sliderস্থানিয়

বোয়ালমারী হাসাহাসি নিয়ে কিশোরদের মধ্যে সংঘর্ষ, আহত ৬

বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: ফুচকা খাওয়ার সময় উচ্চস্বরে হাসাহাসিকে কেন্দ্র করে দুইপক্ষের কিশোর-তরুণদের মধ্যে তর্কাতর্কি, হাতাহাতি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পেটে ছুরিকাঘাত অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত দুজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

আজ শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত থানায় কোন পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ জমা দেয়নি বলে ওসি মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন। এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলা পার্কের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

হাসপাতালে আহতরা হলেন, বোয়ালমারী পৌরসভার দক্ষিণ কামারগ্রামের সেলিম শেখের ছেলে হৃত্বিক শেখ (২১) ও একই এলাকার মনিরুল ইসলামের ছেলে কাকন (২০)। হৃত্বিকের পেটে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। কাকনের মাথায় আঘাত লেগেছে। দুজনই বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় পার্কের সামনে দুইপক্ষের প্রায় ২৫ জন কিশোর-তরুণ অবস্থান করছিলেন। একপর্যায়ে একপক্ষের কয়েকজন উচ্চস্বরে হাসাহাসি করলে তা নিয়ে অন্য পক্ষের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। পরে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির একপর্যায়ে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় হৃত্বিকের পেটে ছুরিকাঘাত এবং কাকনের মাথায় আঘাত করা হয়। এ ঘটনায় আরো কয়েকজন আহত হন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বোয়ালমারী পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কিশোরদের দলবদ্ধ আড্ডা চলে। এসব আড্ডাকে ঘিরে মাদক সেবন ও অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। সরকারি কলেজের পুকুরঘাট, অডিটোরিয়ামের পূর্বপাশ, গরুহাটা, মহিলা কলেজের সামনে, পরিত্যক্ত পৌর বাস টার্মিনাল, স্টেডিয়াম মাঠ, রেলস্টেশনসহ বিভিন্ন স্থানে এমন আড্ডা দেখা যায় বলে তাঁরা জানান।

তবে এলাকার সচেতন এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দলবদ্ধ আড্ডা ও অপরাধপ্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে সামান্য বিরোধ থেকেও বড় ধরনের সংঘর্ষ হতে পারে। তাঁরা এসব স্থানে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান চালানোর দাবি জানিয়েছেন।

তবে মাদক ও অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগের বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো ঘটনার তথ্য পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী বোয়ালমারী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাজিব আহমেদ বলেন, ফুচকা খাওয়ার সময় হাসাহাসিকে কেন্দ্র করে দুইপক্ষের মধ্যে প্রথমে তর্কাতর্কি ও পরে মারামারি হয়। এতে দুজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আজ শুক্রবার বিকেলে বোয়ালমারী থানার ওসি মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। ওই এলাকায় পুলিশের নজরদারি রয়েছে। অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং বিপথগামীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button