্ন স্থানের ড্রেনগুলোতে ফগার মেশিনের সাহায্যে মশা নিরোধ ধোঁয়া দেয়া হচ্ছে।
তিনি আরো জানান ডেঙ্গু প্রতিরোধে এ পর্যন্ত শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৪৪৫, গোমস্তাপুওে ১২৭০, নাচোলে ২০০৬ ও ভোলাহাটে ৭৫০টি কীট এনএসআই কমবো কীট প্রদান করা হয়েছে। তার মধ্যে খরচ হয়েছে অর্থাৎ মানুষের শরীরে দেয়া হয়েছে শিবগঞ্জে ১০৫০, গোমস্তাপুরে ৯২০, নাচোলে ১৩৬৬ ও ভোলাহাটে ৭৫০টি। বর্তমানে মজুদ আছে শিবগঞ্জে ৪০০, গোমস্তাপুরে ৩৫০, নাচোলে ৬৪০ ও ভোলাহাটে ২২৫টি।
আরো জানানা ২ নভেম্বর বিকাল পর্যন্তু ৫ উপজেলা মিলে নতুন রোগীর সংখ্য ৫৬জন। মোট ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৩৫৬৫জন। বর্তমান রোগীর সংখ্যা ১০৭জন। রেফার্ড করা হয়েছে ১জন ও রিলিজ দেয়া হয়েছে ৫৬ জনকে।


