
মোঃ আব্দুর রব মনসুর,সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: কাজিপুরে সরকারি কোনো বরাদ্দ বা সাহায্য ছাড়াই ভাঙা সেতুর সংযোগস্থলে স্বেচ্ছাশ্রমে সাঁকো নির্মাণ করেছেন স্কুল ও কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীরা। দুর্ভোগ কমাতে সাধারণ শিক্ষার্থী ও যুবসমাজ একত্রিত হয়ে এই মহৎ উদ্যোগটি বাস্তবায়ন করে।
শিক্ষার্থীদের স্বেচ্ছাশ্রমে একটি ভাঙ্গা সেতুর সংযোগ সাঁকো নির্মাণে স্বস্তি ফিরেছে এলাকাবাসির মধ্যে। উপজেলার যমুনা নদীর দুর্গম চরাঞ্চল চরগিরিশ ইউনিয়নের চরনাটিপাড়ায় সেতুটি নির্মান করা হয়েছে। গত বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ একটি পাকা সেতুর পাশ দিয়ে ভেঙ্গে নালা বের হওয়ায় মানুষের চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এবার বন্যার পানি বৃদ্ধি পেলে ওই সেতু দিয়ে চলাচলে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়। এই সমস্যা সমাধানে স্কুল কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা ক্ষতিগ্রস্থ সেতুর সাথে যোগাযোগ ঠিক রাখতে ধসে যাওয়া স্থানে সাঁকো নির্মাণ সম্পন্ন করেছে। এর ফলে কৃষি পন্য পরিবহনে সুবিধা হয়েছে। সেই সাথে এলাকাবাসির চলাচল সমস্যার আপাত সমাধান হয়েছে।
সরজমিনে জানা যায়, ত্রাণ ও দুযোর্গ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে কয়েক বছর পূর্বে চরগিরিশ থেকে মনসুরনগর হয়ে পাশ্ববর্তী সরিষাবাড়ি যাওয়ার মূল রাস্তায় ওই সেতুটি নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের দুই বছরের মাথায় বন্যার পানির তোড়ে সেতুটির পিলার মাটিতে দেবে যায়। এবং সেতুতে ওঠার একপাশ দিয়ে পানি গড়ায় সেখানকার মাটি ধসে যায়। এর ফলে মূল সেতুটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। ফলে ওই সেতু ব্যবহার করে প্রতিদিন চলাচলকারী স্কুল কলেজগামী শিক্ষার্থী, সাধারন মানুষের চলাচল স্থানীয় কৃষিপণ্য পরিবহনে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়। সরকারিভাবে বরাদ্দ না আসলে কাজ সম্ভব নয় জেনে শিক্ষার্থীরা নিজেরাই তাদের সংগৃহিত অর্থদিয়ে কাঠ, বাঁশ, ও অন্যান্য সামগ্রি কিনে সেতুটি নির্মাণ করেছে। শিক্ষার্থীরা জানায় এই কাজে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ সহ অনেকেই সহযোগীতা করেন।
নাটুয়ারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের বলেন, শিক্ষার্থীরা আমাদের দেখিয়ে দিলো কিভাবে ঐক্যবদ্ধ শক্তিতে বলীয়ান হয়ে কাজ করতে হয়। অনেক মানুষ এই রাস্তা ব্যবহার করে চলাচল করে। সবার পক্ষ থেকে আমি এই শিক্ষার্থীদেরকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
কাজিপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, শিক্ষার্থীদের সাঁকো নির্মাণের বিষয়টি শুনেছি। সরকারিভাবে ওই কাজটি করার জন্যে বরাদ্ধ চাওয়া হয়েছে।




