sliderস্থানিয়

ভিজিএফ এর চাল উদ্ধার পৌর সচিবের অপসারণের দাবিতে ঈমাম পরিষদের সংবাদ সম্মেলন 

বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: বোয়ালমারী পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর সামাদ খানের দক্ষিণ শিবপুরের বাড়ি থেকে গত বুধবার রাতে ৬৩০ কেজি ভিজিএফ এর চাল উদ্ধার করে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো.শিব্বির আহমেদ।

পৌরসভার ৬৭ জন মুয়াজ্জিনের জন্য পৌরসভা কর্তৃক বরাদ্দকৃত ওই চাল বুধবার বিকেল ৪টায় পৌরসভা থেকে উত্তোলন করেন ঈমাম পরিষদেরর সভাপতি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ঈমাম হোসাইন আহমেদ এবং সাধারন সম্পাক সাহেব আলী। উত্তোলন করে সামাদ খানের বাড়িতে রেখে দেন। সংবাদ পেয়ে রাত সাড়ে সাতটার দিকে পৌর সচিব মনিরুজ্জামান এবং সহকারী কমিশনার শিব্বির আহমেদ অভিযান চালিয়ে চাল উদ্ধার করে পৌরসভায় নিয়ে যান। চাল উদ্ধারের প্রতিক্রিয়ায় ঈমাম পরিষদ বৃহস্পতিবার (২১.০৫.২৬) বিকেল ৩টায় সামাদ খানের বাড়িতে এক সংবাদ সম্মেলন করেন।

জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে পৌর সচিব মনিরুজ্জামান শিকদারের অপসারণ দাবি করে আলটিমেটাম দেওয়া হয়। আগামী কোরবানির ঈদের পরে যদি সচিব থাকে তাহলে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে। ঈমাম পরিষদের সভাপতি হোসাইন আহমেদ অভিযোগ করেন, সচিব মনিরুজ্জামান একজন দুর্নীতি পরায়ন ব্যক্তি। সে ঘুষ ছাড়া কোন কাজ করেনা। প্রতিবছর দুই ঈদে পৌরসভা থেকে ৬৭টি মসজিদের ঈমামদের এক হাজার টাকা এবং মুয়াজ্জিনদের জন্য উপহার হিসেবে চাল দেওয়া হয়। গত রোজার ঈদেও ঈমামদের টাকার চেক দেওয়ার সময় সচিব নানা টালবাহানা করেছে। সরাসরি টাকা না চাইলেও আকারে ইঙ্গিতে টাকার কথা বুঝিয়েছেন। তখন তার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ উত্থাপন করা হয় এবং ইউএনও স্যার বিষয়টা মিমংসা করে দেন। সেই রাগ থেকে এবার আমাদের চাল দিয়ে ৩ ঘন্টা পর নাটক করে চাল উদ্ধার করে আমাদের হেয় করেছেন। আমাদের সম্মানহানি করেছেন। সাথে আমাদের ঈমাম পরিষদের অন্যতম উপদেষ্টা সামাদ খানের সুনাম নষ্ট করেছেন। তিনি আরও বলেন, বিকেল বেলা চাল এনে ৬৭ জন মুয়াজ্জিনের মধ্যে কিভাবে বিতরণ করা যায় তাই চালটা উপদেষ্টার বাড়িতে রাখা হয়েছিল। পরদিন সবাইকে ডেকে সই-স্বাক্ষর করে চাল বিতরণ করা হবে। সচিব সে অনুযায়ী আমাদের মাস্টারোলের কাগজ এবং কার্ড দিয়ে বলেছেন রোববার জমা দিতে। অথচ তিনি চাল উদ্ধার করে নিলেন। 

পৌরসভার সচিব মনিরুজ্জামান শিকদার ঘুষ দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তাদেরকে চাল দেওয়া হয়েছে বিতরণ করার জন্য। কোথাও রেখে দেওয়ার জন্য নয়। যখনই শুনেছি চাল একটি বাড়িতে রাখা হয়েছে তখনই প্রশাসনের সহায়তায় উদ্ধার করা হয়েছে।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিব্বির আহমেদ বলেন, সামাদ খানের বাড়িতে ভিজিএফ এর চাল আছে এমন সংবাদ জানতে পেরে অভিযান চালিয়ে জব্দ করা হয়েছে। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্মা এস এম রকিবুল হাসান বলেন, ভিজিএফ এর চাল পৌরসভা ছাড়া অন্য কোথাও থেকে দেওয়ার সুযোগ নেই। চাল কোথাও রাখাও যাবেনা। সামাদ খানের বাড়িতে চাল থাকার সংবাদ পেয়েই উদ্ধারের জন্য সহকারী কমিশনারকে নির্দেশ দেওয়া হয়। চাল পৌরসভায় জব্দ আছে। জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা অনুযায়ী তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button