sliderমহানগরশিরোনাম

দিল্লির সাম্প্রদায়িক চরিত্র হিন্দুস্তানের মুসলমানদের জীবনকে বিষিয়ে তুলছে : মোহাম্মদ শামসুদ্দীন

প্রেস বিজ্ঞপ্তি: নাগরিক পরিষদের উদ্যোগে আজ বৃহস্পতিবার ২১ মে ২০২৬ সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাব সম্মুখে “পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও কাশ্মীরের মুসলিমদের বিরুদ্ধে দিল্লীর নিপীড়ন বন্ধে বিশ্বব্যাপী মানবিক ঐক্যের দাবিতে সমাবেশ” অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে নাগরিক পরিষদের আহ্বায়ক মোহাম্মদ শামসুদ্দীন বলেন, পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, বিহার, ত্রিপুরা ও কাশ্মীরসহ হিন্দুস্তানের মুসলমানরা প্রতিনিয়ত এক ভয়াবহ অমানবিকতার শিকার হচ্ছে। দিল্লির সাম্প্রদায়িক চরিত্র হিন্দুস্তানের মুসলমানদের জীবনকে বিষিয়ে তুলছে। গরুর গোশত খাওয়ার অপরাধে মুসলমানদের হত্যা করছে, বিপরীত দিকে গরু জবাই করে কোটি কোটি ডলারের মাংস রপ্তানি করে তারা বিশ্বে ২য় শীর্ষ গোমাংস রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়েছে।

তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় এসে মুসলমানদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ঘরবাড়ি ধ্বংস করতে বুলডোজার হামলা চালাচ্ছে। শত শত বছরের পুরাতন মসজিদের নিচে মন্দিরের টুকরো খুঁজে বেড়াচ্ছে। মিথ্যা অজুহাতে দল বেঁধে আরএসএস ও বিজেপি নেতাকর্মীরা মসজিদ, মেরির মূর্তি, গির্জাসহ সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হামলা চালাচ্ছে।

ওয়ার্ল্ড মুসলিম উম্মাহর চেয়ারম্যান ডা. ফরিদ আহমেদ খান বলেন, ভারতের পরিচয় মুসলমানদের ঐতিহ্য ও স্থাপনার উপরে টিকে আছে। ৮০০ বছর মুসলমান শাসন করলেও কোনো হিন্দুর গায়ে আঁচড় লাগেনি।

উদুর্ভাষী মাইরিটি মুসলিম নেতা আফজাল ওয়ার্সি বলেন, গোমাতাকে মা বললে ষাঁড়কে কি ডাকবেন? দুধ দেয়া ছাগল ও উটকে বলে ডাকবেন? আমরা নির্যাতিত হয়ে মুসলমান পরিচয়ে পাকিস্তানে এসে না হলাম পাকিস্তানী, না হলাম ভারতীয়, না হলাম বাংলাদেশী। ভারতীয় হিন্দু উগ্রবাদীদের হাতে পূর্ব পুরুষ জীবন দিয়েছে, পাকিস্তানে এসে হত্যার শিকার হয়েছে আজও আমরা নিজেদের নাগরিক পরিচয় ও আবাসন পাইনি। এসবই হিন্দুস্তানী বর্বরতা ক্ষত।

নিরাপদ খাদ্য চাই—এর চেয়ারম্যান আব্দুর রহিম বাচ্চু বাংলাদেশে হিন্দুস্তানী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, আমরা নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে স্বাধীনতা—সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে জানি। আমরা বীরের জাতি। আমাদেরকে হিন্দুস্তান কখনো দখল করতে পারবেন না।

সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের আহ্বায়ক ইঞ্জি. থোয়াই চিং মং শাক বলেন, বাংলাদেশের ৯৫ ভাগ মুসলমানের দেশে আমরা হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সবাই শতভাগ নিরাপদ। পশ্চিমবঙ্গ ও দিল্লি থেকে বাংলাদেশের সম্প্রীতি বিনষ্টের উসকানি দেওয়া হচ্ছে। তারা সফল হবে না।

সাংবাদিক অলিদ বিন সিদ্দিক তালুকদার বলেন, আসামে উচ্ছেদ ও নাগরিক সংকট মোকাবেলায় এনআরসি বাতিল করতে হবে। মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপরে হামলা ও উগ্রবাদী সহিংসতার তদন্ত ও বিচার করতে হবে।

নাগরিক পরিষদের আহ্বায়ক মোহাম্মদ শামসুদ্দীন সমাপনী বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনগুলো ভারতে মুসলমান নিপীড়ন, হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনায় মুখে কুলুপ এঁটে রেখেছে। তারা মানবাধিকারের ব্যানারের পেছনে দিল্লির এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে। বাংলাদেশে থেকে, বাংলাদেশের খেয়ে মুসলমান ও বাংলাদেশ বিরোধী গোপন কর্মকান্ডে লিপ্ত। ভারতীয় মুসলমান হত্যা—নির্যাতনে নিরবতা তাই প্রমাণ করে।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন নবাব সলিমুল্লাহ একাডেমির চেয়ারম্যান আব্দুল জব্বার, কামরুল ইসলাম আলাউদ্দিন, ইঞ্জি. আনোয়ার হোসেন, সেলিম রেজা, মোর্শেদ আলম, আব্দুল কুদ্দুছ প্রমুখ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button