
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি: মানিকগঞ্জে দেহ ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে মানিকগঞ্জ সদর থানা পুলিশ।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে পৌরসভার উত্তর সেওতা এলাকায় মার্কাজ মসজিদের পাশের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— টাঙ্গাইল জেলার ভূঞাপুর উপজেলার অর্জুনা ইউনিয়নের কুঠি বয়রা গ্রামের সিদ্দিক শেখের মেয়ে শিরীন বেগম (২৮), দিনাজপুর জেলার হাকিমপুর উপজেলার বাবুপাড়া (রেলওয়ে কলোনি) গ্রামের মৃত নজরুল মিয়ার মেয়ে সাথী বেগম (৩০) এবং মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার দিঘী ইউনিয়নের কাকজিনগর গ্রামের মৃত খলিলুর রহমান ভূঁইয়ার ছেলে সদর উদ্দিন ভূঁইয়া (৪৪)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাড়ির মালিক সদর উদ্দিন ভূঁইয়া সাথী বেগমকে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া দেন। ওই ফ্ল্যাটে কয়েক মাস ধরে সাথী বেগম ও শিরীন বেগম দেহ ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার দিন অর্থাৎ সোমবার দুপুরে আব্দুল হক নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে ওই ফ্ল্যাটে দেহ ব্যবসার লেনদেনকে কেন্দ্র করে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে বাড়ির মালিক সদর উদ্দিন সেখানে গিয়ে আব্দুল হককে মারধর করেন এবং তার মোবাইল ফোন জব্দ করে আটকে রাখেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়ার শর্তে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। আব্দুল হক ৮ হাজার টাকা দিলেও তাকে মুক্তি দেওয়া হয়নি।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে জিজ্ঞাসাবাদ করে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পায় এবং তিনজনকে গ্রেফতার করে।
মানিকগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইকরাম হোসেন জানান, এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। দেহ ব্যবসা বন্ধে পুলিশী অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৫ মার্চ উত্তর সেওতা গ্রামের একটি বাড়িতে মাদক ও দেহ ব্যবসায়ী চক্রের বেশ কয়েকজন নারী সদস্যকে আটক করে এলাকাবাসী। পরবর্তীতে পুলিশে খবর দেওয়া হলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে পুলিশ ঘটনাস্থলে যেতে দেরি করায় ওই চক্রের নারী সদস্যরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এলাকাবাসী জানায়, ওই বাড়ির মালিক মানিকগঞ্জ সমাজসেবা কার্যালয়ে জেলা কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছেন।



