দুর্দান্ত জয়ে সিরিজে ফিরলো বাংলাদেশ

প্রথম ম্যাচে বাজেভাবে হারের পরও দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ালো বাংলাদেশ। রোববার মিরপুরে মাশরাফিরা ইংল্যান্ডকে হারালেন ৩৪ রানের ব্যবধানে। এ জয়ের ফলে দেশের মাটিতে টানা সপ্তম সিরিজ জয়ের স্বপ্নটা টিকে থাকলো বাংলাদেশের।
বাংলাদেশের জয়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন কেবল ইংলিশ অধিনায়ক জস বাটলার। ৫৭ রানে ব্যাটিং করছিলেন তিনি। তখনও অবশ্য বেশ কিছু রান বাকি ইংলিশদের। ২৮তম ওভারে তাসকিনের হাতে বল তুলে দেন মাশরাফি। প্রথম বলটাই গিয়ে লাগে বাটলারের প্যাডে। এলবিডব্লিউর জোরালো আবেদন করেন তাসিকন। নাকচ করে দেন আম্পায়ার। পরে রিভিউয়ে আউট হন বাটলার। মাঠেই বুনো উল্লাসে মেতে ওঠে বাংলাদেশ। কারণ জয়ের পথে সবচেয়ে কঠিন বাধাটা যে উপড়ে গেছে!
বাংলাদেশের উল্লাস দেখে শান্ত থাকতে পারেননি বাটলার। কিছু একটা বলে উঠেন তিনি। মাহমুদুল্লাহ রিয়াদও তেড়ে যান তার দিকে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে আম্পায়ারকে এগিয়ে এসে নিয়ন্ত্রণ করতে হয় তাদের। এতেও দমেননি বাটলার। ড্রেসিংরুমের দিকে যেতে যেতেও তিনি বলছিলেন ‘কিছু একটা’।
বাটলারকে বিদায় করে একদফা উল্লাস করা বাংলাদেশ উল্লাস করলো ম্যাচ শেষেও। যে উল্লাস ম্যাচ জেতার তো অবশ্যই, সঙ্গে সিরিজে ফেরারও। ১২ তারিখের ম্যাচটি এখন হয়ে দাঁড়ালো অঘোষিত ফাইনাল। চট্টগ্রামের ম্যাচটি জিতলেই দেশের মাটিতে টানা সপ্তম সিরিজ জেতা হবে বাংলাদেশের। সেটা হয়ে গেলে, প্রথমবার ইংলিশদের সিরিজ হারানোর স্বাদও পাওয়া যাবে।
মিরপুরে রোববার অবশ্য প্রথম ইনিংস শেষে বলার সুযোগ ছিলো না যে বাংলাদেশই জিতবে। ২৩৮ রানের পুঁজি লড়ার জন্য যথেষ্ট হলেও, এই পুঁজির উপর ভরসা করে তো আর বসে থাকা যায় না। তবে বাংলাদেশকে একটু ‘বসে থাকার’ সুযোগ তৈরি করে দেন মাশরাফি।
ইংলিশদের রান ২৬ হতে না হতেই টপ অর্ডারের তিন বড় বাধা উপড়ে ফেলেন তিনি। বাংলাদেশ জয়ের সুবাস পেতে শুরু করে তখন থেকেই। এরপর ম্যাচের সময় যতো গড়িয়েছে, ইংলিশদের উপর ততোই কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছেন মাশরাফিরা।
শেষমেষ ২০৪ রানে গুটিয়ে যায় ইংলিশদের ইনিংস। প্রথম ম্যাচে ২১ রানে হারের পর দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ জিতলো ৩৪ রানের ব্যাবধানে। ব্যাট হাতে রিয়াদের ৭৫ রানই গড়ে দিয়েছিলো জয়ের ভীত। মাশরাফির ২৯ বলে ৪৪ রান এবং বল হাতে ২৯ রানে চার উইকেটও রেখেছে গুরুত্বপূর্ণ অবদান। এ ছাড়া দলে ফেরা নাসিরের ২৭ রানেরও আছে দারুণ ভূমিকা।
২৩৮ রানের জবাব দিতে নেমে ইংলিশদের হয়ে সর্বোচ্চ ৫৭ রান করেছেন জস বাটলার। এ ছাড়া বেয়ারস্টো করেছেন ৩৫ রান। বাংলাদেশের হয়ে মাশরাফি নিয়েছেন চার উইকেট, তাসকিন নিয়েছেন তিনটি উইকেট। ঢাকা থেকে সিরিজে সমতা ফিরিয়ে এখন জয়ের উদ্দেশ্যেই চট্টগ্রাম যাবেন মাশরাফিরা।




