
শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) সংবাদদাতা: মাত্র গত দুই মাসের মধ্যে পাঁকা ইউনিয়নের তিনটি গ্রামের প্রায় ৬০০ পরিবারের বাড়িঘর ও হাজার বিঘা ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ায় পথে বসেছে ও্ই তিন গ্রামের সহ¯্রাধীন মানুষ।
সরজমিনে দেখা গেছে ও এলাকার মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে তেররশিয়া,গমের চর ও জামাইপাড়া নারায়নপুর গ্রাম তিনটি পদ্মা নদীর ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে গেছে। গ্রামের বাসিন্দারা বিভিন্ন স্থানে পরের জমি বর্গা নিযে অস্থায়ী ভাবে বসবাস করছে। তাদের অনেকের ঘরে নেই কোন খাবার,নেই আশ্রয়স্থল ও পরনে নেই পোশাক। পাঁকা ্ইউনিয়নের তিন নং ওয়ার্ড সদস্য মো:রফিক উদ্দিন বলেন মাত্র মাসখানেক আগে পদ্মার ভাঙ্গনে আমার বাড়ি ঘর ও ফসলি জমি সব বিলীন হয়ে গেছে। এখন আমি নি:স্ব হয়ে হতাশায় হাবুডুবু খাচ্ছি। তিনি আরো জানান দুই মাসের মধ্যে আমাদের গ্রামের ২৫০টি বাড়িঘর ও ৫০০ একর ফসলি ও চারটি মসজিদ ও একটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সহ সবকিছ্ ু পদ্মার ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে শিবগঞ্জের মানচিত্র থেকে মুছে গেলো।
পাঁকা ইউনিয়নের গমের চর গ্রামের তরিকুল ইসলাম জানান গত দুই মাস আগে মাত্র এক মাসের মধ্যে গমের চর গ্রামের প্রায় ২৫০টি বাড়িঘর,মসজিদ, মাদ্রাসা, গোরস্থান ও ফসলি জমি সহ সবকিছু পদ্মার ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে গেছে। আমি নিজের বাড়িটি ও ফসলি জমি পদ্মার ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে দশরশিয়া গ্রামে পরের জমি বর্গা নিয়ে অস্থায়ীভাবে বসবাস করছি। আমার মতই গমের চর গ্রামের শত শত অসহায় দিশেহারা মানুষ এদিকওদিক ছুটাছুটি করছে একটুকরা বাসযোগ্য জমির জন্য। অনেকেই না খেয়ে খোলা আকাশের নীচে বসবাস করছে। কেউ আহা করার নেই। নেই কোন পরিদর্শন।
অন্যদিকে জামাইপাড়া নারায়নপুর গ্রামে প্রায় ১০০বাড়িঘর বিলীন হয়েছে। বিশ রশিয়া গ্রাামের লাল মোহাম্মদ বলেন আমার বাড়িটি একেবারে পদ্মা ঘেঁষা। যে কোন সময় বিলীন হয়ে যেতে পারে। তাই বাড়ি ঘর সরাতেই হবে । কোন উপায় নেই। যে টুকু ফসল ছিল সেটুকু মাত্র গত এক সপ্তাহের ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে গেলো। দু:শ্চিন্তায় চোখের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। তিনি আরো বলেন মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে বিশরশিয়া মাঠের প্রায় ৫০০ বিঘা জমির ও জমির ধান নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। বিশরশিয়া গ্রামটি এখন অত্যন্ত ঝুঁকির মধ্যে। তেররশিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও পাঁকা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক বলেন মাত্র চারদিন আগে আমার বসতবাড়ি ও ৫০বিঘা জমিসহ সবকিছুই পদ্মা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। মাত্র এক মাসের মধ্যে তেররশিয়া গ্রামের প্রায় ২৫০টি বসতবাড়ি ও ৫০০বিঘা জমি পদ্মা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে অন্যত্রে অস্থায়ী ভাবে বসবাস শুরু করেছি। তিনি আরো জানান গত একমাস আগে গমের চর গ্রামের ২৫০টি বসতবাড়ি ও ১০০০ বিঘা ফসলি জমি বিলীন হয়ে পাঁকা ইউনিয়নের মানচিত্র হতে মুছে গেছে। তিনি আরো জানান মাত্র দুই বছরের মধ্যে পাঁকা ইউনিয়নের তেররশিয়া,গমের চর ও দক্ষিণ পাঁকা নারায়নপুর ও জামাইপাড়া গ্রামের প্রায ১১০০টি বসতবাড়ি ও তিন হাজার বিঘা ফসলি জমি, আমবাগান, বাঁশবাগান,মসজিদ,মাদ্রাসা, গোরস্থান বিলীন হয়ে গেছে। বিশরশিয়া ও দশরশিয়া নামে আর মাত্র দুটি গ্রাম টিকে আছে। তাও আবার বিশরশিয়া গ্রামটি অত্যন্ত ঝুঁকির মধ্যে। এ দুটি গ্রাম বিলীন হলেই পাঁকা ইউনিয়ন গোটাটাই শিবগঞ্জ উপজেলার মানচিত্র হতে বিলীন হয়ে যাবে। তিনি আরো জানান ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের তালিকা তৈরী করে দেয়া হয়েছে।
গত কয়েকদিন আগে জেলা প্রশাসক এসেছিলেন এবং ২৫০টি পরিবারকে ৩০ কেজি করে চাল দিয়েছেন। আরো ৩৫০টি পরিবারের তালিকা তৈরী করা আছে। আগামীকাল উপজেলায় জমা দিব।
শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: মাজাহারুল ইসলম বলেন,ভাঙ্গনের ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড চাঁপাইনবাবঞ্জ জেলা শাখাকে জানানো হয়েছে। ইতিমধ্যে ইউপি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে তালিকা চাওয়া হয়েছে। ২৫০টি পরিবারকে সহযোগিতা করা হয়েছে। পরবর্তীতে আরো সহযোগিতা করা হবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম আহসান হাবিব জানান,ইতিমধ্যে পদ্মার ওপারে রঘুনাথপুর বিওপি রক্ষার জন্য এককিলোমিটার স্থায়ী বাধ নিমার্নের কাজ শুরু হয়েছে। ওপারে কিছু কিছু স্থাপণা রক্ষার জন্য পরিকল্পনা গ্রহন করা হয়েছে। তাছাড়া স্থায়ী বাধ নির্মানের জন্য একটি পরিকল্পণা প্রস্তাব তৈরী করছি। তৈরীর কাজ শেষ হলে ঢাকা প্রধান অফিসে পাঠাবো। প্রধান অফিস সেটা অনুমোদন দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। তাছাড়া এপারে পদ্মার ভাঙ্গন রোধ করার জন্য বরাদ্দ হয়েছে। টেন্ডার হয়েছে। খুব শীঘ্রই কাজ শুরু হবে।



