
রতন রায়হান, রংপুর :“নিজস্ব অর্থায়নে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, এককালীন অর্থ বরাদ্দ এবং সময়বদ্ধ রোডম্যাপ ঘোষণার” দাবিতে রংপুরে সংবাদ সম্মেলন করেছে তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদ।
মঙ্গলবার সকালে নগরীর সুইস কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বলেন, তিস্তা শুধু একটি নদী নয়, এটি উত্তরাঞ্চলের কৃষি, অর্থনীতি, পরিবেশ ও কোটি মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা, ভাঙন, খরা ও আকস্মিক বন্যার কারণে তিস্তা পাড়ের মানুষ চরম দুর্ভোগে রয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, তিস্তা অববাহিকায় প্রতিবছর নদীভাঙনে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি, সড়ক ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। কর্মসংস্থানের অভাবে তিস্তা পাড়ের মানুষ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শ্রমবাজারে ছুটে যেতে বাধ্য হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে নেতারা দাবি করেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হলে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার হবে, কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে উঠবে এবং উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতি নতুন গতি পাবে।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০১৫ সাল থেকে তারা তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে আসছে। এ সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নির্বাচনের আগে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি বলেও অভিযোগ করা হয়।
তারা আরও বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পানি সম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরুর ঘোষণা দিলেও এখনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে ৫ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- তিস্তা মহাপরিকল্পনার জন্য জাতীয় বাজেটে পৃথক বরাদ্দ, বিশেষজ্ঞ ও আন্দোলন প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে “তিস্তা ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ” গঠন, নদী রক্ষায় “তিস্তা বন্ড” চালু এবং নদী ও কৃষি সুরক্ষা পরিকল্পনা গ্রহণ।
এছাড়া আগামী ২১ থেকে ২৬ মে পর্যন্ত তিস্তা পাড়ে গণসংযোগ কর্মসূচি, ঈদ পরবর্তী বিশেষ মোনাজাত, ৫ জুন নাগরিক সমাবেশ এবং মাসব্যাপী গণসচেতনতামূলক কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি নজরুল ইসলাম হক্কানী ও সাধারণ সম্পাদক শফিয়ার রহমানসহ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


