মো.শাহাদাত হোসেন মনু,ঝালকাঠি: প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেছেন, “শুধু লেখাপড়ায় জিপিএ-৫ অর্জন করলেই হবে না, শিক্ষার্থীদের শুদ্ধাচার, স্বাস্থ্য ও পুষ্টির দিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা গ্রহণ করে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।”
সোমবার (১৯ অক্টোবর) বেলা ১১টায় ঝালকাঠি শিল্পকলা একাডেমিতে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা এবং মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন বিষয়ক জেলা পর্যায়ের সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, “আজ আমি একঝাঁক উজ্জ্বল নক্ষত্রের মাঝে বসে আছি। তোমাদের মধ্যে কবি কামিনী রায় ও কবি জীবনানন্দ দাসের মতো প্রতিভা রয়েছে। তোমাদের এই সাফল্য ধরে রাখতে হবে এবং নিজেদের দক্ষতা বাড়াতে হবে।”
তিনি বলেন, “দেশের জনসংখ্যাকে জনসম্পদে পরিণত করতে হলে স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও শুদ্ধাচারের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্য ও পুষ্টির উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।” পুষ্টিকর খাবারের চাহিদা পূরণে বাড়ির আঙিনায় শাকসবজি চাষ এবং হাঁস-মুরগি পালনে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী বলেন, শিক্ষার্থীদের নিজেদের উন্নতির পাশাপাশি অন্য ভাইবোনদেরও সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। যেসব শিক্ষার্থীর মধ্যে বিশেষ প্রতিভা রয়েছে, তাদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন বলেও জানান তিনি।
পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নির্দিষ্ট স্থান ছাড়া যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলা যাবে না। বাড়ির আঙিনাসহ আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। একই সঙ্গে ময়লা-আবর্জনার ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে হবে।
শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করে তিনি বলেন, নিজেদের সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে মেধা, যোগ্যতা ও দক্ষতার মাধ্যমে তারা ঝালকাঠিকে আরও আলোকিত করবে।
ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝালকাঠি-২ আসনের সংসদ সদস্য ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঝালকাঠির পুলিশ সুপার মেরিন সুলতানা, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মো. শাহাদাৎ হোসেন, সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ হুমায়ূন কবীর এবং জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. আবু ছাইদ।
জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং জেলা পরিষদ ও উপজেলা পরিষদের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনকারী জেলার ২২০ জন শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।