sliderস্থানিয়

ডহুরী দিবস ও শহীদ গোবিন্দ দত্তের ৩৮তম মৃত্যুবার্ষিকী

স্বীকৃতি বিশ্বাস, যশোর: ঐতিহাসিক ডহুরী দিবস ও শহীদ গোবিন্দ দত্তের ৩৮তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে কৃষক সংগ্রাম সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বুধবার বিকাল ৫টায় কেশবপুরের পাঁজিয়া বাজারে এ স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে সকাল ১১ টায় শহীদের সমাধি কেশবপুরের নারায়ণপুরে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পন, নিরবতা পালন, শপথ পাঠ করা হয়।

সংগঠনের সভাপতি হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত স্মরণ সভায় বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক তাপস বিশ্বাস, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল হক লিকু, যশোর জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক সমীরণ বিশ্বাস, খুলনা জেলার সহ-সভাপতি বিমল কৃষ্ণ বৈরাগী, ইসহাক আলী সরদার, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের যশোর জেলা সভাপতি আশুতোষ বিশ্বাস,অন্যতম নেতা আব্দুল জলিল মাস্টার, ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের যশোর জেলার সহ-সভাপতি এ্যাড: আহাদ আলী লস্কর, ধ্রুবতারা সাংস্কৃতিক সংসদ যশোর জেলা সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুর রহমান বাদল, জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট অভয়নগর থানা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান টিটু, কৃষক সংগ্রাম সমিতি সদর থানা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জগন্নাথ বিশ্বাস, অভয়নগর থানা সহ-সভাপতি জহিরুল ইসলাম, কেশবপুর থানা সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুর রহমান, প্রবীণ কৃষকনেতা বিকাশ রায় প্রমুখ। পরিচালনা করেন খুলনা জেলা সাধারণ সম্পাদক নিবিড় কান্তি বিশ্বাস মিঠু।

ঐতিহাসিক ডহুরী দিবস ও শহীদ গোবিন্দ দত্তের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, ৩৮ বছর হলো গোবিন্দ দত্ত জীবন দিলো জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্যে। কিন্তু আজও সমস্যা যে তিমিরে ছিল সে তিমিরেই রয়ে গেছে। বরং নতুন নতুন এলাকায় বিস্তৃত হয়ে সমুদ্রগর্ভে বিলীণ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে। সমগ্র অঞ্চলের কৃষক ও কৃষির সঙ্কট তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে বিপর্যস্ত মানুষ সীমাহীন দুঃখ-দুর্দশায় পতিত হয়ে অমানবিক জীবন-যাপন করছে। এ সময়কালেও প্রত্যেকটি সরকার সমস্যার সমাধানের নামে খুলনা-যশোর পানি নিষ্কাশন প্রকল্প, টিআরএম প্রকল্পসহ নানাবিধ প্রকল্প গ্রহণ করে যা সমস্যার সমাধান না করে বরং তা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি করে জনগণের ওপর ঋণের বোঝা বাড়িয়েছে। বর্তমানে নদী খনন প্রকল্প চলছে। নদী কেটে খাল আর খাল কেটে নালা তৈরি করা হচ্ছে। নদীর মাটি কেটে নদীর বুকে রাখা হচ্ছে যার একটি অংশ চলতি বর্ষায় ধুয়ে আবার নদীগর্ভে বিলীণ হয়ে যেতে পারে। জোয়ার বাহিত পলি নদীর থেকে বিলে অবক্ষিত হওয়ার সযোগ না থাকায় নদীগর্ভে ভরাট কার্য সম্পাদন করবে। বাঁধ দিয়ে নদী খনন প্রকল্প বাস্তবায়ন করায় নদীর ভাটি অঞ্চলে ভরাট কাজ তীব্র থেকে তীব্রতর হয়েছে। সামগ্রিক কারণে জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষে অবাধ জোঁয়ার-ভাটার বিকল্প কোনো পথ নেই। এ প্রেক্ষিতে ভবদহ রেগুলেটরসহ নদীর ওপরে নির্মিত সকল অপরিকল্পিত অবকাঠামো উচ্ছেদ, ওয়াপদা বাঁধ উচ্ছেদ করে জলাবদ্ধ বিলগুলিতে অবাধ জোঁয়ার-ভাটা সৃষ্টি করতে হবে। নদীর জমি নদীকে ফিরিয়ে দিতে হবে এবং অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করতে হবে। নদ-নদী পরিকল্পিত উপায়ে খনন করতে হবে এবং খননকৃত পলি বিলের নিম্নাংশে ফেলতে হবে। গঙ্গা নদীর উপর নির্মিত ফারাক্কা ব্যারেজ উচ্ছেদেসহ আন্তর্জাতিক নদীসমূহের পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে (আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে) সরকারকে যথাযথ ভূমিকা নিতে হবে। পদ্মা নদীর সাথে মাথাভাঙ্গা, মাথাভাঙ্গা নদীর সাথে ভৈরবসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদ-নদীর সংযোগ পুনঃস্থাপন ও নদীসমূহের আন্তঃসংযোগ চালু করতে পরিকল্পিতভাবে নদ-নদী খনন ও সেচের ব্যবস্থা করতে হবে। পানি প্রবাহের বাধা অপসারণ, অপরিকল্পিত ও অবৈধ মাছের ঘের উচ্ছেদ করতে হবে। সাথে সাথে নেতৃবৃন্দ জেলা প্রশাসক মহোদয়কে ধানের ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তি, ওজনে কারচুপি রোধের সাথে সাথে যথাযথ ব্যবস্থা করার জোর দাবি জানান।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা আজ চরম অনিশ্চয়তার মুখে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি, বিদ্যুৎ-গ্যাস ও জ্বালানি তেলের ঘন ঘন দাম বাড়ানো এবং সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধ-আগ্রাসনসহ বৈশ্বিক নানা ভূ-রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র-চক্রান্তের কারণে সাধারণ শ্রমজীবী ও নিম্রায়ের মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। একই সাথে সাম্রাজ্যবাদী শক্তিসমূহের সাথে জাতীয় ও জনস্বার্থবিরোধী চুক্তি সম্পাদিত হওয়ায় জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির মধ্যে পড়ে দেশকে সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করার বিপদ বৃদ্ধি পাচ্ছে। মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থে ড. ইউনুসের অন্তর্বর্তিকালীন সরকার গত ৯ ফেব্রুয়ারি জাতীয় ও জনস্বার্থবিরোধী বাণিজ্য চুক্তি (এআরটি) সম্পাদিত করে। এর ধারাবাহিকতায় বর্তমান ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকার মার্কিন পরিকল্পনায় বাংলাদেশকে সাম্রাজ্যবাদী যুদ্ধক্ষেত্রে সম্পৃক্ত করতে মার্কিনের সাথে আকসা ও জেসোমিয়া চুক্তি সম্পাদনের লক্ষ্যে বিভিন্ন তৎপরতা চালাচ্ছে। একই সাথে দেশে বিদেশী বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও বিভিন্ন প্রকল্পে সহযোগিতা আনার লক্ষ্যে সরকার চীনের সাথে সমঝোতা (মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং) স্মারক স্বাক্ষর সম্পন্ন করেছে। এর মধ্যদিয়ে দেশকে আন্তঃসাম্রাজ্যবাদী প্রতিযোগিতা-প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও যুদ্ধক্ষেত্রে ঠেলে দেওয়ার বিপদ বৃদ্ধি পাচ্ছে। জাতীয় ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নেতৃবৃন্দ চীন-মার্কিনসহ সকল সাম্রাজ্যবাদী শক্তির সাথে সম্পাদিত জাতীয় ও জনস্বার্থবিরোধী সকল চুক্তির বিরোধিতা করে মার্কিনের সাথে অসম বাণিজ্য চুক্তি অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানান। স্মরণসভা থেকে জাতীয় ও জনস্বার্থ বিরোধী এই তৎপরতার বিরুদ্ধে দেশপ্রেমিক সকল গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button