
শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) সংবাদদাতা: শিবগঞ্জে চাঞ্চল্যকর নয়নী হত্যা মামলার বাদী মোসা: আকলিমা বেগমকে বিভিন্ন ধরনের হুমকী দিয়েছে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শিবগঞ্জ থানার এস আই প্লাবন বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি মামলায় জড়িয়ে ভয়ভীতি দেখায় তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে প্রতিকার চেয়েছেন। তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই প্লাবন এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
বাদী মোসা:আকলিমা বেগম জানান,শিবগঞ্জের গৃহপরিচালিকা নয়নী হত্যা মামলার তদন্তকারী অফিসার থানার এস আই প্লাবন গত ২৬ জুলাই দুপুরে ফোন করে আমাকে বলেন যে বিবাদী পক্ষ একটি ওড়না সংগ্রহ করেছে, যে ওড়না দিয়ে নয়নী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছিল। এটি জব্দ তালিকায় উল্লেখ্য করার জন্য আপনার স্বাক্ষর প্রয়োজন। তাড়াতাড়ি থানায় এসে স্বাক্ষর করে যান। এ সময় আমি (আকলিমা বেগম) বলি নয়নী আত্মহত্যা করেনি। তাকে হত্যা করা হয়েছে। তাই ওড়না জব্দ করার তালিকায় আমি স্বাক্ষর করবো না। তখন তিনি আমাকে হুমকী দিয়ে বলেন বেশী বুঝার চেষ্টা করলে উল্টো মামলা দিয়ে আপনাকে জেলে পাঠানো হবে। তাছাড়া আপনি স্বাক্ষর না করলে আপনার দায়ের করা মামলা দূর্বল হয়ে যাবে। তিনি এর আগেও আরো তিনদিন আমাকে ফোন করে একই কথা বলেছেন।
এব্যাপারে মামলার তদন্ত কারী কর্মকর্তা শিবগঞ্জ থানার এস আই প্লাবন তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,তাকে কোন হুমকী দিইনি। তার কাছে কোন কাগজে স্বাক্ষর করতে বলেনি। তাকে শুধু বলেছি আপনার দেয়া এজাহারে যে কজন স্বাক্ষীর নাম দেয়া আছে তাদের মধ্যে তিনজনের স্বাক্ষীর জবানবন্দী রেকর্ড করা হয়েছে আরো বাকীগুলোর জবানবন্দী রেকর্ড করতে হবে। তাই তাদের নিয়ে আসতে বলেছি।
এঘটনায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ বার কাউন্সিলের সিনিয়র আইনজীবি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক আলহাজ মো: মোয়াজ্জেম হোসেন মেহেদী বলেন, মামলার তদন্তের স্বার্থে তদন্তকারী কর্মকর্তা বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করতে পারেন। কিন্তু মামলার বাদীকে কোন ধরনের হুমকী দিতে পারেনা । ভয়ভীতি দেখাতে পারেন না। কোন কাগজে জোর করে স্বাক্ষর করিয়ে নিতে পারেন ন। কোন অশ্লীল ভাষা ব্যবহার করতে পারেন না। আইন তার নিজস্ব গতিতে ও নিজস্ব ধারায় চলবে। এর ব্যতিক্রম হলে বাদীর মধ্যে আতংক ও শঙ্কা কাজ করে।
অনদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত প ুলিশ সুপার এ এন এম ওয়াসিম ফিরোজ বলেন থানায় রুজু হওয়া মামলার সঠিক তদন্ত করে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দখিল করা। একজন তদন্ত কর্মকর্তা কখনোই মামলার বাদীকে হুমকী দেয়ার কোন সুযোগ নেই। তবে কোন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যদি ওই মামলার বাদীকে কোন হুমকীস্বরুপ কথা বলে থাকে তবে তিনি ইচ্ছা করলে জেলা পুলিশ সুপার বরাবর আবেদন করতে পারেন। আবেদন করলে তিনি তার নায্য অধিকার পাবে। উল্লে্য যে গত এক জুন শিবগহ্জ উজেলার কানসাট ইউনিয়নের মোবগনবাগ এলাকায় হাজী রইশুদ্দিনেরবাড়ির গৃহপরিচালিকা নয়নীকে হত্যা করে আত্ম হত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হয়। এব্যাপারে শিবগঞ্জ থানায় গত ৮ জুন একটি হত্যা মামলা হয়।




