sliderস্থানিয়

সাজেকে দ্বিতীয় দফায় অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ, ভোগান্তিতে ৩০ হাজার মানুষ

মোঃ আব্দুজ জাহের,বাঘাইছড়ি প্রতিনিধি: রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নে দ্বিতীয় দফায় অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ চলছে। এতে সাজেকের অভ্যন্তরীণ সড়কসহ খাগড়াছড়ির দীঘিনালার জোড়াব্রিজ থেকে সাজেক ভ্যালি পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল থেকে সড়কগুলোতে কোনো যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায়নি। অবরোধের সমর্থনে বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে পিকেটিং করছেন অবরোধকারীরা।

অবরোধের কারণে সাজেকের লুসাই, ত্রিপুরা, চাকমা ও মারমা জনগোষ্ঠীর অন্তত ৩০ হাজার মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। হাটের দিনেও যান চলাচল বন্ধ থাকায় স্থানীয় হাটবাজার গুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতি কম দেখা গেছে। পরিবহন সংকটে জুমচাষিরা উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে পারছেন না। অবরোধ দীর্ঘায়িত হলে এলাকায় খাদ্যসংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। দ্রুত সংকট নিরসনের দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন মহল।

গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন যৌথ বিবৃতিতে দ্বিতীয় দফায় অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ঘোষণা দেয়।

এর আগে গত ১১ অক্টোবর থেকে সাজেক সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু হয়। এতে কয়েক হাজার দেশি-বিদেশি পর্যটক সাজেকে আটকা পড়েন। পরে সেনাবাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তায় পর্যটকদের ফিরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগের সময় সাজেকের ওজোবাজার এলাকায় নিরাপত্তা বহর আটকে দেন অবরোধকারীরা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে কয়েক ঘণ্টা আলোচনার পর বহরটি চলাচলের অনুমতি পায়। পরে ৪৮ ঘণ্টার জন্য অবরোধ শিথিল করা হয়। তবে বুধবার আবারও অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু হয়। পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গত কয়েক মাস ধরে সাজেক ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ের দুই আঞ্চলিক সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সন্তু গ্রুপের মধ্যে সংঘাত চলছে।

সর্বশেষ গত ২৯ সেপ্টেম্বর সকালে মাচালং এলাকার মন্দিরছড়া পাড়ায় গুলিবিদ্ধ হয় মাচালং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সঞ্জিতা ত্রিপুরা (৯)। একের পর এক সংঘাত ও গোলাগুলির ঘটনায় সাজেকের বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বাড়ছে। বিভিন্ন সময়ে সংগঠন দুটির মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন সাজেকের এক জনপ্রতিনিধি।

এদিকে সাজেক সড়ক খুলে দেওয়ার দাবিতে বুধবার খাগড়াছড়ি শহরের শাপলা চত্বরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন পর্যটনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ সময় তাঁরা প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন।

সড়ক অবরোধের কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, কৃষিপণ্য পরিবহন ও পর্যটন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button