sliderজাতীয়শিরোনাম

শিশুদের বাঁচানো সেই শিক্ষক পাচ্ছেন স্বাধীনতা পুরস্কার

পতাকা ডেস্ক: শিক্ষার্থীদের বাঁচাতে গিয়ে নিজের প্রাণ বিসর্জন দেওয়া মাহেরীন চৌধুরী পাচ্ছেন এ বছরের স্বাধীনতা পুরস্কার। শিশুদের প্রতি মমতা ও দায়িত্ববোধের অসাধারণ উদাহরণ সৃষ্টি করে গেছেন রাজধানীর মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের এই শিক্ষক।
গত বছর ২১ জুলাই বিমানবাহিনীর একটি বিমান এই স্কুলে বিধ্বস্ত হয়। মাহেরীন অক্ষত ও সুস্থ ছিলেন। বিপদ দেখে জীবন বাজি রেখে তিনি ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন সন্তানতুল্য ছাত্রছাত্রীদের বাঁচাতে। তাঁর চেষ্টায় সেদিন অন্তত ২০ শিশু মায়ের কোলে ফিরে আসতে পেরেছিল। শেষ পর্যন্ত প্রাণ হারান তিনি।

জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় ২১ জুলাই রাতেই মারা যান মাহেরীন চৌধুরী। তাঁর শরীরের ১০০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল বলে জানিয়েছিলেন চিকিৎসকরা। সেদিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি স্বামী মনসুর হেলালের সঙ্গে শেষবারের মতো কথা বলেন। তখন মনসুর হেলাল জানতে চেয়েছিলেন, সুযোগ থাকার পরও কেন তিনি বের হয়ে এলেন না? অন্তত নিজের দুই সন্তানের কথা ভেবেও তো আসতে পারতেন। জবাবে মাহেরীন বলেছিলেন, ‘ওরাও (শিক্ষার্থীরা) তো আমার সন্তান। ওদের একা রেখে আমি কী করে চলে আসি? আমি আমার সবকিছু দিয়ে চেষ্টা করেছি ওদের বাঁচাতে।’ সেদিন রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। পরে তাঁকে নীলফামারীর জলঢাকায় পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। তাঁর আত্মত্যাগ ও সাহসিতার প্রশংসা করেন সারাদেশের মানুষ।

মাহেরীনকে সরকারের পক্ষ থেকে পুরস্কৃত করার খবর শুনে আপ্লুত হয়েছেন মনসুর হেলাল। তিনি বলেন, ‘আমার স্ত্রীর স্মৃতি রক্ষায় সরকারের পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানাই। সরকার তাঁকে মরণোত্তর পদক দিয়ে যে সম্মান দিচ্ছে তার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। এই স্বীকৃতিতে তাঁর আত্মত্যাগের বিষয় দেশের মানুষের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার স্ত্রী নিজের জীবন উৎসর্গ করে কোমলমতি শিশুদের জীবন বাঁচিয়েছিলেন। এটি যেমন আমাদের পরিবারের জন্য অনেক গর্বের বিষয়, তেমনি তাঁকে হারানোর বেদনাও আমাদের জন্য অসীম। তাঁর আদর্শ আমাকে ও আমাদের দুই ছেলেকে সাহস ও শক্তি জোগায়।’

মেহেরীন চৌধুরীর বাবা নীলফামারীর জলঢাকার মহিতুর রহমান চৌধুরী (প্রয়াত)। তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খালাতো ভাই। মাহেরীনের জন্ম ও বেড়ে ওঠা ঢাকায়। তবে জলঢাকায় তিনি বারবার গেছেন। গ্রামের মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়িয়েছেন।
সরকার এ বছরের স্বাধীনতা পুরস্কারের জন্য ১৫ ব্যক্তি ও পাঁচ প্রতিষ্ঠানকে মনোনীত করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button