
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি: মানিকগঞ্জ অঞ্চলের হারিয়ে যাওয়া লোকজ ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার এবং প্রকৃতির দান বিষমুক্ত অচাষকৃত উদ্ভিদের গুরুত্ব তুলে ধরতে আজ মানিকগঞ্জে ঐতিহ্যবাহি কৃষি প্রতিবেশীয অঞ্চল মধ্য পুটাইলের কালিগঙ্গা তীরে এএলসি সেন্টার(রহিমা) বেগম এর বাড়িতে অনুষ্ঠিত হলো দিনব্যাপী ‘অচাষকৃত উদ্ভিদ মেলা ও স্থানিক রান্না উৎসব’।
উদ্যমী নারী সংগঠন এর উদ্যোগে এবং গ্রিন কোয়ালিশন ও বারসিক এর সহযোগীতায় এই উৎসবে স্থানীয় কৃষক-কৃষানী পরিবেশবাদী, প্রবীণ ব্যক্তিত্ব এবং তরুণ প্রজন্মের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে।
উৎসবে প্রদর্শিত হয় মাঠের আইল, পুকুরপাড় ও ঝোপঝাড়ে অযত্নে বেড়ে ওঠা অর্ধশতাধিক প্রজাতির অচাষকৃত শাক ও ভেষজ উদ্ভিদ। এর মধ্যে বথুয়া, গিমা, হেলেঞ্চা, কাটানটে, কচু ও থানকুনির মতো উদ্ভিদগুলো বিষমুক্ত পুষ্টির উৎস হিসেবে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
অনুষ্ঠানের একটি বিশেষ আকর্ষণ ছিল‘স্থানিক রান্না উৎসব’, যেখানে স্থানীয় গৃহিণীরা এসব অচাষকৃত উদ্ভিদ এবং দেশি উপাদানে তৈরি করেন হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী সব পদ।
আয়োজক কমিটির পক্ষ থেক রহিমা বেগম, উদ্যমী নারী সংগঠনের সদস্য ইয়াসমিন, রওশান আরা,তানিয়া আক্তার, রিজিয়া বেগমরা বলেন, “আমরা প্রতিনিয়ত রাসায়নিক সারে উৎপাদিত খাবারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছি। অথচ আমাদের চারপাশেই ছড়িয়ে আছে প্রকৃতির দান, যা সম্পূর্ণ বিষমুক্ত এবং পুষ্টিকর। এই মেলা ও উৎসবের মাধ্যমে আমরা মূলত আমাদের শিকড় এবং লোকায়ত জ্ঞানকে নতুন প্রজন্মের কাছে পরিচয় করিয়ে দিতে চাই।”
দিনব্যাপী এই আয়োজনে ছিল উদ্ভিদ চেনা, বীজ বিনিময় নবীন প্রবীন সম্মিলন,মধুমালা বেগম স্মরণ ও গ্রিন কোয়ালিশন কমিটি গঠনসহ বৈচিত্র্যময় অনুষ্ঠানমালা।
২য় পর্বে উদ্যমী নারী সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সদ্য প্রয়াত মধুমালা বেগম স্মরণ ও স্মৃতিচারণ সভা হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে কথা বলেন কেল্লাই মনসুর উদ্দিন বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক মীর্জা ইস্কান্দার, বারসিক আঞ্চলিক সমন্বয়কারী বিমল চন্দ্র রায়, বারসিক কর্মকর্তা শিমুল কুমার বিশ্বাস, নজরুল ইসলাম, শিবানী চক্রবর্তী,সুবীর সরকার, গাজী শাহাদাত হোসেন বাদল প্রমুখ।
আলোচনা সভায় বক্তারা একজন মধুৃমালার জীবন সংগ্রাম ও নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তায় তাঁর অবদান তুলে ধরেন। তৃতীয় পর্বে গ্রিন কোয়ালিশন সভায় বক্তারা জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় উদ্ভিদ বৈচিত্র্য রক্ষার গ্রিন কোয়ালিশন কমিটির কাজের গুরুত্বের কথা বলেন।
আলোচনা শেষে সাংবাদিক আবুল আব্বাসীকে আহবায়ক ও রৌশনারা বেগমকে সদস্য সচিব এবং সাংবাদিক নুরুল ইসলামকে যুগ্ম আহবায়ক করে ৯ সদস্য বিশিষ্ট পুটাইল ইউনিয়ন কমিটি গঠন করা হয়।
তারপর এলাকার প্রবীণ কৃষকদের তাদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার জন্য তাদেরকে বিশেষ সম্মাননা পুরস্কার প্রদান করা হয়।
বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এই ধরনের আয়োজন কেবল মানিকগঞ্জে নয়, বরং সারাদেশে ছড়িয়ে পড়বে এবং মানুষ আবার প্রকৃতির সান্নিধ্যে ফিরে আসবে।




