sliderস্থানিয়

দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম কানসাট আম বাজারে মণ প্রতি ঢলন ১৩/১৫ কেজি, চাষীরা হতাশ

শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ্) সংবাদদাতা: সারা বছর বুক ভরা আশা নিয়ে আম চাষ করে মৗসুমে আমবিক্রী করতে এসে ঢলনের ভারে হতাশায় নিমজ্জিত হাজারো আম চাষী। প্রতি বছরের ন্যায় এবার দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম কানসাট আম বাজারে আম চাষীরা বাধ্য হয়ে মণ প্রতি ৫৫/৫৬ কেজি আম ওজন দিচ্ছে। ফলে আমের বাজার চাঙ্গা হলেও চাষীরা লাভবান হতে পারছে না। আম চাষীরা বলছেন আমের ফলন ভাল হয়েও লাভ হচ্ছে না। কারণ একদিকে দিন দিন আমের উদপাদন খরচ বাড়ছে, বাড়ছে পরিবহন খরছে। সংগে সংগে পাল্লা দিয়ে কথিত আম চাষী ও আড়তদারদের সিন্ডিকেটের কারনে আমের ঢলনও দিন দিন বেশী হচ্ছে।
তারা বলছেন মাত্র এক যুগ আগেও আমের ঢলন ছিল মণ প্রতি ২/৩ কেজি। আর এখন দিতে হচ্ছে ১৫/১৬ কেজি। যা আগামী সপ্তাহে হয়তো ১৮ ঢলন ধরে ৫৮ কেজিতে একমণ হিসাবে ওজন দিতে হতে পারে। কারণ আড়তদার ও ফড়িয়া ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট দিন দিন শক্তিশালী হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় বিভাগীয় প্রশাসন আমচাষী,আড়তদার ও আম ব্যবসায়ীদের নিয়ে সভার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত মোতাবেক রাজশাহী বিভাগের কোন আম বাজারে মণ প্রতি ৪০ কেজির বেশী নিতে পারবে না। কিন্তু এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হচ্ছে না। এ রকমই একজন ভুক্তভোগী শাহাবাজপুর ইউনিয়নের কয়লা বাড়ি থেকে আসা আম বিক্রেতা মোস্তাফা জানান, অল্প শোকে কাতর, অধিক শোকে পাথরের ন্যায় কানসাট আম বাজারে মণ প্রতি ৫৪/৫৬ কেজি আম দিতে বাধ্য হচ্ছি। কারণ যে সিন্ডিকেট কাজ করছে তাতে সবধরনের প্রশাসন এসেও এ প্রথা বাতিল করতে পারবে না। আমাদের লাভের মাথা এখানেও খাওয়া পড়ছে। তানোর থেকে আগত আম বিক্রেতা বলেন কানসাট বাজারেরর ওজনের ক্ষেত্রে যা চলছে তাতে মনে আম চাষীরা কলুর বলদে পরিণত হয়েছে। ৪০ কেজির স্থলে ৫২-৫৬ কেজি যা পৃথিবীর কোথাও নেই। একই কথা কানসাট আম বাজারে আম বিক্রী করতে আসা শত শত আম চাষীদের। তবে আড়তদারদের ভাষা ভিন্ন। তারা বলছেন আমরা কোন আম চাষীদের বাধ্য করছি না। নিজে থেকেই ৫২-৫৬ কেজিতে মণ ধরে তাদের আম বিক্রী করছে। এটা আজ নতুন নয়। তাছাড়া আমফল একটি পচনশীল ফল। এর প্রসেসিং করতে করতেই মণ প্রতি ২/৩কেজি আম নষ্ট হয়ে যায়। চলতি মৌসুমে কানসাট বাজার থেকে চারিদিকে ১৬ কিলোমিটার জুড়ে দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম কানসাট আম বাজারে অধিক লাভের আশায় দিনাজপুর, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, নওগাঁর সাপাহারসহ বিভিন্ন এলাকার আমও এখানে আসে। কিন্তু উৎপাদন পর্যায়ে বাড়তি খরচের সঙ্গে এখন ঢলন ও খাজনার বোঝা চেপে বসেছে চাষির ওপর। কানসাটের আমচাষি মশাল চাঁন বলেন, এ বছর আমের ফলন ভালো হয়েছে । পাঁচ বছর ধরে ঢলন প্রথাসহ বিভিন্ন সমস্যার কারণে আমরা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি। এই লোকসান আমরা নিতে পারছি না। ’কানসাটের আম বিক্রেতা রবিউল ইসলাম জানান, যতবার আন্দোলন হচ্ছে ততবার চাষিরা জিম্মি হচ্ছে। ১০ বছর আগে ৪২/৪৩ কেজিতে আম কেনা-বেচা হলেও গত কয়েক বছর থেকে আমের ভরা মৌসুমে আন্দোলনের তালে তালে বর্তমানে ৫৫/৫৬ কেজিতে মণ গিয়ে ঠেকেছে। আমের আড়তদার মেহেরুল ইসলাম জানান, ওজন জটিলতা নিয়ে প্রায় ১০ বছর ধরে প্রতিবারই ভরা মৌসুমে একটি গোষ্ঠী আন্দোলনের ফলে চার দফা উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে ৪০ কেজিতে মণ ধরে বা কেজি দরে আম কেনাবেচার কথা বলা হলেও কোনো ক্ষেত্রে চাষি আবার কোনো ক্ষেত্রে আড়তদারদের অনীহার কারণে তা আলোর মুখ দেখেনি। এতে চাষি, ব্যবসায়ীসহ আম-সংশ্লিষ্টরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন।
কানসাট আম আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক টিপু জানান,আমের ভরা মৌসুমে একটি গোষ্ঠী আম কাঁচামাল হওয়ার পরও অযৌক্তিক ৪০ কেজিতে মণ ধরে আম কেনা বেচার আন্দোলনের গ্যাঁড়াকলে ফেলে আম বাজারের পরিবেশ অস্থিতিশীল করছে। তাঁর দাবি চাষিদের সমঝোতার ভিত্তিতেই ঢলন প্রথার মাধ্যমে আম কেনা হচ্ছে।
জেলার শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাজহারুল ইসলাম জানান, বিভাগীয় কমিশনারের নির্দেশনা মোতাবেক ৪০ কেজিতে মণ ধরে আম কেনাবেচার কথা আমরা আম চাষী, ব্যবসায়ী ও আড়তদারকে জানিয়েছি এবং বাজার পরিদর্র্শন করেছি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button