
রাসেল আহমেদ, সাটুরিয়া প্রতিনিধি : মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার দিঘলীয়া ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের তিন রাস্তার মোড় হইতে প্রাইমারি স্কুল পর্যন্ত কাঁচা রাস্তা দিয়ে এখন হেঁটে চলাফেরাও কষ্টকর হয়ে পড়েছে। রাস্তাটির জন্য প্রতিনিয়তই দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে স্থানীয় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, রোগীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছে এক বছর পূর্বে রাস্তাটির জন্য টেন্ডার হলেও অদৃশ্য ছায়ার কারণে রাস্তার কাজ থেমে আছে।
গতকাল সকালে সরোজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে প্রায় ১ কিলোমিটার গ্রামীণ এই কাঁচা রাস্তাটি খানাখন্দ, গর্ত ও কর্দমাক্ত হয়ে আছে। দেখলে মনে হবে এটি রাস্তা নয়, ধানের চারা রোপণের জন্য হালচাষ করা হয়েছে। রাস্তাটি এমনই বেহাল যে চাইলে এখন এ রাস্তা দিয়ে কোনো গাড়ি চলাচলের অবস্থা নেই।
স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ সুমন, জানান সরকারি বাজেটে এই রাস্তাটি করেছিলেন। তবে দীর্ঘ ১৫ বছরেও এ রাস্তায় কোনো উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। মাঝে মধ্যে রাস্তায় মাটি ও ইটের আদলা ফেলে জনসাধারনের চলাচলের উপযোগী করা হত। বর্তমানে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স আলীফ ব্রাদার্স রাস্তার পুরাতন ইট তোলে নেয়ার কারনে খানা খদ্দে ভরা। বৃষ্টিপাতের কারনে রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি পানিতে বর্তমানে সড়কটি মানুষ চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। গত ২০-০৮-২০২৪ সালে ৭৫০ মিটার রাস্তার জন্য ৮৬ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু দুঃখের বিষয ১৫-০৭-২০২৫ সালে কাজের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এখন পর্যন্ত বিশ পার্সেন্ট কাজ সমাপ্ত করতে পারেনি।
এলাকার কোমলমতি শিক্ষার্থীরা এ পথ দিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে নানা দুর্ঘটনায় সম্মুখিন হচ্ছে। এ রাস্তা দিয়ে বিশেষ করে অন্তঃসত্ত্বা নারী, অসুস্থ ও বয়স্ক লোকজনের যাতায়াত অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কখনো কখনো মানুষ অসুস্থ হলে এ পথ দিয়ে যেতে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। এমনকি চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, পথচারীরা এ পথ দিয়ে চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
এ ভাবেই বলছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য মোঃ রাজ্জাক তিনি আরও বলেন দীর্ঘদিন যাবত এ রাস্তাটির বেহাল অবস্থা হয়ে পড়ে আছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ও এলজিইডি কর্মকর্তা এ রাস্তাটির কোন খোঁজ খবর নিচ্ছে না এবং কি একটু বৃষ্টি হলেই আমাদের অনেক কষ্ট হয় এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করা,তার দাবি দ্রুত রাস্তাটির কাজ সম্পূর্ণ করে আমাদেরকে কষ্ট থেকে মুক্তি দেয়া হক।
স্থানীয় ইউপি সদস্য বলেন, এই রাস্তা দিয়ে কাদামাটি মাড়িয়ে চলাচল করা আমাদের জন্য কষ্টের। প্রায় ১ কিলোমিটারের রাস্তা দিয়ে পায়ে হেটেও চলাচল করা যায়না। ছেলে-মেয়েদের স্কুল-কলেজে যেতে কষ্ট হয়। রোগীকে হাসপাতালে নিতে হলে কোলে করে নিতে হয় কিন্তু সেটাও অনেক ঝুঁকির। রাস্তাটি কার দ্রুত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
এ বিষয়ে সাটুরিয়া উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তা ইমরুল হাসান জানান রাস্তার কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য একাধিক বার তাগাদা দেওয়া হয়েছে। ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দ্রুত কাজ সম্পন্ন করবে। কাজটি দ্রুত সম্পন্ন না করলে আমরা ব্যবস্থা নেব।




