
মোঃ জাফর আহমেদ কুড়িগ্রাম সংবাদদাতা : কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার সোনাহাট স্থলবন্দর এলাকায় পোল্ট্রি দোকানের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা বিক্রির অভিযোগে কথিত মাদক সম্রাজ্ঞী মর্জিনা আক্তার ওরফে গেন্দি (৪০)-কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে ১০৩ পিস ভারতীয় ইয়াবা ট্যাবলেট এবং মাদক বিক্রির নগদ ১৬ হাজার ২৯০ টাকা জব্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত আলামতের আনুমানিক মোট মূল্য প্রায় ৫৬ হাজার ২৯০ টাকা।
শুক্রবার (১৮ জুলাই) দুপুর ৩টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার সোনাহাট স্থলবন্দর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ তাকে আটক করে।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতার হওয়া মর্জিনা আক্তার উপজেলার সোনাহাট ইউনিয়নের বানুরকুঠি এলাকার আতোয়ার হোসেনের মেয়ে। তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সোনাহাট স্থলবন্দর এলাকায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা ট্রাকচালক ও পরিবহন শ্রমিকদের কাছে ইয়াবা ও গাঁজা বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। অতীতেও তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা করা হলেও তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে পোল্ট্রি দোকানের আড়ালে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন বলে জানায় পুলিশ।
অভিযান চলাকালে স্থানীয় সচেতন জনগণের সহযোগিতায় তাকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে তার কাছ থেকে ১০৩ পিস ভারতীয় ইয়াবা ট্যাবলেট এবং মাদক বিক্রির নগদ ১৬ হাজার ২৯০ টাকা জব্দ করা হয়।
অভিযানের সময় ভূরুঙ্গামারী পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন-এর উপস্থিতিতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সামনে জব্দ তালিকা প্রস্তুত করা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অভিযুক্তকে থানা হাজতে রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন বলেন, “মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।”
ভূরুঙ্গামারী থানার পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
স্থানীয়দের মতে, সোনাহাট স্থলবন্দর এলাকায় মাদকবিরোধী এ অভিযান আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পুলিশের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে চলমান বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও একইভাবে অব্যাহত থাকবে।




